শুক্রবার-১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:১৩
দুর্নীতিকে অন্যভাবে দেখার উপায় নেই : ওবায়দুল কাদের গোবিন্দগঞ্জে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে বেরি বাঁধ ভেঙে ৩ গ্রাম প্লাবিত : পানিবন্দি ১৫ হাজার লোক শিবগঞ্জে করতোয়া নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পরমাণু সমঝোতা রক্ষার পথ খোলা আছে: ম্যাক্রনকে রুহানি

২৫০ রানকেই জয়ের মাইলস্টোন মনে করছে বাংলাদেশ দল

4 weeks ago , বিভাগ : খেলাধুলা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরকে রসিকতাচ্ছলে কেউ কেউ সম্বোধন করেন ‘হেড কোচ’ বলে! দক্ষিণ ভারতের এই তরুণ মোটেও তা নন। তাই প্রতিবারই লজ্জার আবির ছড়িয়ে বলেন, ‘ইয়ে আপ ক্যায়া বোলতা হ্যায়?’

‘লেগ পুলিং’য়ের মজাটা এখানেই। শ্রীনি’রও তাই মুক্তি নেই, অলস আড্ডায় মাঝেমধ্যেই শুনতে হয় বেসরকারি উপাধিটা! আর তাঁর এই উপাধিটা আমদানি হয়েছে জাতীয় দলের বর্তমান কোচিং মডেলের কারণে। হেড কোচ স্টিভ রোডস দলীয় সভার বেশির ভাগ অংশই বরাদ্দ রাখেন শ্রীনি’র জন্য, যিনি ভিডিও বিশ্লেষণ করে করে রণপরিকল্পনার ছক আঁকেন। সব দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্টদেরই এটি করতে হয়। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্স কিংবা আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদে একই কাজ করেন শ্রীনি। তবে সেসব দলের সভায় সংশ্লিষ্ট কোচই মুখ্য পরিচালক, চন্দিকা হাতুরাসিংহেও তাই ছিলেন। কিন্তু রোডস নাকি ম্যাচ পরিকল্পনায় মাথা নেড়ে সায় দেন শুধু। গেম প্ল্যানিংয়ের গুরুদায়িত্ব তাই শ্রীনি’র। আর সে কারণেই তিনি আড়ালের ‘হেড কোচ’!

আফগানিস্তান ম্যাচের আগে এ ভারতীয়র গুরুত্ব একটু বেশিই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। সানরাইজার্সে যে রশিদ খানকে আরো কাছ থেকে দেখেছেন শ্রীনিবাস। একই অ্যাকশনে লেগব্রেক, গুগলি মেরে ব্যাটসম্যান ঘায়েল করায় জুড়ি নেই তাঁর। আফগান বোলিং আক্রমণ একজন রশিদ খান নির্ভর হলেও মুখ বুজে সয়ে নিত বাংলাদেশ। কিন্তু নতুন বলে মুজিব উর রেহমানের স্পিনও যে ‘প্রাণঘাতী’! তাই বলে মোহাম্মদ নবীকে হালকাভাবে নেবেন—সেই উপায়ও নেই। ওয়ানডেতে অফস্পিনের মূল দায়িত্ব থাকে রানের চাকা জাপ্টে ধরে রাখা। নবী সেই কাজে অগ্রপথিকই। শ্রীনি’র আফগান গেম প্ল্যানে তাই এই ত্রয়ীর ৩০ ওভার বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে স্বভাবতই।

টিম রুমের প্রজেক্টরে ভিডিও ক্লিপ ধরে ধরে খেলোয়াড়দের দেখানো রণ পরিকল্পনা তো আর খোলাবাজারে ছেড়ে দেওয়ার জিনিস নয়। তবে গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্টিভ রোডসের কথায় তার সামান্য ইঙ্গিত রয়েছে, ‘এখানে মাঠ বড়, বিশেষ করে স্কয়ারে। তাই বেশি বেশি চার-ছক্কা হবে না।’ তবে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সেরা উপায় ফিল্ডিংয়ের ফাঁক গলিয়ে দৌড়ে রান নেওয়া। সিঙ্গেলসকে ডাবলস, কখনো বা ডাবলসকে তিন রানে পরিণত করার তাগিদ শিষ্যদের দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ কাজটিও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য এটিএম বুথে পাসওয়ার্ড দিয়েই টাকা তোলার মতো সহজ কাজ নয়। ব্যাটসম্যানরা এবারের বিশ্বকাপে অভাবিত ভালো করছেন। তবু রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের পুরনো থেকে মুক্তি মেলেনি। গ্যাপে খেলে ঝটপট রান নেওয়ার ঘটনাও বিরল।

তবু এটাকেই প্ল্যান ‘এ’ ধরে নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের পেস বোলিং নিয়ে দুর্ভাবনা নেই। থাকার কথাও নয়। তাঁদের কেউ তো আর জোফ্রা আর্চার কিংবা মিচেল স্টার্ক নন। শুরুর সতর্কতা বেশি তাই অফস্পিনার মুজিব উর রেহমানকে ঘিরে। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারকে তাই পুরনো বার্তাই নতুন করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে ক্রিজে মুখ বুজে পড়ে থাকার জন্য।

একালের ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ব্যাট গুটিয়ে রাখলেও গোটা চল্লিশেক রান উঠবেই। তেমনি রশিদ খান কিংবা বিশ্বসেরা বোলারকেও সম্মানের সঙ্গে খেলে ৪০ রান তোলা সম্ভব। রানের গতি বাড়ানোর জন্য বাকি বোলারদের ‘পরিচর্যা’ করলেই স্কোরবোর্ডে আড়াই শ উঠে যাবে। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুই সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিমের প্রস্তুতির মেজাজে প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

রোজ বৌলে ২৫০ রানকেই জয়ের মাইলস্টোন মনে করছে বাংলাদেশ দল। আফগানদের নড়বড়ে ব্যাটিংয়ের জন্য এমন ধীরগতির উইকেটে রানটা কম নয় মোটেও। মোহাম্মদ শাহজাদ নেই, কিন্তু হযরতুল্লাহ জাজাই আছেন। মোহাম্মদ নবীর ব্যাটে প্রতিরোধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিশ্বকাপে প্রস্ফুটিত হচ্ছে না ভেবে বাংলাদেশি বোলারদের নিশ্চিন্তে শরীর এলিয়ে দিলে ভুল হবে। বোলিং বৈচিত্র্যে ভরপুর ভারতেরও ঘাম কিন্তু ছুটিয়ে দিয়েছিল আফগানরা। অতএব বোলিং প্ল্যানেও রয়েছে ধৈর্যধারণের পরামর্শ। সেই সঠিক লাইন ও লেন্থে বল ফেলে উইকেটের জন্য অপেক্ষায় থাকার মন্ত্র। কোচ অবশ্য ইয়র্কার লেন্থে পাউন্ডের নোট রেখে মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে স্পট বোলিং করিয়েছেন গতকাল। সাকিব আল হাসান, মেহেদী মিরাজ কিংবা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে পথ হারানোর ভয় নেই। তাই বোলিংয়ের চেয়ে তাঁদের ব্যাটিংয়েই বেশি মনোযোগী দেখা গেছে।

তবে সব তো আর স্ত্রিপ্ট মেনে হয় না। তবে তো রান রেট বাড়ানোর ম্যাচে আফগানদের কাছে ওরকম হেনস্তা হতো না ভারতকে। আবার তেমনি শুরুর ১০ ওভার প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে পারলে বাংলাদেশ তো যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখে। শুরুতে উইকেট না হারালে আড়াই শর উইকেটে যেমন তিন শ করার সামর্থ্য আছে, তেমনি শুরুটা ভালো হলে তিন শর উইকেটে প্রতিপক্ষকে আড়াই শ রানে থামিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট।

আজ কোনটা ঘটবে বাংলাদেশের ভাগ্যে? সেটিও নির্ভরশীল শুরুর ওই ১০ ওভারে, যে অংশে ‘সতর্কতা’কেই সাফল্যের মূলমন্ত্র মনে করছেন বাংলাদেশ দলের সবাই, আসল এবং নকল হেড কোচসহ!

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ