শুক্রবার-১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:১৫, English Version
বিএড প্রশিক্ষণবিহীন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের খসড়া তালিকা প্রকাশ খালেদার জামিন আবেদন খারিজ নতুন আকর্ষণ নিয়ে শাকিব খানের ‘বীর’ সৈয়দপুরে টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে মিশরীয় পেয়াজ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি শুরু পলাশবাড়ীতে জাতীয় রিক্সা ভ্যান শ্রমিকলীগের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গোবিন্দগঞ্জে জাতীয় কৃষক সমিতির মানবন্ধন অনুষ্ঠিত বরিশালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের র‌্যালি

রাজস্ব ও ব্যাংক কমিশন হচ্ছে

প্রকাশ: রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯ , ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  আসছে বাজেট হবে কম কথায় সহজ বাজেট। ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হলেও জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, মানুষের ওপর করের বোঝা চাপবে না। তবে করের আওতা বাড়বে। এ জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় আয়কর অফিস স্থাপন করা হবে। রাজস্ব খাতের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করতে একটি রাজস্ব কমিশন করা হবে। গতকাল শনিবার রজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের সম্মেলনকক্ষে কালের কণ্ঠ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল বৈঠকে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ শুনে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকিং খাতের জন্য আরেকটি কমিশন গঠন করা হবে। তবে রাজস্ব কমিশন ও ব্যাংক কমিশন কবে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, ব্যবসাবান্ধব বাজেটে করপোরেট করের হার কমতে পারে।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালচনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলকামা সিদ্দিকী, ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলালউদ্দিন, নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ এমপি, এসিআই লজিস্টিকসের প্রধান নির্বাহী সাব্বির হাসান নাসির, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মুক্তাদির। সূচনা বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা খেলাপি ঋণ কমানোর তাগিদ দেন। সর্বোপরি বাস্তবসম্মত বাজেট ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন তাঁরা। আর ব্যবসায়ীরা করপোরেট কর হার কমানো, ব্যবসায়ীদের বোঝা বাড়ে এমন কিছু না করাসহ বাজেটে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন।

সূচনা বক্তব্যে কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল আসছে বাজেটের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আপনি বিগত পাঁচ বছর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক বড় বড় প্রকল্প দেখেছি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পর মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের এবং আপনার প্রথম বাজেট। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা মেয়াদে এটি হবে শেষ বাজেট। পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলও এখন দৃশ্যমান। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে আপনার সামনে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের সামনে আলোচনা করেছেন। নতুন অর্থবছর থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এটি কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন—সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই ভেবেছেন।’

মোস্তফা কামাল আরো বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা দেখছি জিডিপি বাড়ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। নিঃসন্দেহে এটি গৌরবের। কিন্তু আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান। ৪০তম বিসিএসে দুই হাজার প্রার্থীর বিপরীতে চার লাখের বেশি প্রার্থী অংশ নিয়েছে। এতেই বোঝা যায় বেকারত্ব কত কঠিন সমস্যা। এ ছাড়া আমরা দেখছি যে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, বিশেষ করে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। গড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। বন্ড সুবিধা নিয়ে অনেকে অর্থ পাচার করছে। এতে বিনিয়োগ খাত অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। সেই বাজেট এখন চার লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার। বিশাল বাজেটে আপনার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এবারের বাজেটে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকবে বলে মনে করি।’

অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা, পরামর্শ এবং ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। যদি আমাদের অর্থনীতি এতই খারাপ হবে তাহলে গত পাঁচ বছরে মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাঁচ দেশের মধ্যে সবার ওপরে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, ব্লুমবার্গের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রবৃদ্ধি হবে সেটার ২ দশমিক ৯ শতাংশ যেসব দেশ অবদান রাখবে তার মধ্যে ২০তম দেশটি বাংলাদেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়ে বেশি হবে। তাহলে এগুলো কিভাবে সম্ভব হলো?’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে যে দুরবস্থা, খেলাপি ঋণ—এগুলো কেন হলো? খেলাপি ঋণ আজকের সৃষ্টি না। ব্যাংক খাতের জন্মলগ্ন থেকে ঋণখেলাপি হয়ে আসছে। একবার তো ব্যালান্স শিট ক্লিন করার চেষ্টা করা দরকার। একের পর এক ঋণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের সুদ ১০ শতংশ হলে হিসাব করা হয়েছে ১৬ শতাংশ করে। এগুলো যতটা পারা যায় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধরা হয়েছে। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধরা হলে কোনো ব্যবসায়ী সুদ দেবে না। ১২, ১৪, ১৬ শতাংশ সুদ থাকলে কোনো ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না। এটি ১০ শতাংশ হলেও বেশি। ৭, ৮ শতাংশ হলে ঠিক আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আটকা পড়লে কোনো এক্সিট ক্লজ রাখা হয়নি। যে আইন করা হয়েছিল তাতে কেউ কখনো হাত দেয়নি। আর যখন করা হয়েছিল তখন ঋণখেলাপি নামে বোধ হয় কোনো নিয়মই ছিল না। আমরা চেষ্ট করছি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার জন্য। অর্থনীতিবিদরা যে পরামর্শ দিয়েছেন তা আমরা নেওয়ার চেষ্টা করব।’

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাংক খাতের সমস্যা সমাধানে একটি কমিশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম করব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ন্যাশনাল ফিন্যান্স কমিশন গঠন করার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তবসম্মত বাজেটের আকার নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন। এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের যে দুটি প্রস্তাব আসছে, সেগুলো আমরা করব। একটি নয়, দুটি কমিশনই গঠন করা হবে। ফিন্যানশিয়াল সাইড দেখার জন্য একটি কমিশন হবে। আর রাজস্ব সাইড দেখার জন্য আরেকটি কমিশন গঠন করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপি বিশ্বের সবচেয়ে কম। আমাদের যে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি আছে, সেগুলো দূর করলে আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আয় ধরেছি, তা অর্জন সম্ভব হবে। এটা ডাবল করা সম্ভব। আমাদের ইনফরমাল সেক্টর আছে। সেটাকে যুক্ত করলে সেফটিনেট আরো বেড়ে যায়। সুতরাং আমরা এবার রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট দিচ্ছি, তা এক টাকাও কমবে না (সংশোধিত বাজেটে)।’

এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ ফাহিম ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর মূল্যস্ফীতি যাতে না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখার কথা বলেন। তিনি আশা করেন, ভ্যাট আইনে কাউকে হয়রানি করা হবে না। তিনি বলেন, ‘জাতীয় বাজেট হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং কর্মসংস্থানমুখী।’ বিনিয়োগ শিল্পায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার পাশাপাশি করপোরেট করহার কমপক্ষে আড়াই শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব কম কথায়, সহজভাবে একটি বাজেট দেব। সেখানে কাউকে কোনোভাবেই আর বেশি কষ্ট দিয়ে কর আদায় করব না। তার পরও যদি কেউ বিপদে পড়েন, বাজেট যদি দিয়েও দিই, তার পরও কেউ এসে অভিযোগ করলে তা পরিবর্তন হবে। বাজেটের পর একজন এসে অভিযোগ করতে পারবেন না যে বাজেটের পর একটা জিনিসের দাম বেড়েছে। যা পেয়েছেন, তা আরো বেশি করে পাবেন। আমি চেষ্টা করেছি, বিভিন্ন জায়গায় আরো কিছু দেওয়ার জন্য।’ স্ক্যানারের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশে যে মাল যায়, যে মালামাল আসে এগুলো কী আসে আর কী যায়, তা আমরা সত্যিকারভাবে জানি না। এখানে কতটা ওভার ইনভয়েসিং হয় আর কতটা আন্ডার ইনভয়েসিং হয়, সেটাও দেখার ব্যবস্থা নেই। এখন থেকে শতভাগ মালামাল স্ক্যানার মেশিনের ভেতর দিয়ে আসবে। নৌ, স্থল সব বন্দরে এটা কার্যকর করা হবে। আমরা এগুলো বন্ধ করতে পারলে অনেক দূর এগোতে পারব।’

রাজস্ব বাড়াতে ১০ হাজার লোক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিয়েছেন, আমরা ১০ হাজার লোক আউটসোর্সিং করব। ভ্যাট আইন কার্যকর করতে তাদের দায়িত্ব দেব। মূল ব্যাপার হলো, রাজস্ব অর্জন করতে হবে। রাজস্ব আদায় না করতে পারলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আটকে যাবে। অনেক টাকা দরকার। এই দেশে যারা একবার ট্যাক্স দেয়, তারাই শুধু ট্যাক্স দেয়। তাদের চেয়ে শক্তিশালীরা ট্যাক্স দেয় না। এসব বন্ধ করতে প্রতি উপজেলায় আমরা ট্যাক্স অফিস করব। আমরা সবার কাছে যাব।’

বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, ‘দুই বছর ধরে রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসা বৈষম্যের শিকার। আগে অবচয় পেতাম ৪৫ শতাংশ। সেটা কমে এখন ৩৫ শতাংশ হয়েছে। ফলে অনেক বেশি ডিউটি দিতে হচ্ছে। নতুন গাড়ি ১৫-১৬ লাখ টাকা কম ডিউটি দিচ্ছে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই।’

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক ফ্ল্যাট আছে। কিন্তু এগুলো রেজিস্ট্রেশন হয় না। রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি এত বেশি যে কেউ রেজিস্ট্রেশন করবে না। আমরা এগুলোতে যদি একটু সহনশীল হই, তাহলে অনেক লাভ হবে। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিতে ৮২০ শতাংশ ট্যাক্স। এটা কেন? এটা তো ঠিক না। আমরা গাড়ির নাম্বার প্লেট অকশনে তুলব। এটা থেকে কিছু টাকা আসবে। এটা হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় করে। আমরা যদি বিভিন্ন জায়গায় ১০০ শতাংশ ট্যাক্স ধরি, তাহলে কে দেবে? আমরা ট্যাক্স রেট সহনীয় পর্যায়ে রাখব। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করব।’

অর্থমন্ত্রীর কথার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাকে কর কমানোর কথা বলা হচ্ছে। মন্ত্রীকে বলেছি, আমরা আশপাশের দেশ থেকে বেশি কর নিই না। ব্যক্তি খাতে যদি ন্যূনতম করহার কিছু কমাই, তাহলে কি মানুষ লাইন ধরে কর দিতে আসবে? মানুষ কিছুদিন পর পর মোবাইল ফোন বদলায়; কিন্তু বছরে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে চায় না। বাংলাদেশে বাধ্য না করলে ইচ্ছা করে কেউ কর দিতে আসবে না। রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা বাড়াতে হবে। তবে এ জন্য রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জনবল বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে কাউকে বেশি ভ্যাট দিতে না হয়। এ জন্য নতুন ভ্যাট আইন আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন করা হবে।’সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ