শুক্রবার-১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৩:৫৪
দুর্নীতিকে অন্যভাবে দেখার উপায় নেই : ওবায়দুল কাদের গোবিন্দগঞ্জে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে বেরি বাঁধ ভেঙে ৩ গ্রাম প্লাবিত : পানিবন্দি ১৫ হাজার লোক শিবগঞ্জে করতোয়া নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পরমাণু সমঝোতা রক্ষার পথ খোলা আছে: ম্যাক্রনকে রুহানি

বাবরের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের জয়, কিউইদের প্রথম হার

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ১৯৯২ বিশ্বকাপের সঙ্গে অদ্ভুত মিল পাকিস্তানের। সেবার প্রথম সাত ম্যাচে পাকিস্তানের ফল হার, জয়, পরিত্যক্ত, হার, হার, জয়, জয়। ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচের ফলও তাই হার, জয়, পরিত্যক্ত, হার, হার, জয়! ১৯৯২ সালের সঙ্গে মিলের এই ধারাবাহিকতায় এবারও সপ্তম ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। বার্মিংহামে মরণ-বাঁচার লড়াইয়ে ‘অপরাজিত’ থাকা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে তারা ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে। বিশাল এ জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠল বিরানব্বইয়ের চ্যাম্পিয়নদের।

বার্মিংহামে বৃষ্টিস্নাত কন্ডিশনে টস জিতে বিস্ময়করভাবে ব্যাটিং নেন কেন উইলিয়ামসন। শাহীন শাহ আফ্রিদির আগুনে পেসে ৮৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে শুরুতে ধুঁকছিল তারা। তবে জেমস নিশামের বীরত্বে ৬ উইকেটে ২৩৭ রানে থামে কিউইদের ইনিংস। বাবর আজমের হার না মানা অসাধারণ শতরানের সঙ্গে হারিস সোহেলের হাফসেঞ্চুরিতে ৫ বল বাকি থাকতে চার উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে সরফরাজ আহমেদের দল।

এবারের আসরে এটাই প্রথম হার কেন উইলিয়ামসনের দলের। ১৯৯২ সালে অপরাজিত থাকা কিউইরা প্রথম ম্যাচ হেরেছিল এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই। সোনালি অতীত ফিরিয়ে এনে প্রায় তিন দশক পর ইংল্যান্ডের আসরেও তাদের প্রথম হারের তেতো স্বাদ দিল সেই পাকিস্তানই। বিশ্বকাপে উপমহাদেশের এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র দুটিতে জিতেছে কিউরা। বার্মিংহামেও শ্রেষ্ঠত্ব পাকিস্তানের। এই হারের পরও অবশ্য ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ড পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে। অন্যদিকে কিউইদের হারিয়ে ছয় ম্যাচে পাকিস্তানের অর্জন ৭ পয়েন্ট।

এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট আছে জেমস নিশামের। ব্যাটিংয়ে করতে পারেননি তেমন কিছু। জ্বলে উঠলেন একেবারে ঠিক সময়ে। তিনি ক্রিজে আসার সময় ৮৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল নিউজিল্যান্ড। মোহাম্মদ আমির নিজের প্রথম বলে বোল্ড করেন মার্টিন গাপটিলকে। শাহীন শাহ আফ্রিদি গতি আর সুইংয়ের মিশেলে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এরপর। এই পেসার একে একে ফেরান কলিন মুনরো (১২ রান), রস টেলর (৩) ও টম ল্যাথামকে (১)। প্রথম স্পেলে ৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট আফ্রিদির। এত দিন কিউই ব্যাটিং একা টেনেছেন কেন উইলিয়ামসন। লেগস্পিনার শাদাব খান ৪১ রান করা সেই উইলিয়ামসনকে উইকেটের পেছনে সরফরাজ আহমেদের ক্যাচ বানিয়ে ভেঙে দেন ব্যাটিং মেরুদণ্ড।

জেমস নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের প্রতিরোধের গল্পটা এর পরই। ষষ্ঠ উইকেটে ১৩২ রানের জুটি দুজনের। ৭১ বলে ৬৪ করে গ্র্যান্ডহোম রান আউট না হলে শেষ পর্যন্তও খেলে আসতে পারতেন দুজন। তবে নিশাম লড়ে গেছেন বুক চিতিয়ে। ওয়ানডেতে এত দিন তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৭৪। সেটি পেছনে ফেলে গতকাল করলেন হার না মানা ৯৭। বাউন্ডারি ৫ আর ছক্কা ৩টি। ২৭তম ওভারের পর চাপে থাকা নিউজিল্যান্ডের আর কোনো উইকেট নিতে না পারাটা পাক বোলিংয়ের ব্যর্থতাই। শুরুর ভয়ংকর স্পেলের পর নামের পাশে তাই আর কোনো উইকেট যোগ হয়নি শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আমিরের।

বিশ্বকাপে গতকাল টানা ষষ্ঠ ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে খেলেছে নিউজিল্যান্ড। এই টুর্নামেন্টে শুধু ১৯৯৯ সালে টানা ছয় ম্যাচ একাদশ না বদলে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একই দল নিয়ে আগের ম্যাচগুলোতে হারের স্বাদ পেতে হয়নি কিউইদের। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে ২৩৭ রান নিয়ে আর পেরে ওঠেনি গতবারের ফাইনালিস্টরা।

২৩৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা আশাপ্রদ হয়নি পাকিস্তানেরও। দলীয় ৪৪ রানের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম-উল হক। ফখরকে মার্টিন গাপটিলের ক্যাচ বানিয়ে কিউইদের প্রথম ব্রেক থ্রু দেন ট্রেন্ট বোল্ট। ফার্গুসনের বোলিংয়ে এই গাপটিলেরই তালুবন্দি হয়েছেন ইমামও। তবে বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজের জুটি জমে ওঠায় ম্যাচ হেলে পড়ে পাকিস্তানের দিকে।

বারবার বোলার পাল্টিয়েও সাফল্যবঞ্চিত উইলিয়ামস জুটি ভাঙতে নিজের হাতেই তুলে নেন বল। তাতে তিনি সফলও হন। আক্রমণে এসেই ৩২ রান করা হাফিজকে আউট করে ভেঙেছেন ৬৬ রানের জুটি। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিংয়ে হারিস সোহেলকে নিয়ে শতরানের জুটি গড়ে ম্যাচটাই বের করে নেন বাবর আজম। পাকিস্তানের বিজয়োৎসবের সময় তাঁর নামের পাশে ১০১ রানের হার না মানা অসাধারণ সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারে দশম আর বিশ্বকাপের প্রথম শতরানের ইনিংসটা বাবর সাজিয়েছেন ১২৭ বলে ১১ বাউন্ডারিতে। অসাধারণ এই ইনিংসের জন্য জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। আর পার্শ্বনায়ক হারিস ৭৬ বলে ৫ বাউন্ডারি এবং দুই ছক্কায় করেছেন ৬৮ রান। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন মিলে ১২৬ রান যোগ করে কিউইদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দিয়ে পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়—যে জয়ে এখন সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নের জালও হয়তো বুনতে শুরু করেছে পাকিস্তান।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ