বুধবার-১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:০৫
শিবগঞ্জে গৃহ নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ উপ-পরিষদের নব-নির্বাচিতদের অভিষেক অনুষ্ঠিত বিএনপি’র রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে শিবগঞ্জ বিএনপি’র প্রস্তুতি সভা ছাতকে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ সম্পাদকমন্ডলীর সভা আগামীকাল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভারত গেল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ৩৭টি পদক লাভ একনেকে অনুমোদন পেল আট প্রকল্প

ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ , ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

এমএন২৪.কম ডেস্ক:  ঈদযাত্রায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীতে যাতায়াতকারী ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রংপুর-ঢাকা রুটের রংপুর এক্সপ্রেসসহ লালমনিরহাট-ঢাকা, নীলফামারী-ঢাকা, দিনাজপুর-ঢাকা, রাজশাহী-ঢাকা রুটে মোট ২৬টি আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের কোনোটিই শিডিউল অনুযায়ী চলছে না। রংপুর থেকে রংপুর এক্সপ্রেস, দিনাজপুর থেকে একতা ও দ্রুতযান, নীলফামারী থেকে নীলসাগর এবং লালমনিরহাট থেকে লালমনি এক্সপ্রেস ঈদের পর ১০ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে চলাচল করছে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের পর অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামা করায় প্রতিটি স্টেশনে কমপক্ষে ১০ মিনিট দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান আক্কেলপুর রেলস্টেশন, হলহলিয়া ব্রিজ, রানীনগর ওভারব্রিজ, উল্লাপাড়া ঘাটিনা ব্রিজ, আহসানগঞ্জের আত্রাই ব্রিজ ও চাটমোহরের বড়াল ব্রিজসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রেন চলছে ধীরগতিতে।

লালমনিরহাট রেলওয়ের ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। তাই ট্রেনগুলো অন্য সময়ের চেয়ে ধীরে চালাতে হয়। রংপুর রেল সুপার শোভন রায় বলেন, ঈদের কারণে যাত্রী বেশি হওয়ায় প্রতিটি স্টেশনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করে ট্রেন চলাচল করছে। ফলে ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কোচগুলো দিয়ে ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা পথে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তখনো লাল-সবুজের নতুন ট্রেনে ওঠার স্বপ্ন অধরা থেকেছে উত্তরের যাত্রীদের। এতে বঞ্চিত হয় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশন তথা রংপুর বিভাগের রেলযাত্রীরা। বাড়িতে ঈদ করতে আসা নিম্ন আয়ের অনেক মানুষকে বাস-ট্রাকের ছাদে উঠে নানা বিপদের মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো বেশি ভাড়া কিংবা পরিবহনের অভাবে বাড়িতেই আসা হয় না, কর্মস্থল এলাকাতেই ঈদ করতে হয় তাদের।

রেলের একটি বিশেষ সূত্র জানায়, রংপুর এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস ও নীলসাগরসহ ৪২টি আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করছে উত্তরাঞ্চলে। এসব ট্রেনে দিনে ১৬ থেকে ১৭ হাজার যাত্রী রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবু এই অঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশনে ঈদে বিশেষ ট্রেনের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন বিভাগীয় নগরী রংপুরের ভাগে একটিও পড়েনি। এ ছাড়া একমাত্র আন্ত নগর রংপুর এক্সপ্রেসে বাড়তি কোনো বগিও লাগানো হয়নি। এতে এই অঞ্চলের মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা বলছে, বিশেষ ট্রেনের বরাদ্দের বেলায়ও রংপুরের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অথচ ঢাকা থেকে ঈদ করতে ঘরে ফেরে বেশি উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ডিভিশন অনেক সমৃদ্ধ হলেও লালমনিরহাট ডিভিশনের অবস্থা তিমিরেই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ২৭০টি কোচ সংযুক্ত হয়েছে। অথচ লালমনিরহাট ডিভিশনে নতুন একটি কোচও সংযুক্ত হয়নি। প্রায় ১০০ বছর ধরে লালমনিরহাট ডিভিশন চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতকৃত কোচ দিয়ে। কালেরকন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ