বুধবার-১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং-২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:১১
চিরিরবন্দরে এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা রাণীরবন্দর তাঁত বোর্ডের পিয়নের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ডোমারে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন। মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে – আ,ক,ম মোজাম্মেল হক—এমপি শৈলকুপায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে মৎস অফিসের সংবাদ সম্মেলন সৈয়দপুরে ছয় কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৩২ জন

শৈলকুপা জুড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের হিড়িক

শৈলকুপা প্রতিনিধি:
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন নদীর বুক থেকে শতাধিক ট্রাক বালু ও মাটি অবৈধভাবে উত্তোলনের মহা উৎসব লেগেছে। মাটি ও বালু শ্রমিকের পাশাপাশি সেখানে ভেকু ও ড্রেজার ম্যাশিনের মাধ্যমেও নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে দেদারছে। এতে করে ফসলি জমি ও বসতবাড়ী হুমকির মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে ও নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে আশপাশ এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, শেখপাড়া, লাঙ্গলবাধ, আবাইপুর, মাজদিয়া, সুবিদ্দা গোবিন্দপুর এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত শত শত ট্রাক অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
প্রতিদিন সব মিলিয়ে প্রায় কয়েক শত বালু ও মাটিবাহী ট্রাক শৈলকুপার রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ধুলাবালিতে অতিষ্ট হচ্ছে সাধারণ বসতি ও বাজারের দোকানিরা। রাস্তায় চলাচলে চরম ঝুকিতে রয়েছে স্কুলগামী শিার্থী ও শিশুরা।
বাজারের প্রধান সড়কে থাকা ঔষুধ, হোটেল, মুদিসহ বিভিন্ন খাদ্য জাতীয় দোকানীরা প্রভাবশালীদের দাপটে নির্বিকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। নদীতে ভেকু মেশিন লাগিয়ে গাড়ী ভর্তি বালি তুলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইটভাটা, রোড, ব্রীজ কালভার্টসহ পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন ও তার ভাই ইউপি সদস্য আলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চিন্তপুর নদী থেকে অবৈধভাবে শ্রমিক ও ভেকু এবং ড্রেজার লাগিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। সুবিদ্দা গোবিন্দপুর গড়াই নদীর চর থেকে ইউপি সদস্য খেলাফত প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছে। মাঝদিয়া গড়াই নদীর চর থেকে মিলন হোসেন মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে ড্রেজার, ভেকু মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছে। বোয়ালিয়া ও শেখপাড়া এলাকায় ভেকু মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে মুকুল নামের এক ব্যক্তি। এছাড়াও উপজেলার লাঙ্গলবাধ ও আবাইপুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর বুক থেকে প্রতিনিয়তই বালু উত্তোলন করছে।
ভোর অন্ধকার থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ফিটনেস বিহীন ছোট বড় নানা প্রকার যানবাহনে ইটভাটাসহ নদীর এ বালি ও ফসলী জমির মাটি কেটে বিভিন্ন যায়গায় বিক্রি করে থাকে।
বালি ব্যবসায়ীদের ফিটনেস বিহীন গাড়ী অদ ড্রাইভাররা বেপরোয় চালায়। প্রতি বছর এসব বালি বোঝাই গাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক প্রাণ হারানোর রেকর্ড রয়েছে। এসব ট্রাকের কারনে রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে আর বিকট শব্দ, ধুলি ধোয়ার কমতি নেই। হোটেল ও খাদ্যদ্রব্য বিক্রেতাদের সাথে প্রায়ই ড্রাইভার ও সাধারণ মানুষের বাকবিতন্ডা হয়। ব্যাংক, বীমা, স্কুল-কলেজের প্রধান সড়কের দুপাশ জুড়ে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীদের কষ্টের সীমা নেই। দূর্ভোগ চরমে ওঠে যখন একমুখি এ সরু রাস্তায় কোন বালি বোঝাই গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। ছোট খাটো দূর্ঘটনা ও যানজট যেন এ রাস্তার নিয়মিত চিত্র। বালু ব্যবসায়ীরা সরকারি দলের প্রভাবশালী হওয়ার কারনে স্থানীয় জনসাধারণ ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, ভূমিধ্বস, পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি নদীর এ বালিমহল দখলকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামাও কম ঘটেনি। দিনশেষে হাজার হাজার টাকার বালি বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়েও রয়েছে নানা হামলা, মামলা সংঘর্ষের ঘটনা।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি সত্বর অবৈধ বালু মহাল বন্ধ করে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রায় যথাযথ কর্তৃপ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে হাজার হাজার শিার্থীদের স্বাস্থ্য রাসহ বাজারের পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকাবাসীর মুক্তি মিলবে।
অনেক জমির মালিকই জানান, জমির চারিদিক থেকে ভূমি খেকোরা মাটি কেটে নেওয়ায় প্রতিবছর তাদের নিজ নিজ জমি নদীতে বিলিন হয়ে যায়, যেকারনে নিজেদের সংসার চালানোর তাগিদেই তারা মাটি বিক্রি শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। বালুর চরে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, প্রতিটি বড় ট্রাক ৫শ টাকা, ইঞ্জিন চালিত ট্রাক্টর গাড়ী ৪শ টাকা, নাটা হাম্বা ৩৫০ টাকা ও অন্যান্য সকল পরিবহন ২২০ টাকা হারে নিয়মিত বালি বিক্রয় করা হয়। প্রতিবছর বালি ও মাটি কাটার ফলে গড়াই নদীসহ অন্যান্য নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নি:স্ব হয় মানুষ, নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ফসলী জমি।
ভূক্তভোগীরা জানান, নদী পাড়ের ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার আগেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে এখনই প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। দীর্ঘদিন যাবৎ এসকল কর্মকান্ড চললেও প্রশাসন অজ্ঞাত কারনে নির্বিকার রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও গাড়ী এবং ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। আইনের আওতায় এনে এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া আছে।

আপনার মতামত লিখুন

খুলনা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ