মঙ্গলবার-২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:৩২
ছেলে ধরা আতংক গুজব থেকে সচেতনতা বাড়াতে শহর জুড়ে পুলিশের মাইকিং।। লালপুরে ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির দুর্নীতির দায়ে দুদুকের চার্জশিট দাখিল ॥ ডোমারে আরসিসি রাস্তা নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন। কলাপাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু।। গোবিন্দগঞ্জে বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত শৈলকুপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার!

রোহিঙ্গারা অতিদ্রুত ফেরত না গেলে স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের অতিদ্রুত ফেরত না পাঠাতে পারলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। চুক্তির একটিতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে, দুই বছরে মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার নানা টালবাহানা করে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, মিয়ানমারের ১১ লক্ষাধিক নাগরিকের জন্য অনির্দিষ্টকাল অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা দুরূহ ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মৌলিক অধিকারবঞ্চিত এই সকল বাস্তুচ্যুত অধিবাসী স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। তাদের অনেক অভাব-অভিযোগ রয়েছে। এদেরকে অতিদ্রুত ফেরত না পাঠাতে পারলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আমরা প্রথম থেকেই একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগিরকদের ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে মিয়ানমারের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফর করেন। প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার জন্য এরই মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে দুই দেশের সম্মতিক্রমে প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে গত বছর ২৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকরা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি। ফলে ২৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপি-জামায়াতের সময় দেশ দুর্নীতির চক্রে নিপতিত : সরকারি দলের সদস্য মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল ঠিক সে সময়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে আমাদের অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ২১ বছর ধরে চলে সামরিক ও স্বৈরশাসকের লুটপাটতন্ত্র। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর দেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।’ তিন আরো বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যু দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। আবার দুর্নীতির চক্রে নিপতিত হয় দেশ। হাওয়া ভবনের নামে তারেক জিয়া চালাতে থাকে লুটপাট। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকের প্রায় সবগুলোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। আমরা আবার দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য মনোনিবেশ করি। বিগত ১০ বছর ধরে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’

পাঁচ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থান : সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার দেশের বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০)-এর কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ তিনি জানান, টেকসই উপায়ে মাঝারি ও চরম দারিদ্র্য নিরসনের সর্বোত্কৃষ্ট উপায় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রকৃত মজুরি প্রদান।

বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি : বিকল্পধারা বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ খাত ছিল বিদ্যুৎ। নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ক্যাপটিভসহ ২১ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ