বুধবার-১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং-১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৫৭, English Version
সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাবার তুলে দিলেন লেনিন প্রামাণিক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরের পত্রিকা বিক্রেতাদের হাতে তুলেন দিলেন খাদ্য সামগ্রী- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পলাশবাড়ীতে পৌরসভার উদ্যোগে জিবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শিবগঞ্জেমৃত ব্যক্তির করোনা ভাইরাস ছিলনা ১৫ বাড়ী লক ডাউন প্রত্যাহার পলাশবাড়ীতে কর্মহীন ভাসমান বেদে পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

লালমনিরহাটে চরাঞ্চলে ব্যাপক শাক-সবজি চাষে সবুজের বিপ্লব

প্রকাশ: রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ , ৬:২১ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : রংপুর,সারাদেশ,

মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট। ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯।
লালমনিরহাট সহ উত্তরাঞ্চলের তিস্তা,ধরলা, সানিয়াজান ও রতœাই নদীর জেগে উঠা ধু-ধু বালুচরে বিশেষ পদ্ধতিতে চলতি মৌসুমে নানা জাতের ৪০ প্রকারের শীত সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি গ্রাম হিসেবে সুখ্যাতি পেয়েছে উত্তরের লালমনিরহাট সীমান্তের দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর গ্রাম। এখানে কৃষক পরিবারগুলো নানা জাতের সবজি ফলিয়ে এখন আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছে। শত শত বেকার কৃষি শ্রমিকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এতে মঙ্গা চিরদিনের মতো উত্তরাঞ্চল থেকে উধাও হয়ে গেছে। সীমান্ত গ্রামগুলোতে সবজি ক্ষেতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা হলেও চোরাচালানী পন্যের ভাড়ি (শ্রমিক) কমেছে। দেশে কাজ থাকায় সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের কৃষকের বাড়িতে কাজে এখন আর কৃষি শ্রমিকরা যায় না। জানা গেছে, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও বগুড়া জেলার উপর দিয়ে বেশ কয়েকটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে ৩ মাস বাদে সেই নদীর চরে এখন সারা বছর ধান, পাট, ইক্ষু, ভুট্টা, গম, তামাক, কলার বাগান, বাওকুল বড়ই, সরিষা, আলু, মিষ্টি আলু, ধনে পাতা, পিঁয়াজ, মরিচ, বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, শালগম, সিম, টমেটো মিষ্টি কুমড়া সহনানা জাতের প্রায় ৪০ প্রকারের শীতের সবজি আবাদ হচ্ছে। মানুষ পারেনা এমন কাজ পৃথিবীতে নেই। তারই প্রমান রেখেছে চরের খাঁ-খাঁ উত্তপ্ত বালুতে ফসল ফলিয়ে। চরে এখন প্রজেক্ট আকারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি ফসলে বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি টাকা লাগিয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে সবরিকলা, আলু, নীল, তামাক, ফুলকপি সহ নানা কৃষি পণ্য। কৃষক ধু ধু বালুর চরের জমিতে বিশেষ পদ্ধতিতে গর্ত তৈরি করে গোবর সার, জৈবসার, লতাপাতা পচিয়ে তাতে বিশেষ পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে ফসল ফলাচ্ছে। কৃষিভিত্তিক এই দেশে কৃষির উপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করে শত শত শ্রমজীবি কৃষি শ্রমিকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নদীর পানিতে বর্ষা মৌসুমে খাঁচায় মাছ চাষও জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে মাছ চাষ ব্যয়বহুল ও ঝুঁকি ঝামেলা আছে। তাই মাছ চাষ খুব ধীর গতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে। কাজের সুযোগ থাকায় শীতকালের মৌসুম অভাব (মঙ্গা) উত্তরের জনপদ হতে চিরতরে ঝেটিয়ে বিদায় করেছে। প্রতিটি চর এখন শীতের নানা সবজি ও ফসলের মাঠে সবুজে পরিণত হয়েছে। শীতকালীন সবজি, শাক, পাতা উৎপাদন করে নিজেদের খাদ্য চাহিদা ও পুষ্টি পূরণ করেছে। অতিরিক্ত ফসল বাজারে বিক্রয় করে চরের ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে নিজেদের নিয়ে যাচ্ছে। এখন চরের মানুষ দরিদ্রতা হতে মুক্ত হয়ে মূল ধারার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থানে নিজেদের পাশে দাঁড় করিয়েছে। চরে মানুষ কৃষি উদ্ভাবনী দিয়ে ফসল চাষ করে দরিদ্রতা হতে মুক্ত হচ্ছে। চর ও চরাঞ্চল বলতে দরিদ্র মানুষের মুখ ভেসে উঠে। এখন চরে সেই দৃশ্য পাল্টেগেছে। চরের মানুষের দারিদ্র সীমার হার কমতে শুরু করেছে। যা দেশের অর্থনৈতিক সূচককে উপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চরের মানুষ এখন আর অবহেলিত নয়। তারা সংগ্রামী জীবনমুখী বাস্তববাদী মানুষ। এখন চরের মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে সরকারী সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকে না। নিজের খাদ্য নিজেরাই চরের বালুতে ফসল ফলিয়ে চাহিদা পূরণ করছে। চরে এখন বছরের ৯ মাস কোনো না কোনো ফসল উৎপাদন হয়। মানুষ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। সরকার ও বেসরকারি এনজিও গুলোও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি সেখানে সোলার বাতি জ্বলছে। বায়ুগ্যাসের মাধ্যমে রান্নার কাজ সারছে। লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম নীলফামারী জেলার উপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়ে আসছে। ধরলা ও সানিয়াজান নদী ভারত থেকে এসে লালমনিরহাট জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। নদীগুলো বর্ষা মৌসুমে পানিতে থাকে টইটুম্বুর। শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। নদীতে পড়ে বিশাল বিশাল বালুচর ও কোথাও কোথাও পলি মিশ্রিত বেলে দোঁআশ মাটিরও চর পড়ে। চরাঞ্চলগুলো এই শুষ্ক মৌসুমে সবুজের সমাহার ঘটেছে। চরের যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ ফসলের মাঠ। এটা যে, বর্ষা মৌসুমে পানিতে ভরে যায়, অথৈ নদী হয়ে যায় বিশ্বাস হয় না। এই বছর দ্বীপ চর ও চরের ২ হাজার ক্ষুদ্র চাষীকে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস, পেঁয়াজ ও গাজর চাষে সম্পৃক্ত করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। এবছর চরের পরিত্যক্ত বালুময় ফসলের জমির মাত্র ৪০ হেক্টর জমি কাজে লাগানো হবে। নদী ও জীবন প্রকল্পের এনজিও সিঁড়ি প্রকল্প এনজিও, সরকারি কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ, টেকনিক্যাল অফিসারগণ দাবি করেছে উদ্যোক্তার অভাবে এখনও চরের বিশাল জমি চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি। চরাঞ্চলে শীত মৌসুমের খন্ডকালীন কৃষি আবাসিক এলাকা নির্মাণ করে খামার ভিত্তিতে ফসল ফলালে কৃষি উৎপাদন খরচ কম হবে। সেই সাথে চরের জমির শতভাগ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সীমান্ত গ্রাম দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর। এসব গ্রামের কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শ্রমিক ৭-৮ বছর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় গ্রামগুলোতে শীত মৌসুমে সবজি চাষের জমিতে কাজে দিনমজুরী করতে যেত। এই সীমান্তের ওপারে ভারত সরকার ভৌগলিক ও ধরলা নদীর কারণে কাটা তারের বেড়া দিতে পারেনি। সীমান্তের পাহাড়াও কিছুটাও শীথিল। এখন আর দিনমুজরী করতে সীমান্ত গ্রাম হতে ভারতে কেউ যায়না। ভারতে মজুরী ভালো থাকলেও চালের দাম বেশি। বাংলাদেশের শ্রমিকের মজুরীর বেশি আবার চালের দাম কম। অনেকে এখন ভারত হতে বাংলাদেশে কৃষকের বাড়ীতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে আসে। দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর গ্রাম সবজি গ্রাম হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে ভারতে কাজ করেত যাওয়া কৃষিভিত্তিক শ্রমিক ও কৃষকের অবদান রয়েছে। সীমান্তের ওপারে শীতের সবজির বামপার ফলন হয়। ভারতের কৃষক পরিবারগুলো সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এই প্রচারে বাংলাদেশের কৃষকরা ও কৃষিশ্রমিকরাও সেখানে কয়েকবছর আগে গিয়ে কাজ করে। তারা নানাজাতের সবজি চাষের উপর হাতে কলমে প্রশিক্ষিত হয়। পরে একই কায়দায় তারা নিজ জমিতে সবজি চাষ করে। ফলনও হয় বাম্পার। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এমনকি দেশের কয়েকটি স্বনামধন্য উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দূর্গাপুর, মোগলহাট ও কর্ণপুর হতে বীজ উৎপাদন করছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্ধুনা ইউনিয়নের চর সিন্ধুনার চর এলাকায় বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি আবাদ করেছে কৃষক। তার এ ফসল থেকে হাজার হাজার টাকা আয় করছেন। তাদের একটাই দাবী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ ওঅধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭ শত ৯৯ হেক্টর ও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে, ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে, ৫২০ হেক্টর জমিতে মরিচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা ছাড়িয়ে ৫৩৫ গেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে, ভ্ট্টুা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে কিন্তু তা ছাড়িয়ে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ