বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:৪৭
প্রেমের টানে স্বামী-সংসার ফেলে খুলনায় জার্মান নারী যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে স্বর্ণকার নিহত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনা নাগরিকের মৃত্যু ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে ডুমুরিয়ার এএসআই সাময়িক বরখাস্ত ১৬ ঘণ্টা পর নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার

সবজি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৪০%

2 weeks ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : দেশের রপ্তানি আয় ও পণ্য বহুমুখীকরণ নিয়ে সরকার প্রণোদনা দিলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রপ্তানিকারকদের। তবে এসব প্রতিবন্ধকতার পরও দেশের সবজি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বিমান ভাড়া সহনীয় করা গেলে সবজি ও ফলমূল রপ্তানি তিন গুণ বাড়বে।

সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইউরোপের বাজারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় দেশের সবজি রপ্তানি আবারও বেড়েছে। গত ১০ মাসে রপ্তানির এই আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশের মতো। এ সময় সবজি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে আট কোটি ৭৫ লাখ ডলার আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮.৫ শতাংশ। ১০ মাসে ইউরোপের বাজারে সবজি রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ ডলার।

উদ্যোক্তারা জানান, শিম, বেগুন, বরবটি, পটোল, নানা ধরনের সবজির বেশ কদর আছে ইউরোপের বাজারে। একে অবলম্বন করে দুই দশক ধরে সবজি রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে। তবে ২০১৫ সালে পোকা-মাকড় ও কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়ায় এসব সবজিকে নন কমপ্লায়েন্স ঘোষণা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর পরই সেখানে বন্ধ হয়ে যায় রপ্তানি। তবে চার বছর বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বর থেকে আবারও ইউরোপের বাজারে সবজি পাঠানো শুরু করেছে দেশের সবজি রপ্তানিকারকরা।

তাঁরা জানান, পানসহ কয়েকটি শাক-সবজিতে কীটনাশক পাওয়া যাওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ থেকেই দেশের সবজি রপ্তানি বন্ধ রাখে। এসব সমস্যা রপ্তানিকারকরা সচেতনভাবে সমাধান করার ফলে আবারও রপ্তানি বাজার খুলে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে এর সুফলও আসতে শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে কাতারেও বাংলাদেশের ফলমূলের রপ্তানি আয় বেড়েছে উল্লেখ করে ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, কাতারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একটি সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যার কারণে কাতারের বেশির ভাগ সবজি ও ফলমূল আসত দুবাই ও সৌদি আরব থেকে। তাদের সম্পর্কের টানাপড়েনে দুবাই থেকে কাতারে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বেড়েছে তিন গুণের বেশি।

তিনি জানান, রপ্তানিকারকরা পরিবহন খরচে এবং বিমানের কার্গোতে চাহিদামতো জায়গা না পাওয়ায় সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছেন না। বর্তমানে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে সেখানে জায়গা পেতে দেড় গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয় কাঁচামাল ও সবজি রপ্তানিকারকদের।

সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ভারতের মুদ্রায় ৯০ রুপি যা বাংলাদেশের ১০৫ থেকে ১১০ টাকা হয়। আমাদের এখানে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা প্রতি কেজিতে পরিবহন খরচ দিতে হয়। এই ৫০ থেকে ৬০ টাকার ফারাক পোষাতে কঠিন হয়ে পড়ে রপ্তানিকারকদের।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যেও বাংলাদেশের সবজির অনেক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর অর্ধেকও দেশের রপ্তানিকারকরা পাঠাতে পারে না। এর প্রধান কারণ পরিবহন খরচ বেশি। আমাদের ভাড়া যদি অন্য দেশগুলোর মতো সমসাময়িক থাকে। তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন যা আছে এর তিন গুণ বেড়ে যাবে।

এদিকে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু সবজিই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিও বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। এ সময় কৃষিজাত পণ্যে রপ্তানি হয় ১৯ কোটি ডলারের বেশি। গত ১০ মাসে সব মিলিয়ে ৭৯ কোটি ডলারের বেশি কৃষিপণ্যে রপ্তানি হয়েছে। আয় বেড়েছে ৪৫.৬ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ