শুক্রবার-২৪শে মে, ২০১৯ ইং-১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:১৬
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে দিনাজপুর রাজবাটি আদর্শ মানব কল্যান সংঘের গ্রাহক সমাবেশ ও ইফতার অনুষ্ঠিত শুল্ক বৃদ্ধির ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ মোদিকে অভিনন্দন শেখ হাসিনার অবশেষে কাল হচ্ছে প্রথম ধাপের প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস উদ্বোধনে উত্তরের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে : সেতুমন্ত্রী মাদকসহ কারারী ও জেল সুপারের ড্রাইভার আটক

ব্যাংকগুলো প্রতিশ্রুতি রাখছে না

3 weeks ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ব্যাংক মালিকরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে (সিঙ্গল ডিজিট) নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে আমানতের সুদহারই ৯ থেকে ১১ শতাংশ। আর ঋণের সুদহার গিয়ে উঠেছে ১৫-১৬ শতাংশ পর্যন্ত। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুদের হার কমার বদলে উল্টো বেড়েই চলেছে। এতে নতুন শিল্প স্থাপন ও চলমান শিল্প সম্প্রসারণে অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন। আর ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সঞ্চয়পত্রের বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ না হওয়ায় তাঁদের তহবিল খরচ বেশি বেড়ে গেছে। এ কারণে ঋণের সুদহারও এক অঙ্কে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও এই চর্চা বিদ্যমান। তবে ব্যাংকগুলো যাতে ঋণের সুদ অযৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য আমানত ও ঋণের সুদ ব্যবধান সর্বোচ্চ কত হতে পারবে সেটি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় এটি ৫ শতাংশ থাকলেও গত বছর থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ৪ শতাংশ হারও বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশি। কিন্তু এই ৪ শতাংশের নির্দেশনাও অনেক ব্যাংকই মানছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে দেশি-বিদেশি ৩২টি ব্যাংকের স্প্রেড (আমানত ও ঋণের সুদ ব্যবধান) এই সীমার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশের বেশি। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ২৬টি ব্যাংকের স্প্রেড সীমার বাইরে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের স্প্রেড সীমার বাইরেই থাকছে। অন্যদিকে মার্চ মাসে অন্তত ২৭টি ব্যাংক তাদের গড় ঋণের সুদহার বাড়িয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতের ছয়টি এবং বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ২১টি।

জানা যায়, ঋণের সুদহার সিঙ্গল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকের মালিকরা গত বছর সরকারের কাছ থেকে একের পর এক সুবিধা আদায় করেন। এরপর গত বছরের জুন মাসে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেন এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু ১ জুলাই থেকে সরকারি চার ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকই তা কার্যকর না করায় একই বছরের ২ আগস্ট তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব, সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট থেকে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ কার্যকর করতে হবে। এরপর আরো কিছু ব্যাংক এই ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর করে। যাদের বেশি ছিল তারাও ধীরে ধীরে ঋণের সুদ কমিয়ে আনছিল; কিন্তু গত বছরের নভেম্বর থেকে ঋণের সুদ আবার বাড়তে শুরু করে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদহার পৃথিবীর কোথাও নেই বলে গত রবিবার জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই দিন তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব কিছু বুঝেশুনে শিল্প ও বাণিজ্য রক্ষা করার জন্য সিঙ্গল ডিজিট সুদহারের কথা বলেছিলেন, তা গ্রহণযোগ্য ছিল। কারণ সিঙ্গল ডিজিটের ওপরে হলে যিনি ঋণ নিয়েছেন তিনি শোধ দিতে পারবেন না। আর যাঁরা দিয়েছেন তাঁরাও পাবেন না। সারা বিশ্বের সঙ্গে সমন্বিত করে শিগগিরই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুদহার নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে উচ্চ সুদহার। এর জন্য গত কয়েক বছর বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তাই বিনিয়োগ বাড়ানোর স্বার্থেই ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা জরুরি। প্রয়োজনে স্প্রেড ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানান তিনি।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস একেক ব্যাংকের একেক রকম। আবার কারো খেলাপি ঋণের হার অনেক বেশি। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারভিত্তিক না হওয়ায় আমানত পেতে ব্যাংকের বেশি সুদ অফার করতে হচ্ছে। এসব কারণে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে এখন বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। কোনোভাবেই এর লাগাম টানা যাচ্ছে না। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদ বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদ বাড়াতে হচ্ছে। ফলে তহবিল ব্যয় বেশি হচ্ছে এবং ঋণের সুদও বেড়ে যাচ্ছে।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ