- মুক্তিনিউজ24.কম - https://www.muktinews24.com -

দেশীয় পণ্যের পসরা এসএমই মেলায়

মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: কেউ এনেছেন নকশি কাঁথা, কেউ কারুকাজের সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। কেউবা সরিষা ও কালিজিরা ফুলের মধু। দেশে উৎপাদিত এমন বাহারি পণ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে বসেছে পণ্যের পসরা। নিজেদের পণ্যকে উৎসাহী ও প্রসারিত করতে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য নিয়ে সপ্তমবারের মতো বসেছে এসএমই পণ্য মেলা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য মিলছে এই মেলায়।

আয়োজকরা জানান, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাতসামগ্রী, পোশাক, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যার, হ্যান্ডিক্রাফট, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, হারবাল পণ্য, প্লাস্টিক ও সিনথেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি পণ্য ও অন্যান্য সেক্টরের স্বদেশি পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে মেলায়।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, কারুকাজ করা পোশাক, নকশি কাঁথা, মানিব্যাগ, বেল্ট, ফুটওয়্যার পণ্য, বেকারি ও ফাস্ট ফুড, শুকনা ও সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি, অর্গানিক খাদ্য, সরিষা ও কালিজিরা তেল ও মধু, আচার ও চাটনি, চাল ও আটা এবং হ্যান্ডিক্রাফট ও হস্তশিল্পে কারুকাজ করা বহু পণ্য।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতে সহায়তা, প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ স্থাপনে সাত দিনব্যাপী এসএমই ফাউন্ডেশন পণ্য মেলার আয়োজন করেছে। শনিবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ২২ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এবারের মেলায় ২৮০ জন এসএমই উদ্যোক্তা নিজ উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করছে, যার ১৮৮ জন বা ৬৭ শতাংশ উদ্যোক্তা নারী আর ৯২ জন পুরুষ উদ্যোক্তা।

এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার বলেন, ‘এসএমই উদ্যোক্তাদের মাঝে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছি। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ক্রেতাদের সম্পৃক্ততা, পণ্যের বাজার সৃষ্টি আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসারে এই মেলার আয়োজন। ক্রমেই মেলার পরিসর বড় হচ্ছে, শুরুতে গুটিকয়েক উদ্যোক্তার পণ্য নিয়ে মেলা আয়োজন করা হলেও এবার কয়েক শ ছাড়িয়েছে। যদিও আরো অনেক আবেদন ছিল কিন্তু দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, দেশীয় পণ্যের যে বিশাল সম্ভার রয়েছে, তা এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে। উদ্যোক্তারা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রিও করছে। আবার বড় বড় প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাদের কাছে অর্ডার দিয়েও কেনার আশ্বাস দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এই মেলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেওয়া ও পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

বহুমুখী পাটপণ্য, ল্যাপটপ ব্যাগ, জিপ ব্যাগ ও শপিং ব্যাগ তৈরি করে মেসার্স আমালী এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. আলী জাকির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাট ও পাটজাত পণ্যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি দেশের বাইরে দু-একটি প্রদর্শনীতে আমরা অংশ নিয়ে দেখেছি, বিদেশিরা পাট ও পাটজাত পণ্য সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নন। বিদেশিদের জানানোর সুযোগ বাড়লে, পাট পণ্যের সম্ভাবনাও আরো বাড়ত। এ জন্য পাট সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা পাট ও পাট পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কারখানা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে ব্যবসাও বেড়েছে। কিন্তু এই খাতকে এগিয়ে ব্যাংকঋণের সহজলভ্যতা প্রয়োজন। প্রায়ই ঋণ নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে এগিয়ে নিতে ঋণ সহায়তা সহজীকরণ করা প্রয়োজন।’

আপনার মতামত লিখুন