বৃহস্পতিবার-১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৪৩
অধিগ্রহণকৃত ২৯১ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আত্মীকরণের আদেশ দ্রুত জারি করা হবে রিফাত হত্যা : পলাতক ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাদারীপুরে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ প্রকাশ্যে আসছে আইয়ুব বাচ্চুর ‘রুপালি গিটার’ ফিলিপাইনে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২০ দলের কেউ অন্যায় বা দুর্নীতি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: কাদের মাহমুদল্লার ব্যাটে লড়াকু সংগ্রহ বাংলাদেশের

প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন কে? কেন তিনি জার্মানি পালিয়েছেন ?

প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : আন্তর্জাতিক,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন। তিনি প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা নিয়ে দুবাই থেকে পালিয়ে ইউরোপের দেশ জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, তার নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই দুবাই থেকে পালিয়েছেন। আর এই ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জার্মানির মধ্যে শুরু হয়েছ কূটনীতিক সংকট।

প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন কেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে পালিয়েছেন তা জানার আগে জেনে নেওয়া দরকার তিনি আসলে কে ?

হাইয়া হলেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী। তার এই সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী হাইয়া জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহ দ্বিতীয়র ছোট বোন। তিনি ইংল্যান্ডের ব্রায়ানস্টন স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে জর্ডানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। পরে ২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মদকে বিয়ে করেন।

হাইয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শৈশব থেকেই তার জীবনের একটি অংশ খেলাধুলা দখল করে রাখে। তিনি খেলাধুলা অনেক পছন্দ করতেন। নিজের জীবনে খেলাধুলার প্রতিপত্তি অনুধাবন করার পর অন্যদেরও সেই প্রতিপত্তি অনুধাবন করতে সুযোগ করে দেন। বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের জন্য তিনি বেশি কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাদের দেওয়ার জন্য অবিরাম কাজ করে যান। তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্যও ছিলেন।

হাইয়া বিশ্বাস করতেন, খেলাধুলা জীবনকে উন্নত করে, নারী ক্ষমতায়ন ভূমিকা রাখে এবং সাধারাণ জনগণ ও জাতিগুলোর মধ্যে বাধা দূর করতে সহায়তা করে।

তিন বছর আগে আমিরাত ইউম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, তিনি সবসময়ে একজন সাংবাদিক হতে চেয়েছিলেন। সংবাদপত্র ও পত্রিকা সম্পর্কে তিনি অনেক উত্সাহী ছিলেন।

যে কারণে পালিয়েছেন প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন:

এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না কেন প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন তার স্বামীকে ছেড়ে জার্মানিতে পালিয়েছেন। তবে বলা হচ্ছে, তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই পালিয়েছেন। তবে এটা বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি ৩৩৩ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন নতুন জীবন শুরু করা জন্য। বর্তমানে তিনি স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক খবরে বলা হচ্ছে, তিনি জার্মানিতে বসবাস করার অনুমোতি চেয়েছেন। তার সাথে দুই সন্তানকেও রাখার জন্য অনুমোতি চেয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বসবাস করার অনুমোতি পেয়েছেন। তবে তিনি লন্ডনে বসবাস করার অনুমোতি চাইবেন।

যাইহোক, এই ঘটনার রহস্য এখনো জানা সম্ভব হয়নি। কারণ গত মাস থেকে শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমে এবং প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইনকে এক সঙ্গে দেখা যায়নি। জুন মাসে অ্যাসকোটে তার স্বামীর সঙ্গে ছিলেন না হাইয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল সরকার ও জার্মানি কর্তৃপক্ষ তার পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো ধরেনর তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে।

প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন তার বন্ধুদের জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে পালাতে চেয়েছিলেন কিন্তু যুক্তরাজ্যেকে বিশ্বাস করতে পারেননি। কারণ যুক্তরাজ্যে তাকে আবার দুবাইয়ে ফেরত পাঠাতে পারে। তাই তিনি জার্মানিতে পালিয়ে যান।

তবে দুবাইয়ের শাসক পরিবারের একটি ঘটনায় বোঝা যায় কেন তিনি পালিয়েছেন। শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা শেখ লাটিফা বিন মোহাম্মদ আল মাখতুমকে দুবাইয়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায় এর আগে। পরে গোয়া থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার পালানোর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দুবাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া।

শেখ লাটিফা বিন মোহাম্মদ আল মাখতুম অভিযোগ করেন, তার পরিবার তাকে আটকে রাখে। সেখানে আটকে রেখে তার ওপর চালায় নির্মম নির্যাতন। আর তার বাবার নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি পালানো চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পরিবারে লোকজন জানায়, লাটিফা দুবাইয়ে নিরাপদ রয়েছে।

লাটিফাকে মুক্ত করার জন্য একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। আর সেই ক্যাম্পেইন পরিচালকদের একজনের নাম টিনা জাউইয়েন। তিনি জানান, লাটিফাকে মুক্ত করার জন্য প্রিন্সেস হাইয়ার সহযোগিতা করা সুযোগ রয়েছে। আমরা তাকে অনুরোধ করব যাতে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে লাটিফাকে মুক্ত করতে সহায়তা করেন।

টিনা জাউইয়েন বলেন, তিনি হতে পারেন প্রিন্সেস। কিন্তু প্রশ্ন এখন স্বাধীনতা এবং সমতার। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে লাখ লাখ নারীর জন্য সমতা, মর্যাদা ও স্ব-সংকল্প করার অধিকার হ্রাস পাচ্ছে দিনদিন।

শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের প্রতিক্রিয়া: 

প্রিন্সেস হাইয়া আল-হুসেইন পালানোর পর তিনি বার্লিনকে অনুরোধ জানান তাকে ফেরত পাঠাতে। তার সঙ্গে থাক দুই সন্তানকেও ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানান তিনি। কিন্তু জার্মানি তাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করে এবং দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা হাইয়াকে রক্ষা করতে বলে। এই কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জার্মানির মধ্যে শুরু হয়েছ কূটনীতিক সংকট।

হাইয়া পালিয়ে যাওয়ার পর ইন্সটাগ্রামে বিশ্বাসঘাত হিসেবে অভিহিত করে একটি পোস্ট করেন মাখতুম। সেই পোস্টে তিনি বলেন, ‘তুমি যার সঙ্গে ছিলে, তার কাছেই যাও !সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ