- মুক্তিনিউজ24.কম, সত্যের সাথে সারাক্ষণ - https://www.muktinews24.com -

মুক্তিযোদ্ধারা নিজ ভিটায় পাবেন ঘর

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত এক বছর আগে নেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে সরে আসছে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের এখন থেকে ফ্ল্যাটের পরিবর্তে একতলা বাসস্থান বা ঘর করে দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা চাইলে ওই ঘর তাঁদের বসতভিটায় হবে। প্রয়োজনে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়েও করা হবে। ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে জটিলতা, পাঁচতলা ভবনে ওঠানামাসহ নানা সমস্যা এড়াতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্পটি বাতিল করতে আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর ২২ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রথম একনেক বৈঠক হচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হবে একনেক সভা। কালেরকন্ঠ

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পটি যেহেতু একনেক সভায় অনুমোদিত, তাই এটি বাতিল করতে হলে আবার একনেক সভায় উঠাতে হবে। সে জন্য আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব উঠানো হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এনায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রস্তাবটি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি শুনেছি। আমাদের কাছে তাদের কথাগুলো যৌক্তিক মনে হয়েছে। প্রকল্পটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব একনেক সভায় উঠানো হবে।’ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কোনো জেলা কিংবা উপজেলায় যখন মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান করে দেওয়া হবে, তখন তা ওই এলাকার সবার চোখে পড়বে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। কিন্তু বহুতল ভবন নির্মাণ করলে তা অনেকের চোখে পড়ত না। তাই ফ্ল্যাটের পরিবর্তে বাসস্থানের সিদ্ধান্ত।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গতকাল শনিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত নিয়ে তাঁদের ফ্ল্যাটের পরিবর্তে ঘর করে দেব।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন করে ১৫ হাজার একতলা ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। একেকটি একতলাবিশিষ্ট বাসস্থান নির্মাণে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। সে হিসাবে ১৫ হাজার বাসস্থান নির্মাণে খরচ হবে তিন হাজার কোটি টাকা। এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে।

মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আট হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত বছর মার্চে। ৭ মার্চের একনেক সভায় দুই হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ৫৩২টি ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, একনেক সভায় পাস হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে। মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, বসতভিটা ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধারা ফ্ল্যাটে উঠতে আগ্রহী নন। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতেই থাকতে চান তাঁরা। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, নিজের বসতভিটায় অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ওই সব স্মৃতি নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে চান তাঁরা।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে যে আট হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ৫৩২টি ভবনে হওয়ার কথা। প্রতিটি ভবন পাঁচতলা করে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে লিফটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অনেক বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছেন, বহুতল ভবনে ওঠানামা করতে তাঁদের অসুবিধা হবে। এত ওপরে ভবনে উঠতে তাঁরা এখন অক্ষম। সে জন্য অনেকে বহুতল ভবনে ওঠার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। ফ্ল্যাটে ওঠার পর কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন কেউ কেউ। ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও সমস্যার কথা উঠে এসেছে মাঠপর্যায় থেকে। এ ছাড়া শুধু ফ্ল্যাটে উঠলেই হবে না, তখন কর্মসংস্থানের কথা উঠবে। কিন্তু ফ্ল্যাটে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বহুতল ভবন নির্মাণের পর তার রক্ষণাবেক্ষণের টাকা কোত্থেকে জোগান দেওয়া হবে এসব কারণে সরকার ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। সরকার এখন ফ্ল্যাটের পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ বসতভিটায় কিংবা প্রয়োজনে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে একতলাবিশিষ্ট বাসস্থান করে দেবে।

একনেক পুনর্গঠন : এদিকে একনেক পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকের চেয়ারপারসন এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিকল্প চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। ১৪ সদস্যের কমিটির অন্যরা হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং ভূমিমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন