মঙ্গলবার-২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৩৫
ছেলে ধরা আতংক গুজব থেকে সচেতনতা বাড়াতে শহর জুড়ে পুলিশের মাইকিং।। লালপুরে ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির দুর্নীতির দায়ে দুদুকের চার্জশিট দাখিল ॥ ডোমারে আরসিসি রাস্তা নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন। কলাপাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু।। গোবিন্দগঞ্জে বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত শৈলকুপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার!

সভাপতি আলমগীরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সেতুবন্ধনের সদস্যদের

জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ পাখির সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা হিসেবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেতু বন্ধন” এর সভাপতি আলমগীরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সাধারণ সদস্যসহ বিগত কমিটির সদস্যগণ। তারা এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। সেই আবেদন সূত্রে জানা যায়, পাখি সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অভয়াশ্রম তৈরীর অন্যতম উপকরণ মাটির কলস ক্রয় করার জন্য বিগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো: মুসা জঙ্গী সংগঠনটিকে প্রায় ৭ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসময় প্রতিটি কলসের দাম ৩ টাকা হলেও সভাপতি আলমগীর তা ২৫ টাকা দেখিয়ে টাকা নিয়ে যৎ সামান্য কাজ করে বাকি টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন।
একইভাবে ব্যরিস্টার মোখছেদুল ইসলাম কলস বাবদ দিয়েছিলেন ২ হাজার টাকা। পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারও দিয়েছিলেন ২ হাজার টাকা। এ টাকাও তসরুপ করেন আলমগীর। সে সাথে সাবেক ইউএনও বজলুর রশীদ সেতুবন্ধনের সদস্যদের বৃক্ষ রোপনের জন্য ৫০টি গাছের চারা দেন। এ গাছগুলো সদস্যদের মধ্যে বিতরণ না করে বা সংগঠনের নামে কোন স্থানে না লাগিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে পুকুরপাড়ে লাগিয়েছেন।
এদিকে সংগঠনের অনুষ্ঠানের জন্য টি শার্ট তৈরীর বাজেট রাখা হয় ৪ হাজার টাকা। সে টাকা পুরোটাই সভাপতি নিয়ে মাত্র ২ হাজার ২ শ’ টাকায় তৈরী পোষাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ব্লাক শো রুম থেকে টি শার্ট নিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে আলমগীর। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগঠনের নামে টাকা উত্তোলন করে তা নিজেই পকেটস্থ করেছে সভাপতি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার দের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শিল্পপতিদের কাছ থেকেও সে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যে টাকার কোন হিসেবে সে সংগঠনের সদস্যদের কাছে কখনই দেয়নি।
এ নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা বার বার হিসেব চাইলেও সভাপতি আলমগীর তা দিতে গড়িমসি করায় ২০১৬ সালে জরুরী মিটিং ডাকা হয়। সে মিটিং এ আলমগীল উপস্থিত হলেও কোন হিসেব না দিয়েই স্থান ত্যাগ করে। পরে আবারও উপদেষ্টা রইজ উদ্দিন রকির মাধ্যমে মিটিং ডাকা হলে ২০১৭ সালে পুরো হিসেব ও টাকা দেয়ার আশ^াস দেয়। কিন্তু আজাবধি সে কোন প্রকার হিসেব দেয়নি। বরং হিসেব চাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে যারা সেতুবন্ধনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে সেই সব সদস্য ও উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে বাদ দিয়ে তার নিজের চাহিদা মত কমিটি তৈরী করে সংগঠনের নামে টাকা আত্মসাতের খেলা অব্যাহত রেখেছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় ২০১৫ সালে রফিকুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, আফরোজ আহমেদ সিদ্দিকী টুইংকেল, ফাহিম, হিমেল, ফয়সাল, রাফি, রাশেদ ও সোহাগসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে সংগঠনটির দায়িত্ব নিয়ে আবারও কার্যক্রম শুরু করে। এতে শুরু হয় সংগঠনের নতুন পথচলা। সকলের সহযোগিতায় সংগঠনটি সৈয়দপুর সহ নীলফামারী, দিনাজপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে পাখি রক্ষার কাজ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। এ সুনামকে কাজে লাগিয়ে সভাপতি আলমগীর হোসেন সংঠনটিকে নিজেস্ব সম্পদে পরিণত করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে নিবিত্ত হয়। এতে বাধা দেয়ায় দূর্দিনের সেইসব সংগঠকে বাদ দিয়ে আলমগীর নিজেস্ব পকেট কমিটি করে সংঠগনটির মাধ্যমে আখের গোছানোর কাজে ব্যবহার করে চলেছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সিদ্ধান্ত ছিল যে সংগঠনটি সৈয়দপুর পৌরসভা তথা শহর কেন্দ্রীক পরিচালিত হবে। কিন্তু সে সেতুবন্ধনের নামে পাঠাগার গড়ে তুলেছে তার গ্রামের বাড়ি খালিশা বেলপুকর গ্রামে। এতে করে সে তার ইচ্ছেমত সংগঠন পরিচালনা করে একইসাথে আরও কয়েকটি সংগঠন একইনামে খাতা কলমে গড়ে তুলে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী অর্থ আত্মসাতের পায়তার শুরু করেছে। যে সংগঠনগুলোর সরেজমিনে তথা মাঠে ময়দানে কোন রকম কার্যক্রম তো দূরের কথা অফিস বা সংগঠনের সাইন বোর্ড টুকুই কোথাও বিদ্যমান নেই।
তাই সেতুবন্ধনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে যারা সদস্য ছিলেন তারা সংঠগনটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সভাপতি আলমগীরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। নতুবা সভাপতি আলমগীর হোসেন এই সংগঠনকে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করে নিজের আর্থিক বিপ্লব ঘটালেও সংগঠনটির যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়ন কোন দিনই হবেনা। এতে আলমগীর নিজে উপকৃত হলেও সংগঠন বা সংশ্লিষ্ট সরকারী বেসরকারী দপ্তর তথা কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই উপকৃত হবেনা। এমনকি যে পাখি কে উপলক্ষ করে সংঠগন সেই পাখি তথা বন্য প্রাণীকুলও তার দ্বারা বিন্দু মাত্র উপকার পাবেনা বলেই তাদের বিশ^াস ও আশংকা।
অচিরেই এ ব্যাপারে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলেও অভিযোগকারী সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি সভাপতি আলমগীরের বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরতে নানা কর্মসূচী হাতে নিবে বলেও জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ