বুধবার-২২শে মে, ২০১৯ ইং-৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:০৩
ফুলবাড়ীতে ব্রি ধান ৫০ উৎপাদনে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত॥ চিরিরবন্দরে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহে কৃষকের নাম বাছাই জলঢাকায় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখায় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সৈয়দপুর পৌরসভার বৃত্তি পরীক্ষার সনদপত্র ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত ফুলছড়িতে  ৫ প্রতিষ্ঠানের ৭ হাজার টাকা জরিমানা  গোবিন্দগঞ্জে গ্রীল কাটার যন্ত্রপাতি ও ইয়াবাসহ ২ জন আটক

শ্রীপুরে দখলবাজদের কবলে অর্ধশতাধিক সরকারী পুকুর

আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে কোন সবজির ক্ষেত। বাস্তবে ভ’মি অফিসের তালিকাভুক্ত সরকারী পুকুর । দিনের পর দিন এসব পুকুরে মাটি ফেলে ধীরে ধীরে এর আয়তন কমাচ্ছে স্থানীয় দখলবাজ প্রভাবশালীরা। পুকুরগুলো ভরাট করে কেই আবার বানাচ্ছেন বাড়ি ঘর আবার কেউ তৈরী করছেন চাষের জমি।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দখলবাজিতে অর্ধশতাধিক সরকারী খাস পুকুরের অস্তিত্ব বিলীণ হওয়ার পথে। এতে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট সরকারী পুকুর রয়েছে ১৯৮টি এর মধ্যে বর্তমানে ইজারা দেয়া আছে ১৩৬টির। বিভিন্ন কারনে ইজারা বহির্ভূত রয়েছে ৬২টি সরকারী খাস পুকুর যার অস্তিত্ব সিংহভাগেই কাগজে কলমে রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়,উপজেলার মুলাইদ মৌজার ১নং খতিয়ানের সাবেক ৮ ও আর এস ১০ দাগের ৩ একর ২০শতাংশ আয়তনের সরকারী পুকুরে মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতো এলাকার লোকজন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ১২ বছর যাবত উক্ত পুকুর ইজারা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন । আর এ সুযোগে স্থানীয় ব্যক্তিরা মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করে বসতবাড়ির নির্মাণ করার উপযোগী করছেন । উক্ত পুকুরটি বিগত ১২ বছর আগে সর্বশেষ ইজারার দর ছিল ১ল ৮০হাজার টাকা।

এদিকে মাওনা মৌজার ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ১ নং খতিয়ানের সাবেক ১৩ আর এস ৫২৪১ দাগের ৪ একর ৪০ শতাংশ আয়তনের সরকারী এই পুকুরটি তে শুরু হয়েছে দখল যজ্ঞ। স্থানীয় একটি চক্র পুকুর ইজারা নিয়ে পুকুর পাড়ের সরকারী জমি বিভিন্ন ব্যক্তিদের অনুকুলে বিক্রি করে দখল হস্তান্তর করছেন।
একইভাবে ইতিমধ্যে দখলে ভরাট হয়ে গেছে টেপির বাড়ী মৌজার এসএ ২৭০ আর এস ২৪৯২ দাগের ৩ একর আয়তনের খাস পুকুর। যা পরবর্তীতে একটি কারখানা জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে নির্দ্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে সরকার হতে রেজিষ্টি করে নেন।
শ্রীপুর মৌজার এসএ ১৭৫৫ আর এস ২০০৫ দাগের প্রায় ৩ একর ৭১শতাংশ আয়তন বিশিষ্ট সরকারী পুকুরটির আংশিক ভরাট করেছে ফকিরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গ্রীন ভিউ রিসোর্ট। বর্তমানে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় উক্ত পুকুর ভরাট বন্ধ আছে।
সরকারী এই পুকুরগুলো ভরাট হচ্ছে অভিনব পন্থায় যেখানে সরাসরি জড়িত থাকে স্থানীয় ভূমি অফিস । প্রথমে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে ইজারার তালিকা থেকে পুকুরের নাম বাদ ইজারবহির্ভূত এসব সরকারী পুকুরের অধিকাংশের কোথাও শিল্পকারখানার কর্তৃপক্ষের আবার কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে।

সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ অনুযায়ী ২০একর পর্যন্ত জলমহাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের । এেেত্র ৩ বছর পর পর প্রতিটি পুকুর ইজারা দেওয়ার বিধি বিধান রয়েছে। অথচ সরকারী এসব সম্পতি প্রশাসনের যোগ সাজসে ইজারার বাহিরে রেখে অবৈধ দখলে সহায়তা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী আনোয়ার হোসেন জানান,বিভিন্ন এলাকার পুকুরগুলো এভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শ্রীপুরে এখন অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে সরকারী খাস পুকুর। এতে পরিবেশ তাঁর ভারসাম্য হারাচ্ছে। শিল্প কারখানা সমৃদ্ধ একটি উপজেলা বর্তমানে ৩৫০ এর উপরে বড়,মাঝারী, ছোট শিল্প কারখানা রয়েছে । এসব শিল্প কারখানার অগ্নীনির্বাপন ব্যবস্থার জন্য এসব জলাশায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। শিল্পায়নের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের কবল হতে সরকারী পুকুর রা করা জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানী করে থাকে ।

এ বিষয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার জানান, এভাবে জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। কারন অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার প্রধান অনুষঙ্গই হচ্ছে পানি।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড.দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বেশ কিছু পুকুর ভরাট হয়ে মৎস্য চাষের উপযোগী না থাকায় ইজারা দেয়া যাচ্ছে না।এগুলোর তালিকা তৈরী করে পুণ:খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ