বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৫০
সার্কাসের হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, হাতি-মাহুত আটক, জরিমানা বাজেট বইতে উঠে এসেছে মনিকার এখন নিজের থাকার একটা আশ্রয় হয়েছে এটাই শান্তি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলছে ভোট আর দুই মামলায় জামিন হলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন : মওদুদ মাশরাফিদের ফের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, সাকিব-লিটনের প্রশংসা সোনার দাম কমছে নওগাঁয় ৯৩৩ কোটি টাকার আম উৎপাদন

২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ল দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কাস্টমস আইনের খসড়ারও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বিশেষ আইনের একটা মেয়াদ থাকে, উল্লিখিত আইনটির মেয়াদ গত এপ্রিল মাসে শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু আইনটির কার্যকারিতা এখনো প্রয়োজন মনে করায় সরকার এর মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, অনেক স্পর্শকাতর মামলা আছে, যেগুলো বিচার দ্রুত হওয়ার জন্য আইনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।

বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন প্রণয়ন করেছিল। আইনে বলা হয়েছিল, এই আইনটি আগামী ১৭ বছর পর্যন্ত চলবে। সেই ১৭ বছর শেষ হয়েছে গত এপ্রিলে। এখন ১৭-এর স্থলে সংশোধন করে ২২ স্থাপন করা হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে ২২ বছর শেষ হবে ২০২৪ সালে। অর্থাৎ এখন এই আইনটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জোট সরকারের আমলে প্রণীত আইনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতি সাধন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও সন্ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র কেনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধ দ্রুততার সঙ্গে বিচারের জন্য এ আইন।

এই আইনে দোষী প্রমাণিত হলে দুই থেকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। প্রতি জেলায় গঠিত এক বা একাধিক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ আইনের মামলার বিচার চলে। দ্রুত বিচার আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তি করার বিধান আছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরো ৬০ দিন সময় পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, আইনটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন আইনের মতোই আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এ আইনের ভেতরে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘কাস্টমস আইন-২০১৯’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, এই আইনের খসড়াটি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি আর পাস হয়নি। তাই এখন আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আবারও মন্ত্রিসভার অনুমোদনে সংসদে পাঠানো হচ্ছে। এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এ ছাড়া গতকালের  বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক নৌ দিবস’কে ‘বিশ্ব নৌ দিবস’ হিসেবে অভিহিত করা এবং দিবসটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপন বা পালনসংক্রান্ত পরিপত্রের ‘গ’ শ্রেণির পরিবর্তে ‘খ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে বৈঠকে প্রয়াত শিল্পী খালিদ হোসেন ও সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী ফুটবল দলকে এবং আয়ারল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় কাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।’সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ