সোমবার-৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:৪৪, English Version
বিজয়ীদের হাতে চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী পলাশবাড়ীতে হানাদার মুক্ত দিবসে রণাঙ্গণে সম্মুখে যুদ্ধের স্মৃতিচারণে বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব)তারেক বীর বিক্রম পি এস সি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ২০০ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার-২ বীরগঞ্জ উপজেলায় অভিযানে ১২৬০ পিচ ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক॥ গাইবান্ধায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক লালপুরে লোকালয়ে হঠাৎ দলছুট ‘হুনুমান’ হিলিতে ইয়াবাসহ আটক-২

পাল্টে গেছে জাতীয় পার্টির পরিস্থিতি, নেপথ্যে সেই চিঠি

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯ , ৪:০০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : রাজনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টিতে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ চাঙ্গা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিলই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কে হবেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতাই বা কে হবেন এ নিয়েই মূলত বিরোধ বাধতে পারে বলে জীবিত অবস্থায় আশঙ্কা ছিল এরশাদেরও। রাজনৈতিক মহলেও বলাবলি ছিল জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের ঐক্য না হলে অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে জাতীয় পার্টি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলীয় বিরোধ নিয়ে শঙ্কা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের দক্ষতার সঙ্গেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উঠছিলেন। রওশন এরশাদকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জি এম কাদের সমঝোতাও করেছেন। সিদ্ধান্ত হয় দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জি এম কাদের নিজে। কালের কণ্ঠ

কিন্তু গত সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানে না বলে ঘোষণা দেয় জাপার একাংশ। রওশন এরশাদ ছাড়াও দলের আটজন নেতা ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। এর পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। যদিও জি এম কাদের বলছেন ওই চিঠি তিনি পাননি। আর এসব সমস্যা দলীয় ফোরামে বসেই তিনি সমাধান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত ৪ মে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক চিঠিতে জি এম কাদেরকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করার পাশাপাশি তাঁকে এরশাদের অনুপস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যু হয়। ১৮ জুলাই জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। এ সময় রাঙ্গা উল্লেখ করেন, তাঁদের আদর্শিক নেতা জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের চিঠি মোতাবেকই জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এ ঘোষণা দেওয়ার পর রওশন এরশাদ বা দলে রওশনপন্থী বলে পরিচিতরা কেউ প্রকাশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ২০ জুলাই জি এম কাদের রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় যান। দুজন দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘রওশন এরশাদ আমার মাতৃতুল্য, তিনি আমাকে আশীর্বাদ করে দিয়েছেন। রওশন এরশাদ সম্মানের জায়গায়ই থাকবেন।’ ওই দিন রাতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় জানান, এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হয়ে যাওয়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার স্থানটি নেবেন রওশন এরশাদ। এ বিষয়ে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এরপর গত ২২ জুলাই গভীর রাতে রওশন এরশাদ তাঁর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রেরণ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভার অনুমোদ না নেওয়া পর্যন্ত জি এম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান নন। বিবৃতিতে আটজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারো স্বাক্ষর নেই।

জাতীয় পার্টিতে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত সংসদ সদস্য ফকরুল ইমাম ওই বিবৃতির দায় স্বীকার করে  বলেন, ‘এটা রওশন এরশাদের বিবৃতি। প্রেসিডিয়াম সভার অনুমোদন বাদে জি এম কাদের চেয়ারম্যান হওয়াটা অগঠনতান্ত্রিক।’ তিনি আরো বলেন, এ চিঠি শিগগিরই জি এম কাদেরের কাছে পৌঁছে যাবে। তবে এ বিষয়ে রওশন এরশাদ মুখ খোলেননি। তিনি গণমাধ্যমকেও কিছু বলেননি। রওশনপন্থী বলে পরিচিত আরেক নেতা সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘এরশাদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। তবে সবাই মিলে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দিতে পারলে ভালো হতো।’

জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়  বলেন, জাতীয় পার্টিতে কিছু লোক অপতৎপরতায় লিপ্ত, দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী যে সময় জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ সে সময় ওই গ্রুপটি রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে পার্টিকে সংকটে ফেলার চেষ্টা করছে। জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের বিরোধী নেতাদের তৎপরতা এরশাদ জীবিত থাকার সময় থেকেই ছিল। দলের অভ্যন্তরে জি এম কাদেরের বিরোধী অংশটি সেই পুরনো বিরোধ উসকে দিয়ে লাভবান হতে চায়। তারা এখন ভর করেছে রওশন এরশাদের ওপর। তবে জাপার প্রভাবশালী নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ মনে করেন, পরনির্ভরশীল লোকেরা কখনো লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জি এম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান করে গেছেন। এ ছাড়া এরশাদের অনুপস্থিতি রওশন এরশাদই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হবেন। এ নিয়ে দলীয় বিরোধ বাধানোর কী আছে?’

রওশনের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি হিসেবে আখ্যায়িত করে জি এম কাদের বলেন, ‘এমন কোনো চিঠি তো আমাকে দেওয়া হয়নি। কেউ ফোন করেও বলেনি।’ জি এম কাদের বলেন, ‘রওশন এরশাদ আমার মাতৃতুল্য, তিনি পার্টিতে যথাযথ মূল্যায়ন নিয়েই থাকবেন। জাতীয় পার্টিতে কোনো বিরোধ আছে বলেও মনে করেন না জি এম কাদের।

আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ