রবিবার-১৬ই জুন, ২০১৯ ইং-২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:৪১
কারাবন্দিদের জন্য তৈরি হলো নতুন মেন্যু বাজেটে হিসাবের বাইরে মধ্যবিত্ত বাজেটে তামাকপণ্যে উচ্চহারে কর চায় আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য বিভাগ ‘যুব সমাজকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে তারা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে’ মাসুদা এম রশীদের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ স্থগিত রাজধানীতে ট্রেন থেকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত সুন্দরবন নিয়ে শর্ত পূরণে কাজই শুরু হয়নি

৪ ডিসেম্বর ঃ ঝিনাইগাতী মুক্ত দিবস

মুহাম্মদ আবু হেলাল,ঝিনাইগাতী ঃ ৪ ডিসেম্বর শেরপুরের “ঝিনাইগাতী” মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঝিনাইগাতী অঞ্চলকে শক্রমুক্ত করে। এদিবসটি পালন উপলে দিন ব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচী নেয়া হয়েছে । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনার টেলিগ্রাম বার্তা ২৬ মার্চ রাত ৩টা ৪৫মিনিটে এসে পৌছায় ঝিনাইগাতী ভিএইচএফ ওয়ারলেস অফিসে। পরদিন স্থানীয় নেতা বর্তমানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফকির আব্দুল মান্নান মাষ্টার বার্তাটি পৌছে দেন শেরপুর সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দের হাতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭১সনের ২৭মার্চ সকালে শেরপুর সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে দেশকে শক্রমুক্ত করাসহ পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় । শুরু হলো প্রতিরোধ সংগ্রাম। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসাবে ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া কুন্তি পাতার ক্যাম্পে বাঙ্গালী যুবকদের প্রশিন শিবির খোলা হয়। প্রশিন শেষে এসব স্বেচ্ছাসেবক, মুজিব বাহিনী ও ইপিআর সৈনিকদের নিয়ে ঝিনাইগাতীর নকশী ইপিআর ক্যাম্পের সুবেদার আঃ হাকিম প্রথমে মধুপুরে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু হানাদার বাহিনীর ভারী অস্ত্রের সাথে টিকতে না পেরে অবশেষে ২৬এপ্রিল ভারতে আশ্রয় নেন। ২৩আগষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে তাওয়াকুচা পাক বাহিনীর ক্যাম্প দখল করে এবং মুক্ত তাওয়াকুচায় প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ৩আগষ্ট নকশী পাকিস্থানী ক্যাম্প আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। এ সম্মুখ যুদ্ধে পাক বাহিনীর ৩৫জন সৈন্য নিহত হয়। ২৭নভেস্বর কমান্ডার জাফর ইকবালের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঝিনাইগাতী বাজারের রাজাকার ক্যাম্প দখল করে ৮রাইফেলসহ ৮রাজাকারকে ধরে নিয়ে যায়। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যুপরি আক্রমণে হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। অবশেষে কামালপুর দুর্গ পতনের আগাম সংবাদ পেয়ে ৩ডিসেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টায় ঝিনাইগাতীর শালচুড়া ক্যাম্পের পাকিস্থানী বাহিনী পিছু হটে ।এর পর আহাম্মদনগর পাকিস্থাানী হেড কোয়ার্টারের সৈনিকদের সঙ্গে নিয়ে রাতেই মোলাপাড়া ক্যাম্প গুটিয়ে শেরপুর শহরে আশ্রয় নেয়। এভাবে রাতের আধাঁরে বিনা যুদ্ধে ঝিনাইগাতী শক্রমুক্ত হয়। ৪ডিসেম্বর ভোরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্ত ঝিনাইগাতীতে প্রবেশ করে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ায়। তাই প্রতি বছর ৪ডিসেম্বর ঝিনাইগাতী মুক্ত দিবস উপল্েয নানান কর্ম সূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন ঝিনাইগাতী মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি ।

আপনার মতামত লিখুন

ময়মনসিংহ,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ