বৃহস্পতিবার-২০শে জুন, ২০১৯ ইং-৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:০০
সোহেল তাজের অপহৃত ভাগ্নে উদ্ধার মাদারীপুরের অহিদুল হত্যা : চারজনের যাবজ্জীবন উত্তরার সাতটি অ্যাভিনিউতে বন্ধ হচ্ছে রিকশা-লেগুনা জলবায়ু বাজেটে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি বিদেশে ২১ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী এশিয়া প্যাসিফিকে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের, এডিবির প্রতিবেদন পরিবেশ মেলা, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

হাতীবান্ধা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বহোল অবস্তা

1 week ago , বিভাগ : রংপুর,

 

মো: লাভলু শেখ, লালমনিরহাট, তাং – ১২ জুন, ২০১৯ ইং
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২টি ইউনিয়ন থেকে সাধারণ মানুষ আসে স্বাস্থ্য সেবা নিতে। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শর্য্যা থেকে ৫০ শর্য্যায় উন্নীত হলেও কিন্তু উন্নতি হয়নি চিকিৎসা সেবায়। এতে করে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীসহ স্বজনদের। নানা অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জরুরী বিভাগে সব সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। মালি অব নাইটগার্ড দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বিভিন্ন ওয়ার্ডের টয়লেটের মলমূত্র যাওয়ার পাইপগুলো ফাটা ও ভাঙা থাকায় চারপাশে ছড়িয়ে থাকে মলমূত্র। ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব মলমূত্রের ওপর বসছে নানা ধরনের কীটপতঙ্গ। যা থেকে ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু। মাছি, কাক, কুকুর ও বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণী তার ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু এই জীবাণু থেকে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েড-জাতীয় রোগ হতে পারে বলে অভিযোগ রোগীদের সাথে আসা স্বজনদের।
সরেজমিনে গেলে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাক-মুখ চেপে ধরে বসে থাকতে দেখা গেছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। শিশু ওয়ার্ডের টয়লেটের কাছে যেতেই দেখা যায় একজন বমি করছেন। তাঁর নাম তহমিনা খাতুন। তিনি বলেন, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশের কারণের আমার বমি হচ্ছে। অপরদিকে আফরোজা আক্তার নামে এক নারী বলেন, ময়লা ফেলার জন্য বেডের নিচে বালতি থাকে না। এ কারণে এখানে-সেখানে ফেলতে হয় পচা ভাত। এগুলো আবার হাসপাতালের লোকজন ঠিকমতো পরিষ্কারও করে না। পাশে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা ২ টি বিভাগ। ওই বিভাগের টয়লেটসহ জামা-কাপড় পরিষ্কার এবং গোসল করার স্থান এতটাই স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা যে, সেখানে বেশিণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। একই চিত্র হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডেরও। বারান্দায় ছড়ানো-ছিটানো ভাতসহ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। গ্রিলের বাইরে থেকে আসছে পচা গন্ধ। কয়েকটা বিড়ালও ওয়ার্ডের ভেতরেই ঘোরাঘুরি করছে। দ্বিতীয় তলায় মহিলা ওয়ার্ডের শৌচাগারসহ আশপাশে ময়লা এবং পচা ভাতে ভরে আছে নর্দমা।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, এসব দেখ ভাল করার দায়িত্ব আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাঈম হাসান নয়ন থাকলেও তিনি সকালে ও রাতে একবার করে এসে শুধু রোগী দেখে চলে যান। দিনের বাকিটা সময় প্রাইভেটে রোগী দেখেন এবং কিনিকে বিভিন্ন অপারেশনে ব্যস্ত থাকেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আমি ভাড়ায় কিনারের কাজ করি। যিনি সরকারী কিনার তিনি বেতন তুলেন শুধু। একা একা আর পেরে উঠছি না।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাঈম হাসান নয়ন বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছি। আমি আবাসিক মেডিকেল অফিসার বেতন সুবিধা পাই না। তাই বাইরে রোগী দেখতেই পারি। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। হাসপাতালে কিছুটা নোংরা পরিবেশ আছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রমজান আলী বলেন, হাসপাতাল এমন একটি জায়গা, যেখানে একটু-আধটু দুর্গন্ধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। জনবল সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালে সংস্কারের কাজ চলছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে এ রকম অবস্থা থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ