শনিবার-২৫শে মে, ২০১৯ ইং-১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:২৬
কলেজে ভর্তির আবেদন এখনও করেননি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ডোমারে আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল জলঢাকায় সড়কে ধান ও খড় শুকানোর ধুমপরেছে- চলাচলে জনগনের দূর্ভোগ বিপুল জয়ে মোদিকে বিএনপির অভিনন্দন বিপুল জয়ে মোদিকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ২৫ জেলায় চলছে প্রথম ধাপের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে

ববিতে কাশ-পরীা বন্ধ রেখে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা

মনির হোসেন, বরিশাল ॥ ববি’র একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর ঘোষনার পরেও শিার্থীরা তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার সকাল ১০টায় কাশ ও পরীা বর্জন কনে শিার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নীচতলার প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে।
আন্দোলনকারী শিার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই মৌখিক আশ্বাসের আস্থার বিষয়টি হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, ১২ দিন ধরে কাশ ও পরীা বর্জন করেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুরু থেকেই যেহেতু এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এদিকে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান স্বারিত লিখিত এক নোটিশে শনিবার থেকে কাশ ও পরীাসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালুর ঘোষনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক-কর্মচারীরা একাডেমিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান নিলেও প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পাশাপাশি সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল তাদের কার্যক্রম শুরু করলেও বাসগুলোতে আশানুরুপ শিার্থীর দেখা মেলেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান হেনা রানী বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ঘোষনা অনুযায়ী সকালেই শিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসেছেন। কাশ ও শুরু হওয়ার কথাছিলো। দীর্ঘন দাঁড়িয়ে থেকেও শিার্থীদের আন্দোলনের কারনে তারা ভেতরে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছে কিন্তু তারা লিখিত না পেয়ে আমাদের ভেতরে যেতে দিবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে কাশ-পরীা বন্ধ থাকলে শিার্থীরা তির সম্মুখীন হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, টানা ১৩ দিনের কর্মসূচিতে কাশ-পরীা বন্ধ থাকায় যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোঃ হাসিনুর রহমান বলেন, শিার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন গেটের তালায় একধরনের গাম দিয়ে দিয়েছে। তাই তা খোলা যাচ্ছেনা। পাশাপাশি তারা গেটের সামনে অবস্থান করছে। তাই সিদ্ধান্ত থাকলেও রবিবার থেকে শিা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ভিসির ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার মতার বাহিরে। এ ব্যাপারে শনিবারের (৬ এপ্রিল) বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে সে হিসেবে প্রতিমন্ত্রী, সিটি মেয়রসহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বরিশালের সুশীল সমাজের যারা ছিলেন তারাই দেখবেন।
সূত্রমতে, টানা ১১দিনের আন্দোলনের পর ১২তম দিনে বিভাগীয় কমিশনারের আয়োজনে গত ৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বরিশাল সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসন, শিক, সুশীল সমাজ ও শিার্থীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, শিাবিদ অধ্যাপক হানিফ, বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মোশারফ হোসেন, জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান, ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা কর্নেল শরিফুল ইসলাম, ববি’র শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘণ বৈঠক শেষে ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত বলেন, বৈঠকে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের সাথে আমরা একমত হয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বক্তব্যে কয়েক ঘন্টা পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিার্থীরা শনিবার রাতে উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বরিশাল প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মহান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আয়োজনে শিার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিসি প্রতিবাদকারী শিার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। এ ঘটনার পর থেকে ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। হল ত্যাগের নির্দেশ অমান্য করে শিার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ