মঙ্গলবার-১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং-৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:২৭
মেহেন্দীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় বরং তারাই হতে পারে দেশের উন্নয়নের সহায়ক ফুলবাড়ীতে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশেন সভা ॥ ঘুমন্ত তুহিনকে কোলে করে নিয়ে আসেন বাবা, খুন করেন চাচা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা লালপুরে মাচায় লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন চাষী রনি কুষ্টিয়া চলে গেলেন আবরারের ছোট ভাই

সাকিবের সেঞ্চুরিতেও ভাঙল না রানপাহাড়

প্রকাশ: রবিবার, ৯ জুন, ২০১৯ , ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : খেলাধুলা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলেছে। কার্ডিফে কাল বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ময়নাতদন্তের ফল এটাই। শুরুতে জেসন রয় আর জনি বেয়ারস্টো বিশ্বকাপ স্বাগতিকদের উড়ন্ত সূচনা দেওয়ার পর জস বাটলারের মুগুরভাজায় ম্যাচের প্রথমভাগেই কার্যত ম্যাচ শেষ। রুটিনমাফিক দ্বিতীয় সেশনে সাকিব আল হাসান শুধু বুঝিয়েছেন কেন তিনি ‘স্পেশাল’। টানা দুই ফিফটির পর গতকাল শনিবার সেঞ্চুরি করেছেন এ অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ দলের সবার জন্য টুর্নামেন্টের বাকি অংশে এ ইনিংসটি হতে পারে অনুপ্রেরণাও।

ওয়ানডেতে ৩৮৭ রান বাংলাদেশ কোনোকালে করেনি। সর্বোচ্চ ৩৩০ রানের ইনিংসটা এই সেদিনের, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভাল ম্যাচে। ৩৬৫ ওয়ানডেতে যা মোটেই ১৪তম তিনশোর্ধ্ব ইনিংস বাংলাদেশের। তার ওপর ইংল্যান্ড নেমেছে চার পেসার নিয়ে, যাঁদের বোলিংয়ের গড় গতি ১৪০ কিলোমিটারের ওপর। এঁদের শিরোমণি জোফ্রা আর্চার আবার নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারে গোলা ছোড়েন। সৌম্য সরকারকে ক্রিজবন্দি রেখে তাঁর একটি বল স্টাম্পের বেলস ফেলে ‘ছক্কা’ তো আর এমনি এমনি হয়নি! নতুন বলের বিভীষিকাময় অধ্যায়ের পর ইংলিশদের আছে পুরনো বলে ইয়র্কার আর রিভার্স সুইংয়ে ব্যাটসম্যানের নাভিশ্বাস তুলে দেওয়ার অস্ত্রও। ব্যাট বদলে শেষ চেষ্টাটা করতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বেন স্টোকসের ইয়র্কারে মুহূর্তেই ছত্রখান তাঁর ১২১ রানের আত্মবিশ্বাস।

এতে মন খারাপ করার কিছু নেই। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা দুরমুজ করবে আর পেসাররা উড়িয়ে গুঁড়িয়ে দেবে—এ তো জানাই ছিল বাংলাদেশ দলের। সুযোগ একটাই ছিল, যদি এউইন মরগ্যানদের ভুলের ফাঁদে ফেলে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলা যায়। তবে প্রতিদিনই তো আর সব অঙ্ক মেলে না। কার্ডিফের ম্যাচে মেলেনি, জেতেনি বাংলাদেশও।

তবু দুটি বিশেষ প্রাপ্তি আছে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের। অবশ্য দুটিই ব্যক্তিগত। তবে দলীয় খেলায় ব্যক্তিগত অর্জনও টনিকের কাজ করে। যেমন সাকিবের ব্যাটিং। অসম্ভবের পেছনে ছুটতে গেলে ঝুঁকি নিতে হয়। তবে ঝুঁকি নেওয়ার বেলায় দ্বিধায় ভুগলে ব্যর্থতার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়। বরং দ্বিধাহীন ঝুঁকিতে সুফল মেলার সম্ভাবনা বাড়ে। সাকিবের গতকালের ইনিংসটি যেমন। থার্ডম্যান দিয়ে শুরুতে কয়েকবারই বল উড়ে গেছে তাঁর ব্যাট হয়ে। এর যেকোনোটি সামান্য হেরফেরে ক্যাচ হতে পারত। কিন্তু ফ্ল্যাশ করলেও নির্দ্বিধায় জোরে করেছেন সাকিব, যা উড়ে গেছে স্লিপ কর্ডনের পাশ দিয়ে। ড্রাইভ, কাট, পুল—কোনো শটেই জড়তাকে প্রশ্রয় দেননি সাকিব। সাহসীকে ভাগ্যও সহায়তা করে, সাকিবও ন্যায্য সে সহযোগিতা পেয়েছেন। এখন তাঁকে দেখে যদি দলের হেভিওয়েট ব্যাটসম্যানরা মনের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে পরের ম্যাচগুলো খেলতে নামেন! ভাবা যায়, একজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একটার পর একটা সিঁড়ি ভেঙে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছেন। আগের তিনটি বিশ্বকাপে সাকিবের নৈপুণ্য আহামরি কিছু নয়। কিন্তু এবারের আসরে তাঁর তিনটি ইনিংস যথাক্রমে ৭৫, ৬৪ ও ১২১। বিশ্বকাপে সাকিবের প্রথম সেঞ্চুরি হয়তো আরো বড় কোনো অর্জনের ইঙ্গিতও। সফলতম ব্যাটসম্যানদের তালিকার শীর্ষে আছেন। বোলিং যোগ করলে বিশ্বকাপের মাঠেও সাকিবই সেরা অলরাউন্ডার।

বোলারদের তালিকায় একটু নিচের দিকেই আছেন সাকিব, সবার ওপরে লকি ফার্গুসন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বোলিং পরিকল্পনাও মনে হচ্ছে সাকিবকে ঘিরে। ইংলিশদের স্পিন দুর্বলতা প্রথম ম্যাচেই দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য স্পিন-সংক্রান্ত কোনো শিক্ষাই দরকার নেই বাংলাদেশের। দেশ-বিদেশে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বাঁ হাতি স্পিনার কিংবা উল্টোটা অগুনতিবার করেছে বাংলাদেশ। তাই বৃষ্টির কারণে কাভারে ঢাকা থাকা উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা কেন সাকিবকে আক্রমণে আনলেন, এ নিয়ে বেশ উত্তাপই ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যুক্তি অগ্রাহ্য করার মতোও নয়। পেস সহায়ক উইকেটে নতুন বল তো পেসারদের হাতেই ওঠা উচিত।

ঠিক। তবে মাঠের দুই দলের রসায়নও বুঝতে হবে। একজন আর্চার তো নেই বাংলাদেশ দলের। যাঁরা আছেন, তাঁদের পরিণতি কী হতে পারে, সেটির প্রদর্শনী দেখিয়েছেনও জেসন রয়রা। তবু সাকিবকে দিয়ে বোলিং শুরু করানোয় শুরুর ৫ ওভারে অতি সতর্ক ব্যাটিং করেছেন রয় ও বেয়ারস্টো। সাকিবের এবং বাংলাদেশ দলের দুর্ভাগ্য যে বারকয়েক পরাস্ত হয়েও টিকে গেছেন ইংলিশ ওপেনারদ্বয়। তবে শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠার পর ইংলিশ ওপেনারদের সেরাটা দেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১১ রান তোলার ইংল্যান্ড ১০ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ৬৭।

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একে ওকে এনেছেন, কিন্তু কেউই ছাড় পাননি জেসন রয়ের ঝড় থেকে। তবু ভালো যে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বেয়ারস্টোকে ফিরিয়েছেন মাশরাফি। নইলে ২০তম ওভারেই ১২৮ রান তুলে ফেলা ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিতে আর কী কী যে হতো, কে জানে! এ জুটি ভাঙার পরই কিছুক্ষণ চাঙ্গা দেখিয়েছে বাংলাদেশকে। জো রুটের বিদায়ের পর আরেকবার গাঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু জেসন রয়ের ১২১ বলে ১৫৩ রানের ঝড়ের পর বাটলারের তাণ্ডব সবটুকু অক্সিজেন শুষে নেয় বাংলাদেশের সিলিন্ডার থেকে। এ পর্বে সাকিবও এক ওভারে ১৭ রান দিয়েছেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের স্পেল শুরুই হয়েছে ১৬ রান দিয়ে।

এমনিতেই নিচু গ্যালারির ওপর দিয়ে শোঁ শোঁ হাওয়া ঢুকছিল কার্ডিফের মাঠে। সেই হাওয়ায় ভাসিয়ে ১৪টা ছক্কাই হাঁকিয়েছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। এর কয়েকটি পাশের টাফ নদীতে গিয়ে পড়ায় বলও বদলাতে হয়েছে ম্যাচের।

এমন ঝড়ের দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং ফিগারটাই সবচেয়ে ভালো, ৬৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন এই অফস্পিনার। তবে অন্যদের মতো তিনিও বাউন্ডারি বল দিয়েছেন। তাঁকে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়েই তো দেড় শ পেরিয়েছেন জেসন রয়। আবার মিরাজের শিকারেই পরিণত হয়েছেন এ ইংলিশ ওপেনার।

অবশ্য ততক্ষণে ম্যাচ থেকে এক রকম ছিটকেই গেছে বাংলাদেশ। সাকিবের সেঞ্চুরির জন্যই যেন আনুষ্ঠানিকতার শেষ ভাগটা হলো!

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ