শনিবার-২৫শে মে, ২০১৯ ইং-১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:৫৭
আন্তনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরায় বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ উদ্বোধন চার সমুদ্রবন্দরে ৩, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত শুটিংয়ে আহত জন আব্রাহাম, সম্পূর্ণ বিশ্রামের নির্দেশ টয়ার ঈদ বিশেষ ‘সাইজ ৪২’ ৩,৩০০ কেজির বিমান টানলো ১৩০ কেজির রোবট! (ভিডিও)

৪ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: আগামী অর্থবছরে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা ও নতুনভাবে সরকারিকরণের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থের দরকার ৪ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ হিসাব এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। ফলে শিক্ষা খাতে এ কাজগুলো সঠিকভাবে করার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থসচিবকে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছে শিক্ষা সচিব (সিনিয়র)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এমপিওভুক্ত করতে যাচাই-বাছাই চলছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্য বলে বিবেচিত হবে সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এটা এমনও হতে পারে যে ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ করে এমপিও দিলাম। আবার এমনটাও হতে পারে যে প্রথম বছরে ১০০টির মধ্যে ৩৩টিকে এমপিও দিলাম, পরবর্তী ২ বছরে অন্যগুলোকে দিলাম। এ দুটির যে কোনো একটি হতে পারে। এ নিয়ে বাজেটে ঘোষণা আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আগামী বাজেটের জন্য যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়েছে তা থেকে বরাদ্দ কমবে না। তবে এটাও ঠিক যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া অনেক উন্নত। মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ও নিয়মিত কার্যক্রম বিবেচনা করে তারা বরাদ্দের যে অঙ্ক তৈরি করবে তাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে না। নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে। কোনো কারণে যদি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কমে, তাহলে নিঃসন্দেহে নিয়মিত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ঘাটতি পড়লে পরে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। অতীতেও পাওয়া গেছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেটা পারসেন্টেজের হিসাবে না প্রতিষ্ঠান হিসাবে হবে সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। বরাদ্দের সঙ্গে এমপিওভুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার যখন এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেবে, তখন এ ব্যাপারে বরাদ্দের প্রশ্ন আসবে।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে ১৩ জুন। প্রতি বছর জুনে প্রথম বৃহস্পতিবারে ঘোষণা করা হয় বাজেট। কিন্তু এ বছর রোজার ঈদের ছুটির কারণে ঘোষণার তারিখ পেছানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজেটে কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষা খাতও রয়েছে।

আগামী বাজেটে অর্থ বরাদ্দের জন্য পাঠানো ডিও লেটারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী যে সব উপজেলায় একটি করে কলেজ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্কুলকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। এসব স্কুল ও কলেজকে পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। এছাড়া নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এসব খাতে অতিরিক্ত ও এককালীন বরাদ্দের প্রয়োজন।

সূত্র মতে, আগামী বাজেটে কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন এর একটি প্রাক্কলন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ। এ হিসাবটি পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, নতুনভাবে ৩৩২টি বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের জন্য এর ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে টাকার প্রয়োজন হবে ২৪২ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার। এছাড়া ২৯৯টি কলেজকে সরকারিকরণের কারণে এর পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। হিসাবে আরও দেখানো হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিসিআরসিএ) এমপিওভুক্ত পদে ১৯ হাজার ৯৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তাদের বেতন-ভাতার জন্য প্রয়োজন হবে ৪৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এছাড়া ২ হাজার ৮৭১ জন প্রভাষককে নিয়োগেরও সুপারিশ করেছে এনটিসিআরসিএ। তাদের নিয়োগ দেয়ার পর বেতন-ভাতা খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ৯৯ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

জানা গেছে, নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বহু বছর ধরে আন্দোলনে আছেন। অনেকের চাকরির বয়সও শেষের দিকে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অঙ্গীকার পূরণে নির্দিষ্ট করে যে ‘দু-এক মাস’ সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

সূত্র আরও জানায়, ৬ হাজার ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির প্রস্তাব করা হবে। এর অনুমোদন হলে পরিচালনা ব্যয় খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একটি নিু মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে ৮ম) পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য বার্ষিক প্রয়োজন হবে ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৩০০ টাকা। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (নবম-দশম) পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজন হবে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (একাদশ থেকে দ্বাদশ) জন্য ব্যয় হবে ৬৩ লাখ ৫২ হাজার ১০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের জন্য ব্যয় হবে ৯১ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা। ডিগ্রি কলেজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ৬ হাজার ১৪১টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করার খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার। এর প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় মাসে খরচ হয় ১ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতির বাইরেও কয়েক হাজার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপরই এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন।

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ