শনিবার-১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং-৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:৩৩
গাইবান্ধার ব্রম্মপুত্র নদে মোবাইল কোর্ট পারিচালনায় ১০ জনকে আটক পার্বতীপুরের যোহান হাসদা ৮০০ ইঁদুর মেরে পুরস্কৃত হলেন শৈলকুপায় উপজেলা চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্টের উদ্বোধন এক সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন নিরব,ইমন,তমা ও মেঘলা পার্বতীপুরে আদল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও শেয়ারের লভ্যাংশ বিতরণ লালপুরে পদ্মা নদীতে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ ফুলবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্তরে জাগজমক ভাবে গুরুমনি রুপালী হিজরার কুলখানি অনুষ্ঠিত ॥

গফরগাঁওয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শতশত রেল যাত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ , ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : ময়মনসিংহ,সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের গফরগাঁও ষ্টেশন এলাকায় পাথর না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ মরিচা ধরা ও ক্ষয়প্রাপ্ত রেললাইনে ট্রেন চলাচল করায় লাইনচ্যুতিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে ষ্টেশন সংলগ্ন শিবগঞ্জ রেল পয়েন্টে একবার লাইনচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। দুই দিকের আউটার সিগনালের মধ্যবর্তী আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করার পর ট্রেন অস্বাভাবিক রকম দুলতে থাকে। তখন যাত্রীদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত শনিবারও ১ নম্বর লাইনে ট্রেনের চাপে একটি রেললাইন ভেঙ্গে দ্বি-খণ্ডিত হয়ে যায়। কিন্তু ভাঙ্গা রেলের খণ্ডাশ দুটি স্লিপার থেকে সড়ে না যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শতশত যাত্রীর প্রাণ। ট্রেন চলে যাওয়ার পর ভাঙ্গা রেললাইনটি দ্রুত পাল্টানো হয়।

গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রতিদিন সাত জোড়া আন্তনগর এক্সপ্রেস ও চার জোড়া লোকাল-মেইল ট্রেন চলাচল করে। গফরগাঁও ষ্টেশনের দুই দিকের আউটার সিগনালের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। কিন্তু এই আড়াই কিলোমিটার রেলপথে পাথর নাই বললেই চলে। কোনো স্থানে একটি দুটি পাথর আবার কোথাও একটি পাথরও নাই, মাটিতে স্লিপারগুলো ঢেকে গেছে। ট্রেন প্রবেশ করার পর থেকে দুই দিকে দুলতে থাকে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে
যেকোনো সময় বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রেলপথের লাইনগুলো লাগানো হয় ৫০-৬০বছর পূর্বে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে লাইনগুলো অত্যন্ত সরু ও মরিচা ধরে অনেক স্থানে ক্ষয় হয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু পূর্বে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো সময়। গফরগাঁও এলাকায় বিগত রাজনৈতিক আন্দোলন, মারামারির সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে লোকজন রেলের পাথর বস্তা ভরে নিয়ে যেতো। কিন্তু এখন রেলের পাথর চুরি হয়ে যায়। অনেকে রাতের অন্ধকারে রেলের পাথর নিয়ে ইট-সুরকির সাথে মিশিয়ে বিক্রি অথবা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে। এর ফলে রেললাইনে পাথর থাকে না।

ট্রেন যাত্রী ফরিদ মিয়া বলেন, ট্রেন গফরগাঁও আউটার সিগনালে প্রবেশ করার পর থেকেই মারাত্মক ভাবে দুলতে থাকে। তখন অনেক যাত্রী ভয়ে কলেমা পড়তে থাকেন।

গফরগাঁও ষ্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ষ্টেশন মাস্টার আলাউদ্দিন বলেন, পাথর নাই, মেয়াদ উত্তীর্ণ রেললাইন, স্লিপারগুলো পুরানো ক্ষয়প্রাপ্ত থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় শত শত যাত্রীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। সে জন্য সকল ট্রেন চালকের কাছে কুশন অর্ডার(সতর্কতা নির্দেশক সাংকেতিক চিঠি) দেওয়া হলেও তারা নির্দেশ অগ্রাহ্য করে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালান।

বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা স্বীকার করে গফরগাঁও রেলওয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী(পথ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই-আড়াই মাস পূর্বেও দিনের বেলা রেলের পাথর চুরি করার সময় এক ব্যক্তিকে হাতে নাতে ধরা হয়েছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো বলেন, দুর্বল মেয়াদ উত্তীর্ণ রেল, পাথর না থাকা এবং নিয়ম অনুযায়ী আউটার সিগনালে ট্রেন প্রবেশের সময় সর্বোচ্চ ১৮ কিলোমিটার গতি থাকা উচিত। কিন্তু ট্রেন চালকরা নিয়ম অগ্রাহ্য করে ৩৫-৪০কিলোমিটার গতিতে সিগনাল এরিয়ার ভিতর প্রবেশ করে ব্রেক কসে গতিবেগ দ্রুত কমানোয় ট্রেন দুলতে থাকে। লাইনের এ অবস্থার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবহিত করা হয়েছে। সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ময়মনসিংহ,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ