রবিবার-১৬ই জুন, ২০১৯ ইং-২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৪৩
মাসুদা এম রশীদের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ স্থগিত রাজধানীতে ট্রেন থেকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত সুন্দরবন নিয়ে শর্ত পূরণে কাজই শুরু হয়নি সরকারি নার্সদের ছুটির পেছনে লেনদেন! বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন গ্রেপ্তার প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে বান্দরবানে বিএনপির চার নেতা গ্রেফতার

5 days ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ঋণখেলাপিদের। সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিদেশি সব খাতের ব্যাংক থেকেই তাদের নেওয়া ঋণের খেলাপি হওয়ার পরিমাণ তীব্রগতিতে বাড়ছে। তবে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই খেলাপি ঋণের আধিক্য বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১১.৮৭ শতাংশ।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা বা মোট বিতরণের ১০.৩০ শতাংশ। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ। এর বাইরে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবলোপনের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাবের খাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে নিট ৪০ হাজার ১০১ কোটি টাকা। এ ঋণ যোগ করলে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ে তৎপরতা কম থাকে। ফলে এ সময় খেলাপি ঋণ বেড়ে যায়। তাই বাস্তবতার নিরিখে নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আদায় কার্যক্রম জোরদার না করলে খেলাপি ঋণের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা কঠিন হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন,  ‘খেলাপি ঋণের সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এটা ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য ঋণের সুদ হারও কমছে না।’ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা এখন খেলাপি ঋণ। এটিকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করলেও ভুল হবে না।’ তবে এই রোগ নিরাময়ের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর্থিক অবস্থা ভালো দেখাতে গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমিয়ে এনেছিল দেশের ব্যাংকগুলো। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ পাঁচ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা কমেছিল। তবে তিন মাস যেতে না যেতেই পুরনো চেহারায় ফিরেছে খেলাপি ঋণ। মার্চে এসে পুনঃ তফসিলকৃত ঋণসহ নতুন ঋণও খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিশেষ সুবিধায় ২০১৫ সালে পুনর্গঠন করা ঋণের বড় একটি অংশও এখন খেলাপি। সব মিলিয়ে মার্চ প্রান্তিকে ব্যাপক পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১.৮৭ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২.২০ শতাংশ। বিশেষায়িত খাতের দুই ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে চার হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ১৯.৪৬ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৪২টি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৭.০৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি খাতের ৯টি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে দুই হাজার ২৫৬ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৬.২০ শতাংশ।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ