বুধবার-২৬শে জুন, ২০১৯ ইং-১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:৪৪
পাইলট অভিনন্দনের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণার দাবি পার্লামেন্টে! অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি’র মৌলিক ও মানবাধিকার বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা জলঢাকায় ফারাজ হোসেন এর স্মরণে ডিসিআই ও আরএসসির দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা “ বান্দরবানের জেএসএস কর্মীকে গুলি করে হত্যা ডিজিটাল হাজিরা অনিশ্চিত মহেশপুরের ১৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকায় নিয়োগ দেবে সিভিসি ফাইন্যান্স

শ্রীপুরে নামফলকের জন্য কাঁদছেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। 

2 weeks ago , বিভাগ : ঢাকা,

মোস্তাফিজুর রহমান,গাজীপুর প্রতিনিধি।

টাকার জন্য নয়, শুধুমাত্র একটি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছিলাম। পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে একটি পতাকা বাঁচাতে শহীদ হওয়ার জন্যও তৈরী ছিলাম। কিন্তু আজও আমি কতিপয় রাজাকারদের নির্যাতনের শিকার। কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন খানের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক খান (৭০)।

জানা যায়, গত ৭ জুন শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার নিজের নামে নামকরণ করা “বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক খান ” সড়কে দেয়া নামফলকটি ভেঙ্গে দেয়। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

৮ জুন শনিবার সকালে ভাঙ্গা নামফলকের সামনে দাড়িয়ে কথা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে।

এসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান,রাজাকারদের নির্যাতনের শিকার মানুষ গুলোর পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আজও রাজাকার মুক্ত হতে পারিনি। মৃত্যুর পর পরবর্তী প্রজন্ম বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে যেন জানতে পারে সেজন্যই বর্তমান সরকার তাদের সন্মানে বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু রাজাকারদের নজর এখনো পড়ে আছে পাক হানাদের দিকে।

থানায় দেয়া সাধারণ ডায়েরি সুত্রে জানা যায়, শ্রীপুর-মাওনা সড়কের পাশে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড ভাংনাহাটি হতে ৬নং ওয়ার্ড পর্যন্ত রাস্তাটিতে নিজের নামে গেজেট ভুক্তি হওয়ার পর নামকরণ করা হয় “বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক খান সড়ক”। পৌরসভা কর্তৃক ২০১৬ সালে এর নামফলক স্থাপন করার কিছুদিন পরই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তা ভেঙ্গে ফেলে।পুনরায় আবেদন করা হলে ফের এ নামফলক স্থাপন করে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত ৭ জুন রাতের কোন এক সময় আবারও ওই নামফলকটি ভেঙ্গে ফেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।

এ ব্যাপারে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুজ্জামান মন্ডল জানান, কারো ব্যক্তিগত আক্রোশে রাস্তায় দেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার নামফলক ভেঙ্গে ফেলা রাজাকারদের কাজ। প্রশাসনের কাছে আবেদন, যেন এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া গ্রহন করা হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য শাজাহান মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফিন জানান ,বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তায় দেয়া নামফলক ভেঙ্গে ফেলা কোন সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ