মঙ্গলবার-১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং-২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:১৪
বিকেলে ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ট্রাম্প! শৈলকুপায় সাঁপের কামড়ে দুই ভায়ের মৃত্যু মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী পার্বতীপুরে ৫হাজার বৃক্ষ বিতরণ মহিমাগঞ্জ ইউপি’র উপ-নির্বাচনে রুবেল আমিন শিমুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার — প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

অল্পের জন্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯ , ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : চট্রগ্রাম,সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচলের প্রবেশপথ বা চ্যানেল। গতকাল শুক্রবার সকালে জোয়ারে জাহাজ চলাচলের মূল সময়ে দুটি বিদেশি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এমনভাবে সংঘর্ষ হয় যে একটি জাহাজের সামনের অংশ আরেকটির সামনের অংশের মধ্যে ঢুকে যায়। এতে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্দর চ্যানেল বন্ধ ছিল।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছে, দুটি কারণে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। একটি হচ্ছে দুর্ঘটনার সময় তেলের ট্যাংকারে কোনো তেল ছিল না। তেল থাকলে আগুন লেগে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত; যাতে জাহাজটি ডুবে গিয়ে বন্দরের প্রবেশপথ অচল হয়ে যেত। দ্বিতীয়টি হচ্ছে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার আগেই বন্দর ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্ধারকারী দল পাঁচটি টাগবোট দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে উপকূলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। এতে করে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় চট্টগ্রাম বন্দর।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে প্রতিদিন ১২ থেকে ২০টি পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার প্রবেশ করে এই চ্যানেল দিয়ে। জাহাজ চলাচলের এটিই একমাত্র পথ। এটি অচল হলে পুরো চট্টগ্রাম বন্দরই অচল হতে বাধ্য। কারণ মূল জেটির বাইরে এমন কোনো টার্মিনাল বা জেটি গড়ে ওঠেনি যেটি বিপর্যয়ের সময় বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। আর বন্দর অচল হওয়া মানেই বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হওয়া।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন শফিউল বারি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজ দুটির সংঘর্ষ এমন এক স্থানে হয়েছে যেটি বন্দরে প্রবেশের সবচেয়ে সংকীর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এখানে দুর্ঘটনা ঘটে জাহাজ ডুবলে পাশ দিয়ে আরেকটি জাহাজ চলাচলের কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে আমরা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তাম।’

ক্যাপ্টেন শফিউল বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে; যারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারণ নির্ণয় করে প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিব।’

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রীলঙ্কার বন্দর থেকে সাত শ একক কনটেইনার নিয়ে আসা বিদেশি জাহাজ ‘এক্সপ্রেস মহানন্দা’ বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে প্রবেশ করছিল। আর তেলের ট্যাংকার ‘এমটি বুর্গান’ বন্দর থেকে বের হয়ে সাগরের দিকে যাচ্ছিল। বন্দরের বোট ক্লাবের পরে গুপ্তা বাঁকের সামনে দুটি জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় বন্দরসহ অন্য ছোটখাটো জাহাজ চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে বন্দরের সব পাইলট, হারবার ও মেরিন বিভাগের সব কর্মকর্তা পাঁচটি টাগবোট, দুটি পাইলট জাহাজ, একটি অ্যাম্বুল্যান্স শিপ এবং দূষণ প্রতিরোধকারী জাহাজ বে ক্লিনার-২ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা আসলেই অলৌকিক বিষয় হয়েছিল। এত বড় সংঘর্ষ কিন্তু কোনো আগুন লাগেনি আল্লাহর রহমতে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্যাংকারটি খালি থাকলেও জাহাজের ভারসাম্য রাখার জন্য এর মধ্যে পানি ভর্তি ছিল, ফলে সংঘর্ষে আগুন ধরে তেলে লাগার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এর পরও জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু আমরা জাহাজ দুটিকে দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পরও পৃথক করতে পারছিলাম না। পরে ওই অবস্থায় জাহাজ দুটিকে টেনে চট্টগ্রাম ড্রাইডক ও ডলফিন জেটি-৭ এ এনে বেঁধে রাখি। আজ শনিবারের মধ্যেই জাহাজ দুটিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য শিপিং কম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ‘বুর্গান’ জাহাজটি জেটি থেকে বহির্নোঙরে নেওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিল ছোট জাহাজ। মূলত সেই জাহাজটিকে বাঁচাতে গিয়ে একই সঙ্গে আসা আরেকটি জাহাজ ‘এক্সপ্রেস মহানন্দা’র সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

চট্রগ্রাম,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ