মঙ্গলবার-১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং-২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:৫১, English Version
নারীরা এখন সর্বত্র দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুরে ইউএনডিপি’র আয়োজনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন’ জলঢাকায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ২০২০ সালে ফাইভ জি জগতে পা দেবে বাংলাদেশ                   — মোস্তাফা জব্বার ঢাকা, ২৪ অগ্রহায়ণ (৯ ডিসেম্বর) : অধ্যাপক অজয় রায়ের মৃত্যুতে পরিবেশ মন্ত্রীর শোক পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে নিহত দুই নির্মান শ্রমিককে ক্ষতিপূরনের চেক প্রদান ৫জনকে সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন ফেরদৌসি ইসলাম জেসী ।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের হাতে বিএম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেন ধ্বংস!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ , ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ : শিক্ষা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত কতিপয় শিক্ষকের হাতে ধ্বংস হতে চলেছে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের নেট হাউস ও মাঠ পরিবেক্ষণ কেন্দ্র (বোটানিক্যাল গার্ডেন)। গার্ডেনটির পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য টেনিস কোর্ট। শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য প্রায় ৭০ বছর আগে তৈরি করা বোটানিক্যাল গার্ডেনটিতে নাগলিঙ্গমসহ বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ ও অর্কিড রয়েছে। অথচ গার্ডেনের মাত্র দেড়-দুই গজ পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে লন টেনিস কোর্ট। এরই মধ্যে সেখানকার নেট হাউস সরানো হয়েছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন হুমকিতে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণের ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী ও সচেতন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা দৈনিক শিক্ষাকে জানান, এক বছর আগেও একই স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমানুল হাকিম। তবে মৃত্তিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তা করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এবার শীতকালীন ছুটির মধ্যে আবারও সেখানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেনের বেশ কিছু গাছও কেটে ফেলা হয়েছে।

বিএম কলেজের একাধিক সাবেক শিক্ষক জানান, দেশবরেণ্য প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা ১৯৫০ সালে বিএম কলেজের মৃত্তিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য বোটানিক্যাল গার্ডেনটি সৃজন করেন। তিনি তখন বিএম কলেজের শিক্ষক ছিলেন। নিজ হাতেই তিনি গার্ডেনে রোপণ করেছিলেন নাগলিঙ্গমসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির গাছ ও অর্কিড। সেসব গাছের একটি তালিকা গার্ডেনের পাশে শোভা পেলেও পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে একাধিক প্রজাতির বিরল গাছ এখন আর নেই। তবে ১৯৫০ সালের পর থেকেই বিএম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেন শিক্ষার্থীদের গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। সেই গার্ডেন হুমকির মুখে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) বরিশালের বিভাগীয় সমন্বয়ক কাজী এনায়েত হোসেন দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, বিএম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেনটি মূল্যবান ঐতিহ্য। তার পাশে টেনিস কোর্ট করা হলে গার্ডেনের গাছগুলো সুরক্ষিত থাকবে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করার কাজটি আত্মঘাতী। কলেজে অনেক জায়গা আছে। সেসব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণা স্থাপনার পাশেই কেন টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেওয়া উচিত।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গবেষণার স্থাপনার ক্ষতি করা উচিত নয়। টেনিস কোর্ট নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের গবেষণার কেন্দ্রটি কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে ফেলছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না। দুর্লভ বৃক্ষসমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেনটির স্বার্থেই ক্যাম্পাসের অন্য কোনো স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা উচিত ছিল।

বিএম কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কলেজের কোনো কাজের ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। গার্ডেনের পাশে কেন টেনিস কোর্ট করা হচ্ছে, তা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জানান, টেনিস কোর্ট করার জন্য নেট হাউস সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই নেট হাউস কোথায় স্থাপন করা হবে, তা কেউ জানে না।

তবে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান সিকদার দাবি করেন, টেনিস কোর্টটি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে না। গার্ডেনের পাশে আগেই টেনিস কোর্ট ছিল। সেটি সংস্কার করা হচ্ছে। টেনিস কোর্টের কারণে বোটানিক্যাল গার্ডেনের কোনো ক্ষতি হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। সূত্র দৈনিক শিক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ