- মুক্তিনিউজ24.কম, সত্যের সাথে সারাক্ষণ - https://www.muktinews24.com -

রাশিয়ায় বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র প্রকল্পে এক লাখ কোটি টাকা লগ্নির মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি হওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরেক ধাপ এগিয়েছে দুই দেশের মধ্যে আন্ত সরকার কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে। এ কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা হাতছাড়া করতে চায় না বাংলাদেশ। সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে এরই মধ্যে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। ২০ নভেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আলোচনা হয়, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মানবসম্পদ নেওয়ার আগ্রহ আছে রাশিয়ার। সে ক্ষেত্রে বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে যদি রূপ দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে রাশিয়া হতে পারে জনশক্তি পাঠানোর নতুন দেশ। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে রাশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ায় কোন কোন পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব, রাশিয়ার বাজারে চাহিদা আছে এমন পণ্য চিহ্নিত করে বের করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ইআরডির ইউরোপ শাখার যুগ্ম সচিব খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্ত সরকার কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় বাণিজ্য বাড়ানোর একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার আন্ত সরকার কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। দুই বছর আগে এই কমিশন গঠিত হলেও উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক আন্ত সরকার কমিশনের প্রথম বৈঠক হয়েছিল গত ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর রাশিয়ার মস্কোতে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। প্রটোকলে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন ইআরডির সিনিয়র সচিব (সদ্য বিদায়ী) কাজী শফিকুল আযম। রাশিয়া ফেডারেশনের কৃষিবিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার আই ভি শেতাকভ সই করেন। মূলত সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবেই গত ২০ নভেম্বর আন্ত মন্ত্রণালয় সভা ডাকে ইআরডি।

ইআরডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার ১০টি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আদান-প্রদান হবে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাওয়া এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসম্পদ থেকে মৎসসম্পদ আহরণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়া। মৎস্যসম্পদ আহরণে রাশিয়া থেকে কী ধরনের সহযোগিতা নেওয়া হয়, সেদিকটি পর্যালোচনা করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের আইটি খাতে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে রাশিয়া সরকার। বাংলাদেশের হাইটেক পার্কসহ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আইটি খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগ কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা দেখতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১৬০ কোটি ডলারের। রাশিয়ায় বাংলাদেশের কোন কোন পণ্যের চাহিদা আছে, সেসব পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল খুঁজতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি পর্যালোচনা করছে রাশিয়া সরকার। আগামী বছর আন্ত সরকার কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরো যেসব খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে— সেগুলো হলো ডেইরি খাত, বিজ্ঞান, পরিবেশ, কৃষি, স্বাস্থ্য, পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ। ইআরডির কর্মকর্তরা বলছেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে রাশিয়ার। যেসব খাতে রাশিয়ার আগ্রহ আছে, সেসব বিনিয়োগ প্রস্তাব কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইআরডি কর্মকর্তারা।

ইআরডির সদ্য বিদায়ী সচিব কাজী শফিকুল আযম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্ত সরকার কমিশন গঠনের মাধ্যমে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতে হবে। কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না এই সম্ভাবনা। রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।’

সূত্র বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসুবিধা বাড়ানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে ব্যাংকিং লেনদেন। দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেন কিভাবে করা যায়, সে উপায় খুঁজছে সরকার। এ ছাড়া বাংলাদেশকে কয়েকটি যাত্রীবাহী বিমান সুপারজেট ১০০ ও এমসি ২১ সরবরাহ করতে যে প্রস্তাব রাশিয়া দিয়েছে, সে প্রস্তাব নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন সৌদি আরব থেকে কালের কণ্ঠকে জানান, দুই দেশের মধ্যে আন্ত সরকার কমিশন গঠনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এটিকে কাজে লাগাতে হবে আমাদের।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন