বুধবার-২৬শে জুন, ২০১৯ ইং-১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:১৩
পাইলট অভিনন্দনের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণার দাবি পার্লামেন্টে! অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি’র মৌলিক ও মানবাধিকার বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা জলঢাকায় ফারাজ হোসেন এর স্মরণে ডিসিআই ও আরএসসির দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা “ বান্দরবানের জেএসএস কর্মীকে গুলি করে হত্যা ডিজিটাল হাজিরা অনিশ্চিত মহেশপুরের ১৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকায় নিয়োগ দেবে সিভিসি ফাইন্যান্স

সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ব্যবসায়ীরা

1 month ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সারা দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে ৪৮২টি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে ভ্যাট আইন ২০১২ নিয়ে সরকারের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বাজেট প্রস্তাব পেশ করার আগের ও পরের পরিস্থিতি তুলনা করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করবে এসব গ্রুপ। সেই প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে এফবিসিসিআই চূড়ান্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং পদক্ষেপ নেবে।

ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও প্রতিবেদন তৈরি করতে এফবিসিসিআই থেকে ৮৪টি চেম্বার এবং ৩৯৮টি অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমাদের কথা দিয়েছেন, আগামী বাজেটে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের কারণে পণ্যের মূল্য, ব্যবসা, শিল্প খাত, সেবা খাত—কোথাও খরচ বাড়বে না। আমরা ব্যবসায়ীরা অর্থমন্ত্রীর কথায় আস্থা রেখেছি। তবে বিষয়গুলো আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এফবিসিসিআই থেকে সদস্য সব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আগামীকাল (শনিবার) বা পরশু (রবিবার) চিঠি পাঠানো হবে। চিঠি প্রস্তুত। এ চিঠিতে প্রতিটি চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের সদস্যদের থেকে দুই বা তিনজন নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে বলা হয়েছে।’

এই ব্যবসায়ী  নেতা বলেন, ‘এ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন থেকে বাজেট পেশ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এর সঙ্গে বাজেট পেশের পরের পরিস্থিতি তুলনা করে বাজেট প্রস্তাব ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে এফবিসিসিআইয়ের কাছে পাঠাবে। এফবিসিসিআইয়ের মূল কমিটির সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি এসব মূল্যায়ন প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে ওই দিনই চূড়ান্ত মতামত তৈরি করে সবাইকে জানাবে। আগামী অর্থবছরে যেহেতু ভ্যাট আইন ২০১২ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের কথা আছে, তাই এবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে ভ্যাট আইনসহ আগামী বাজেট সম্পর্কে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের মতামত পাওয়া যাবে।’

অতীতে ভ্যাট আইন ২০১২ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামে। এবার ব্যবসায়ীদের দাবি অনুসারে ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত না হলে কী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে, তা জানতে চাওয়া হলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ‘সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা সব ব্যবসায়ীকে নিয়েই এফবিসিসিআইয়ের কাজ। এ জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হচ্ছে। রাজপথে আন্দোলন করে নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের কাছে আমরা ব্যবসায়ীরা দাবি জানাব। তবে আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ব্যবসাবান্ধব। তিনি অবশ্যই আমাদের বিষয়গুলো বিবেচনা করে বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করবেন।’

ভ্যাট আইন নিয়ে সাত বছর ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ চলছে। প্রণয়নকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা আইনটির কিছু ধারা সংশোধনের দাবি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। আগামী অর্থবছরে আইনটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আ হ ম মুস্তফা কামাল ভ্যাট আইন সম্পর্কিত ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে ৩১ মার্চ এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে একক হারের পরিবর্তে একাধিক হার, ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩৬ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করা, টার্নওভার করের সীমা তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণে সম্মত হন। এখনো ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যসায়ীদের অনেক দাবি বিশেষভাবে আদায়ের পদ্ধতি, রেয়াতের পরিমাণ, কোন পণ্যে কী হারে ভ্যাট হবে অমীমাংসিত আছে। এসব দাবি আদায়ে এফবিসিসিআই কঠোর অবস্থানে আছে। এরই মধ্যে এনবিআরে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘এফবিসিসিআই এ দেশের ৮৪টি চেম্বার ও ৩৯৮টি অ্যাসোসিয়েশনকে নিয়ে কাজ করে। তাদের দাবি বা প্রয়োজন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ভ্যাট আইন নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের মতামতের মূল্যায়ন করা না হলে আইনটি বাস্তবায়ন উপযোগী হবে না।’ দূরত্ব কমাতে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ১৪ মে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রব্যমূল্য বা ব্যবসার খরচ বাড়বে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত আগামী অর্থবছরে নেওয়া হবে না।

ভ্যাট আইনের যেসব ধারা সংশোধনের প্রয়োজন, তা উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের চিঠিতে বলা হয়, ১৫ শতাংশ ছাড়াও সেবার ক্ষেত্রে বর্তমানের ছয়টি হার ২, ৩, ৪.৫, ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ বিদ্যমান রাখতে হবে। এফবিসিসিআইয়ের দাবির মধ্যে আরো আছে, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মেশিনে, হাতে তৈরি  বিস্কুট ও কেক, পেপার মিলের উৎপাদিত পেপার, আয়রন অ্যান্ড স্টিল, হার্ডওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতের নির্ধারিত ট্যারিফ ভ্যালুর পরিবর্তে সমপরিমাণ ভ্যাটের হার নির্ধারণ করা; বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও বর্তমানের যে অব্যাহতির তালিকা রয়েছে, তা বহাল রাখা; প্যাকেটজাত তরল দুধ, সব ধরনের ভোজ্য কাঁচা মাংস ও কাঁচা মাছ, দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পেঁয়াজ-রসুন, শাকসবজি, নারকেল, বাদাম, কাজুবাদাম, সুপারি, তাজা ফল, মরিচ, আদা, ধনিয়া, হলুদ, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও আখের গুড়, লবণ, ১০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমান পাউরুটি ও বনরুটি, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে প্লাস্টিক দানা, প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য, নিউজপ্রিন্ট, রেশম সুতা, কটন ওয়েস্ট, সব ধরনের কটন গ্রে-ফ্যাব্রিকস, পাটজাত পণ্য, হস্তচালিত লুমে কৃত্রিম আঁশ ও সুতার তৈরি ফ্যাব্রিকস, ১৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের প্লাস্টিক ও রাবারের হাওয়াই চপ্পল ও প্লাস্টিকের পাদুকা, ফাউন্ড্রি ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে উৎপাদিত কড়াই, তাওয়া ও জালের কাঠি, অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যসহ আরো কিছু পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাট পরিশোধে কোনো অনিয়ম হলে কঠিন দণ্ড না দেওয়া; ভ্যাট আদায়ে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে ৯০ দিন সময়ের অতিরিক্ত আরো ৬০ দিন সময় দেওয়া এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমানো।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ