শনিবার-১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং-৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৯:০৫
অভিযোগ নামক রোগ বিএনপিকে পেয়ে বসেছে : ওবায়দুল কাদের শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মবার্ষিকী আজ পার্বতীপুরে ইউনিয়ন উপ-নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবীতে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ বিক্ষোভ। জলঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষকদের অংশগ্রহনে আন্তঃক্লাস্টার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন দাম বাড়াতে পচানো হচ্ছে হাজার হাজার বস্তা পেঁয়াজ! অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরিশালে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

২৭ ইটভাটার দখলে নদী

প্রকাশ: রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ , ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : খুলনা,সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: শুকিয়ে যাওয়া নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানা ধরনের স্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটা। এসব ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ করতে নদীর কূলে দেওয়া হচ্ছে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ। ফলে নদী দখলের পাশাপাশি বেড়িবাঁধের বিপরীত পাশে সৃষ্টি হয় ভাঙন। ধনুকের মতো বেঁকে আরো বিপন্ন হয়ে পড়ে নদী। এভাবে খুলনা জেলার পাঁচ উপজেলায় নদীর তীর, নদী-ভরাটি চরে গড়ে তোলা হয়েছে ২৭টি ইটভাটা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ওই পাঁচটি উপজেলার ছয়টি নদ-নদীর সীমানা দখল করে গড়ে তোলা ২৭টি ইটভাটার তালিকা তৈরি করেছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে ডুমুরিয়া, তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা। আর নদীগুলো হচ্ছে ভৈরব, আতাই, ভদ্রা, তেলিগাতী, হরি ও শৈলমারী। এসব ইটভাটা অপসারণে পাউবো খুলনা অফিস থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর অন্য পাশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নাব্যতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে।’

সরেজমিনে গিয়ে ভৈরব নদীর রূপসা পাড়ে দেখা গেছে, নদী তীরের যুগিহাটী গ্রামে কেবিসি এবং এনকেবিসি নামের দুটি ইটভাটা। ভাটা দুটি নদীটির উল্লেখযোগ্য অংশ গিলে ফেলেছে। ফলে পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ইটভাটার পাশে চরের জমিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির সারি সারি চুল্লি। পাশে জ্বালানির জন্য স্তূপ করে রাখা কাঠ। ইটভাটার কারণে ভৈরবের তীর ঘেঁষে ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পাশের শোলপুর গ্রামটি নদী ভাঙনে পড়েছে। যুগিহাটী গ্রামটিও এ কারণে বিপর্যয়ের মুখে। গ্রামটির রাস্তার পাশে একটি খাল ছিল। সেটিও কয়েক বছর আগে দখল করে নেয় ইটভাটা মালিক।

স্থানীয়রা কেউ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস করে না। খালটি দখল করে ভরাট করায় বর্ষাকালে পানি আটকে ওই এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়ে। ভারি বৃষ্টি হলে যুগিহাটী ও দেয়াড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বসতভিটা এবং চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইচগাতী ইউনিয়ন পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জনগণের চলাচল ও পানির প্রবেশ ঠেকাতে ইটভাটার পাশে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইটভাটার মালিকের লোকেরা ওই বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করে।

ডুমুরিয়ার খর্নিয়ার ভদ্রা নদীর পাড়েও সারি সারি ইট ভাটা। ভদ্রা নদীর ওপর সেতুতে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ দিকে তাকালে চোখে পড়ে, নদীর পশ্চিম পাশের দুটি ইটভাটার মাটি সংগ্রহ করতে নদীর মাঝখান বরারবর দখল করা হয়েছে। ফলে নদীটি ধনুকের মতো বেঁকে গেছে। ফলে পূর্ব পারে সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন। বর্তমানে নদীটি প্রায় স্রোতহীন হয়ে ক্ষীণকায় হয়ে পড়েছে। একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও নদীর পার দখলমুক্ত করা যায়নি।

গত ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় খর্নিয়া ব্রিজের ভাটিতে ভদ্রা নদীর তীরের ওই ইটভাটাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর গত বুধবার ডুমুরিয়া উপজেলার পশ্চিম শোভনা ইউনিয়নে ভদ্রা নদীতে (খর্নিয়ার দক্ষিণে) গড়ে তোলা ‘এবি ইটভাটা’ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই ইটভাটার কারণে ভদ্রা নদীখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছিল।

নদীর সীমানা নির্ধারণ

খুলনার নদীগুলো শুকিয়ে মরে যাওয়া, ছোট হয়ে যাওয়া, নদীতে জেগে ওঠা চর এলাকা দখল করায় এত দিন নদীর সীমানা ঠিক ছিল না। এই পরিস্থিতিতে নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে ২৫টি মৌজায় জরিপকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভৈরবের ৪ নম্বর লঞ্চঘাট থেকে রূপসা নদীর তীরবর্তী শিপইয়ার্ডের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বানিয়াখামার, টুটপাড়া, লবণচরা ও হেলাতলা মৌজায় সীমানা নির্ধারণ করে ৩০টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) খুলনার উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিএস, এসএ এবং আরএস পর্চা পর্যালোচনা করে নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সীমানা নির্ধারণের পর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।’ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

খুলনা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ