রবিবার-৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৫৫, English Version
দিল্লিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩৫ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন সালমান খান ও ক্যাটরিনা আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রদান করবেন “তিন বছর ধরে ঘর ছাড়া মা, চিকিৎসার কথা বলে বাবার সম্পত্তি লিখে নিয়েছে ছেলে” চাকরির জন্য শিক্ষা এবং একাডেমিক শিক্ষার ব্যবধান কমাতে হবে      –শ্রম প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর পোস্টার বাছাইয়ে সভা অনুষ্ঠিত

আফিফা ও আফসারের শোকে পাথর কেরানীগঞ্জবাসী

প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ , ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ঢাকা,সারাদেশ,

দুর্ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সকাল ১১টার দিকে নিহতদের স্মরণে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই স্কুলেই আফিফা পঞ্চম শ্রেণীতে ও আফসার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো।

মিলাদে নিহতদের বাবা শামসুল আলম ডালিম, কসমোপলিটন স্কুলের শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ আশেপাশের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। সবাই এ সময় কালোব্যাজ ধারণ করেন। উপস্থিত সবার চোখেই ছিল কান্না সিক্ত। মিলাদ মাহফিলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামানসহ এলাকার বিশিষ্টজনরাও এ সময় উপস্থিত ছিল।

কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আর কতো লাশ পড়লে আমরা নিরাপদ সড়ক পাব? প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনায় লাশ পড়ছে। সবারই নিরাপদে রাস্তায় চলা ফেরার অধিকার রয়েছে। আমরা নিরাপদ সড়কে চলতে চাই।

মিলাদ মাহফিলের আগে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় নিহতদের শোকে ও ঘাতকদের বিচারের দাবিতে একটি শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ গ্রহণ করে। র‌্যালি থেকে আগামী বৃহস্পতিবার এই এলাকায় মানববন্ধন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সবার উদ্দেশে বলেন, আপনারা যেমন শোকাহত আমরাও তেমনি শোকাহত। আপনাদের আমি কথা দিচ্ছি এ হত্যার উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। ওই ট্রাক চালক ও হেলপারকে আমরা শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবো।

নিহতদের বাবা শামসুল আলম ডালিম বলেন, আর কোনো বাবা মায়ের বুক যেন আমাদের মতো খালি না হয়। আর কোনো সন্তানকে যেন রাস্তায় এভাবে না মরতে হয়। সরকারের কাছে আমার আবেদন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এ সময় নিহত আফিফা আক্তার ও আফসারের মা পুতুল বেগম ছোট ছেলে রাফসানকে জড়িয়ে ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ জামান বলেন, প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে তার সন্তান আদরের, যে হারিয়েছে সে বুঝে। একটা বাবার চোখের সামনে তার সন্তানের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। নিহতের বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমার দ্রুতই দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, গতকাল স্কুল থেকে বাবার মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা যায় আফিফা আক্তার ও আফসার। বাসায় ফেরার পথে পেছন থেকে ঘাতক ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে পাশের গর্তে ছিটকে পরে যায় আফিফা, আফসারের বাবা শামসুল আলম। আফিফা ও আফসার ট্রাকের সামনে পরলে ট্রাক ড্রাইভার গাড়িটি না থামিয়ে বাচ্চাগুলোর ওপর দিয়েই ট্রাক উঠিয়ে দেয় ঘাতক ড্রাইভার। ঘটনাস্থলেই খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায় বাচ্চা দুটির দেহ। ট্রাকটি থামালে বেঁচে যেতে পারতো দুটি ফুটফুটে প্রাণ। সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ