বৃহস্পতিবার-২০শে জুন, ২০১৯ ইং-৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৪৭
সোহেল তাজের অপহৃত ভাগ্নে উদ্ধার মাদারীপুরের অহিদুল হত্যা : চারজনের যাবজ্জীবন উত্তরার সাতটি অ্যাভিনিউতে বন্ধ হচ্ছে রিকশা-লেগুনা জলবায়ু বাজেটে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি বিদেশে ২১ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী এশিয়া প্যাসিফিকে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের, এডিবির প্রতিবেদন পরিবেশ মেলা, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বড়পুকুরিয়াতে ২০গ্রাম সমন্বয় কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ॥

 

মোঃ আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া এলাকায় কয়লা খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে গত ১০জুন সন্ধা ৬টায় বড়পুকুরিয়া পাতরাপাড়া গ্রামে ২০গ্রাম সমন্বয় কমিটির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাঁচশতাধিক লোকের উপস্থিতিতে এই মতবিনিময় সভায় মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে ও মোঃ মামুনুর রশীদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২০গ্রাম সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মোঃ মশিউর রহমান বুলবুল বলেন, ২০১৬ সাল থেকে কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ভূগর্ভে মাইনিং এর কারণে বসত-বাড়িতে ফাঁটলের জন্য খনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা ৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি। খনি কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই এলাকার মানুষের জন্য ঈদগাহ্ মাঠের ব্যবস্থা করেছি,রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করেছি। আবারো আপনাদের সাথে নিয়ে বসত-বাড়িতে যে নতুন ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে,তার জন্য ক্ষতিপূরণের দাবীতে খনি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবী জানাবো। কিন্তু আমাদের এই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তি স্বার্থে ২০গ্রাম সমন্বয় কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহনের নামে ৩২৭কোটি টাকার প্যাকেজ যখন ১৯০ কোটি টাকায় নেমে যায় তখনও তথাকথিত ওই ভূইফোড় সংগঠন চুপ থেকেছে। বর্তমানে এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে বোকা বানিয়ে বিল্ডিং কোড না মেনে ইমারত বানিয়ে নিজে লাভবান হবার চেষ্ঠা চালিয়ে যাওয়া এসব স্বার্থান্বেষী মহল এই এলাকার মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। তিনি বলেন,আমরা সোচ্চার না হলে আবারও ঠকবো। ২০গ্রাম সমন্বয় কমিটির অনেক দাবীই কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে,মাঝখানে কিছু ভূইফোড় কমিটি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর উদ্দ্যেশে বলেন,নতুন সার্ভে অনুযায়ী খনির যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই সার্ভে অনুযায়ী খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে। আমরা জমির ন্যায্য মূল্য ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই খনিতে কর্মসংস্থানের যৌক্তিক দাবী আদায় করে ছাড়বো।
মশিউর রহমান বুলবুল চক্রান্তকারীদের কথায় কর্ণপাত না করার আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের উদ্দ্যেশে বলেন,আমরা খনির বিপক্ষে নই,তবে অতীতে যেমন খনি কর্তৃপক্ষ মাইনিং সিটির নামে বসবাসের অযোগ্য আবাসন প্রকল্প বানিয়েছে,এবার তা হতে দেবনা। জমির সঠিক মূল্য দিলেই সরকারের সাথে আছি নইলে নয়।এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জাতীর পার্টিও কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ সোলায়মান সামী, মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম, পাতিগ্রামের মোঃ মতিয়ার রহমান,পাতরাপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার সাইদুল ইসলাম,কাজিপাড়া গ্রামের মোঃ বেলাল হোসেন প্রমূখ।
বক্তারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আমরা রোহিঙ্গা না যে, যখন যেভাবে ইচ্ছা মতো সরানো যাবে,মাইনিং সিটির নামে সরকার যে আবাসন করেছে তাতে কোন মানুষ বসবাস করতে পারবেনা, গরু ছাগড় ছাড়া। তারা বলেন, এখন আর এই এলাকার মানুষ বোকা নেই যে, প্রথম পর্যায়ে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর নির্বাচনী এলাকার মন্ত্রী যেখানে একর প্রতি জমির মূল্য ২৮লাখ টাকা নির্ধারণ করেছিলেন সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের দেয়া হয়েছে একর প্রতি ২০লাখ টাকা। তাদের সাথে প্রতারোনা করেছেন এই এলাকার মন্ত্রী। তার কথা মানুষ আর বিশ্বাস করে না। কোথায় মাইনিং সিটি আর কোথায় গরুর-ছাগলের বাসস্থান। এই এলাকার মানুষ এবার তা হতে দেবেনা, এবার ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকরা জমির ন্যায্য মূল্য নিয়েই ছাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ