বুধবার-১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং-২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:৫৩
দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা আজ ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি চূড়ান্ত প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম, ডেমু ট্রেনের পরিবর্তে অন্য ট্রেন এইচএসসির ফল প্রকাশ আজ কাল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ বন্যার পানি ঢোকায় সাঘাটায় ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ জলঢাকায় বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ’র সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন সবুজ আর নেই

ফিরে এলো হিটলার, এলাকায় আতঙ্ক

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ত্রিশালের বইলর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে তিন ফসলি জমিতে হিটলার ব্রিকস তৈরি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা গুঁড়িয়ে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু এ ঘটনার পর সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভাটাটি সংস্কার করে ইট তৈরির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মালিকপক্ষ। ফলে এলাকার কৃষকরা ফের ফসলহানির শঙ্কায় পড়েছে।

কৃষিজমি দখলে নিয়ে আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গত বছর তিন ফসলি জমিতে নির্মিত হয় হিটলার ব্রিকস। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভাটার অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেয়। এর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ ফাঁকে ভেঙে ফেলা অংশটুকু সংস্কার করে ফেলে মালিকপক্ষ। এরই মধ্যে ইট তৈরির প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে তারা। জানা গেছে, সুজন মিয়া, মো. সৈকতসহ ভাটার ছয় মালিক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কেউ কিছু বলতে পারছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, ভাটার আশপাশে প্রায় ১৫ একর জমিতে তিন মৌসুমেই ধান উৎপাদন হতো। তাদের অভিযোগ, ভাটার মালিকরা জোর করে জমি দখলে নিয়ে ভাটা নির্মাণ শুরু করে। এ নিয়ে জমির মালিক হামেদ আলীর সঙ্গে ভাটার মালিকদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় মামলাও হয়েছে। সংঘর্ষের পর গত বছরের ২২ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ‘ভাটার নাম হিটলার’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরশাদ উদ্দিন ভাটার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এর পরেও চলে ভাটার কাজ। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ভাটা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য কয়েক দফা নির্দেশ দেন ইউএনও আবদুল্লাহ আল জাকির ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরশাদ উদ্দিন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরশাদ উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভাটার অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেন। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই তা সংস্কার করে এখন ইট তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ভাটা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকদের পক্ষে কামাল হোসেন, শহীদ মিয়া, বায়েজিদ, হাসমত আলী ও মোহাম্মদ আলী উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে কৃষকদের প্রশ্ন প্রশাসনের সব বাধা উপেক্ষা করে আবার তারা কিভাবে ভাটার কাজ শুরু করল? আসলে হিটলারের খুঁটির জোর কোথায়?

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূর আলম বলেন, হিটলার ব্রিকস চালুর ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের কোনো প্রকার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

আবারও ভাটা চালুর বিষয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন, ‘ভাটা পুনঃ সংস্কারের আগে উপজেলা কৃষি বিভাগের অনুমতির জন্য মালিকপক্ষ এসেছিল। কিন্তু আমরা তাদের কাজের অনুমতি দিইনি। এমন হলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরও ফের অবৈধভাবে ইটভাটার কাজ শুরু করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ময়মনসিংহ,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ