বুধবার-১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং-২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৪৪
পার্বতীপুরে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ৪ দফা দাবীতে সংবাদ সম্মেলন আগামীকাল থেকে রোগী দেখবেন, ইনশাআল্লাহ . চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোবরাতলায় মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ “বুলবুল তান্ডবে আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও কুয়াকাটায় রাস উৎসবে পূণ্যার্থীদের ভীড়” প্রধান শিক্ষকের বেতন ১১তম গ্রেডে, সহকারী শিক্ষকের ১৩তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইদ্রিস আহমদ মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট চত্বরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা অনুমোদন

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৮:৪৯ অপরাহ্ণ , বিভাগ : শিক্ষা,

এমএন২৪.কম ডেস্ক: ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের একবেলা খাবার খাওয়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে একবেলা খাবার দেয়া হবে। আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিমালার খসড়া অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া হ্রাস করতে সারা বছর পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার দিতে এ নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ নীতিমালা অনুসারে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে পাঁচদিন গরম খাবার ও একদিন পুষ্টিকর বিস্কুট দেয়া হবে।

তিনি জানান, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় সেজন্য এই নীতিমালা। স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যক্রমের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাইডলাইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে নিশ্চিত করা হবে। যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ, জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। ন্যূনতম খাদ্য তালিকার বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, চর, হাওর এলাকায় প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী উপপরিচালক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সম্পৃক্ত থাকবেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের অংশ হিসাবে কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত থাকবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিরা থাকবেন। এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রতিদিন স্কুল মিলের খাদ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও খাবারের স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে পুষ্টিচাল, ডাল, পুষ্টি তেল এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মৌসুমি তাজা সবজি এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ডিম দিয়ে করা হবে; যাতে শিশুদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার শক্তি চাহিদার ৩০ শতাংশ ক্যালরি এবং অপরিহার্য অনুপুষ্টিকণা, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং চর্বির চাহিদা স্কুল মিল থেকে আসে।

জানা গেছে, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে। ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমানে ১০৪টি স্কুলে ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রান্না করে খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়ে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় ঝরে পড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেয়া এলাকায় রক্তস্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

নীতিমালার আলোকে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়ে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সারাদেশে কাভার করা হবে। সরকারের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া এটা সফল করা যাবে না। কারণ স্কুলগুলোতে রান্নাঘর করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ