শুক্রবার-১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:২২
সেবা না পেয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি এ্যম্বুলেন্স ভাংচুর। ফুলবাড়ীতে মৎস্য সপ্তাহ উদ্ভোধন। গোবিন্দগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ- ১ ডোমারে স্কুল ছাত্র সুমন নিখোঁজ সন্ধান চায় পরিবার। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শনিবার বুবলীই থাকছেন শাকিবের ‘বীর’ ছবির নায়িকা ছাতকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’র উদ্বোধন উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবদান ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবদান ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এবারের অধিবেশনে আমি রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি এ সমস্যা সমাধানে মুসলিম বিশ্বসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি। সামগ্রিকভাবে এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহেণের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবদান ও ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুসংহত হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা) নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানসহ সফর নিয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে অংশ নিয়ে আমি সাধারণ বিতর্ক পর্ব, ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের উচ্চ পর্যায়ের সভাসহ সব দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরেছি। চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা আমাদের প্রশংসা করেছেন। স্থান ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ এসব অসহায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষের এই উদারতা ও মহানুভবতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এমন একটি সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযানের ফলে হাজার হাজার নিরীহ রোহিঙ্গা প্রতিদিন প্রাণভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত তিন সপ্তাহে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক। আগে থেকেই চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিল। ফলে বর্তমানে মোট আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমাদের দেশে অবস্থান করছে। এদের খাদ্য, বাসস্থান ও জরুরি সহায়তা সংকুলান এবং এদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা জটিল সংকটের মুখোমুখি। এ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহঙ্গা সমস্যা তুলে ধরা ও এর সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে যে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন, সেই প্রস্তাবগুলোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আইএলও ও ওইসিডি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হাই-লেভেল ফলোআপ মিটিং অব গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ শীর্ষক বৈঠকে পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পখাতে শ্রম অধিকার রক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সংক্রান্ত গ্লোবাল ডিল ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নের সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া বহুমুখী উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। একই দিনে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে পরিবেশ বিষয়ে একটি গ্লোবার প্যাক্ট গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত একটি শীর্ষ সভায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আপনারা জানেন, এ বছরের এপিলে আমাদের জাতীয় সংসদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছি। বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশের অবদানকে সংসহত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং ফান্ডে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১ লাখ ডলার অনুদান দেওযার ঘোষণা দিয়েছি। এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত ৭ জুলাই পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি গ্রহণ করে। নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আমাদের নীতিগত অবস্থানের কারণে আমরা এই চুক্তিতে সই করেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে এবারের অধিবেশনের এই চুক্তিটিতে সই করেন।’

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ