বুধবার-১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং-১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:১৩
জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয়কেতন -তথ্যমন্ত্রী ওমানের বিপক্ষে হকি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ঢাকায় আরো দুই মেট্রো রেল ব্যয় ৯৪ হাজার কোটি টাকা মেহেন্দীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় বরং তারাই হতে পারে দেশের উন্নয়নের সহায়ক ফুলবাড়ীতে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশেন সভা ॥ ঘুমন্ত তুহিনকে কোলে করে নিয়ে আসেন বাবা, খুন করেন চাচা

বরিশালে সেচ সঙ্কটে ৩৭টি বোরো ব্লকের জমি তিন বছর অনাবাদি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ , ২:৫৬ অপরাহ্ণ , বিভাগ : বরিশাল,সারাদেশ,

মনির হোসেন, বরিশাল ব্যুরো ॥ জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি খালের মাত্র আট কিলোমিটার অংশ খনন না করায় পানির অভাবে বিগত তিন বছর ধরে অনাবাদি অবস্থায় পরে রয়েছে অর্ধশতাধিক বোরো ব্লকের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি। এতে বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল এসব ব্লকের আওতাধীন কয়েক হাজার চাষী পরিবার চরম খাদ্য সংকটে পরেছেন। জরুরী ভিত্তিতে ওই খাল দুটি খননের জন্য ভূক্তভোগী চাষীরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর, কমলাপুর, বাঘমারা ও বাহ্মনগাঁও গ্রামের।
সরেজমিনে ওইসব এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, কমলাপুর গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া পালরদী নদীর শাখা আমানতগঞ্জ নদীতে পাকিস্তান আমলে জাহাজ ও স্টীমার চলাচল করতো। নদীকে ঘিরেই ওই এলাকায় গড়ে উঠেছিলো সু-বিশাল আমানতগঞ্জ বাজার। ওই নদীর প্রশাখায় রয়েছে একাধিক খাল। কালের বির্বতনে প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে সেসব আজ কেবলই স্মৃতি।
সূত্রমতে, একসময়ের ভয়ঙ্কর পালরদী নদীতে পানির প্রবাহমান কমে আসার সাথে সাথেই তার শাখা আমানতগঞ্জ নদীটি এবং ওই নদীর প্রশাখা খালগুলো বিলিন হতে থাকে। বর্তমানে এটি যে কোনদিন নদী ছিলো কিংবা এ নদী দিয়ে জাহাজ ও স্টীমার চলাচল করছে তার কোন অস্তিত্ব নেই। দেখলেই মনে হয় এটি কোন ডাঙ্গা।
উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর, বাঘমারা, বাহ্মনগাঁও ও খাঞ্জাপুর গ্রামের সত্তোরর্ধ একাধিক প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন, বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল তাদের ইউনিয়নের চাষীরা দীর্ঘদিন থেকে পালরদী নদীর শাখা আমানতগঞ্জ নদীর প্রশাখা বাঘমারা-কমলাপুর ও ইল্লা খালের পানি দিয়ে ওইসব গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনেও খাল খনন না করায় পলি জমে নদীর চেয়ে খালের উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে করে খালে পানি না থাকায় চাষাবাদ ব্যহত হয়।
কমলাপুর গ্রামের ব্লক ম্যানেজার এমদাদ হাওলাদার, শাহজাহান মুন্সী, মাহাবুব হাওলাদার ও হালান তালুকদার জানান, খালে পানি থাকার সুবাদে পাশ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার জুরগাঁও এলাকায় জনৈক শাহজাহান মুন্সী নদীতে সেচ পাম্প বসিয়ে খালের মুখে বাঁধ দিয়ে বাঘমারা-কমলাপুর ও ইল্লার খালে পানি ফেলে তা স্থানীয় ব্লক ম্যানেজারদের কাছে বিক্রি করতো। তার (শাহজাহান) কাছ থেকেই ব্লকের পরিধি অনুযায়ী প্রতি মৌসুমে ৭০ থেকে এক লাখ টাকা চুক্তিতে স্থানীয় ব্লক ম্যানেজাররা পানি ক্রয় করে খালে সেচ পাম্প বসিয়ে চাষীদের জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছিলো।
ব্লক ম্যানেজার এমদাদ হাওলাদার বলেন, জুরগাঁও এলাকা থেকে পানি ক্রয়ের পর পূর্ণরায় খালে সেচ পাম্প বসিয়ে জমিতে পানি সরবরাহ করে প্রতিবছর তাদের চরম লোকসানের মুখে পরতে হয়েছে। তাই গত তিন বছর ধরে তারা বোরো ব্লক ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় চাষী বিএম নান্নু বলেন, বাঘমারা, কমলাপুর, বাহ্মনগাঁও এলাকায় একমাত্র পানির অভাবে অনাবাদি থাকা ৩৭টি ব্লকের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে হলে জরুরী ভিত্তিতে পালরদী নদীর শাখা আমানতগঞ্জ নদীর ভূরঘাটা পানের হাট থেকে বাঘমারা বেইলী ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ও কমলাপুর-ইল্লা খালের বাঘমারা বড়দুলালী থেকে তুলাতলা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল খনন করার কোন বিকল্প নেই। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ব্লক ম্যানেজার মোঃ সেলিম আহম্মেদ বলেন, দারিদ্রপিরিত বাঘমারা, কমলাপুর, বাহ্মনগাঁও এলাকার বাসিন্দারা বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। গত তিনবছর পর্যন্ত এসব এলাকার ৩৭টি বোরো ব্লকের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকায় এসব এলাকার কয়েক হাজার চাষী পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ খাল দুটি খননের জন্য তিনিসহ ভূক্তভোগী চাষীরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সেচ সংকটে ৩৭টি বোরো ব্লকের আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকার সত্যতা স্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, খালে পানি সঙ্কট রয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে খাল খননের কোন বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, কৃষি বাঁচলে বাঁচবে দেশ। তাই বোরো চাষের প্রধান সমস্যা সেচ সংকটের সমাধান করার জন্য খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের উল্লেখিত দুটিসহ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার খাল খননের জন্য উপজেলা মাসিক সমন্ময় সভায় আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মুলত কৃষকের দাবি, খালগুলো খনন করা। তারাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে এেেত্র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে সেচ সঙ্কটরোধে বিএডিসির খাল খনন কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ