বুধবার-২২শে মে, ২০১৯ ইং-৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:০৩
ফুলবাড়ীতে ব্রি ধান ৫০ উৎপাদনে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত॥ চিরিরবন্দরে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহে কৃষকের নাম বাছাই জলঢাকায় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখায় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সৈয়দপুর পৌরসভার বৃত্তি পরীক্ষার সনদপত্র ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত ফুলছড়িতে  ৫ প্রতিষ্ঠানের ৭ হাজার টাকা জরিমানা  গোবিন্দগঞ্জে গ্রীল কাটার যন্ত্রপাতি ও ইয়াবাসহ ২ জন আটক

‘ফণী’র ছোবলে নিহত ৪, আহত ৬৩

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আঘাত হানার পর বাংলাদেশে চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটায় দুইজন, ভোলা ও নোয়াখালীতে একজন করে চারজন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ৬৩ জন।

শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সর্বশেষ অবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল।

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়ার খাল এলাকায় ঘরের নিচে চাপা পড়ে দাদি ও নাতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত নুরজাহান বেগম (৬০) কালিয়ার খাল এলাকায় আব্দুল বারেকের স্ত্রী ও তার নাতি জাহিদুল ইসলাম (৮)।

এছাড়া ঝড়ে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে নোয়াখালীর চর আমানউল্লাপুর ইউনিয়নে একজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কবলে পড়ে আনোয়ারা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘মৃত লোকের সংখ্যা হলো চার। এর মধ্যে বরগুনায় দুজন, ভোলায় একজন এবং নোয়াখালীতে একজন। আহতের সংখ্যা ৬৩।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল বলেছিলাম সাড়ে ১২ লাখ লোক আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। এটা বর্তমানে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৪১৭।’

শাহ কামাল বলেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমাদের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি হয়নি। এটা আমাদের প্রাথমিক অ্যাসেসমেন্ট, যেটা আমরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। আমাদের খাদ্যের কোনো সংকট নেই। আমাদের এখন প্রয়োজন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আমরা আনন্দিত যে, আমরা যে শঙ্কায় ছিলাম সেই শঙ্কা কাটিয়ে ভালো অবস্থানে আছি। তেমন উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি কোথাও হয়নি বলে জেনেছি।’

তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন, তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে, উপকূলের একটি লোকও যাতে নিরাপদ আশ্রয়ের বাইরে না থাকে।

‘যারা মারা গেছেন তাদের দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আহতদের চিকিৎসায় মেডিকেল টিম আছে। সিভিল সার্জনরা এটা মনিটরিং করছেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতি যেটা হয়ছে, আমরা দেখেছি, টিনগুলো উড়ে গেছে। আমরা দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে যেখানে যে পরিমাণ টিনের দরকার তা সরবরাহ করব।’

এনামুর রহমান বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পুরো বিবরণটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের কাছে আসবে। সে অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় তাদের পুনর্বাসনের জন্য দায়িত্ব নেবে।’

‘ক্ষয়ক্ষতিটা যেভাবে অ্যাসেস (নির্ধারণ) করা হবে সেই অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সাহায্য করবে। শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত সামর্থবান সরকার, ধনী সরকার। অর্থের কোনো কমতি নেই। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আমাদের সামর্থ্য যথেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে পারব। ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবেলায় সামর্থ্য বাড়ানোর চেষ্টাও করব’- বলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সামনে রেখে আমাদের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ। আগামীকাল থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সব স্তরের লোকজন সম্পৃক্ত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতির বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে। সবার মধ্যে যে সমন্বয়টা ছিল সেটা প্রশংসনীয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু ক্ষয়ক্ষতি তো হবেই। এগুলোর অ্যাসেসমেন্ট আমাদের ডিপার্টমেন্টগুলো যাতে সঠিকভাবে করে, পরিসংখ্যানের মধ্যে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, এটা শিগগিরই সবাই যাতে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়, সেটা আমরা সবাইকে অনুরোধ করব।

মুখ্য সচিব বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত ছিল। আমাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছিল, সেটা সফল হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, তথ্য সচিব মো. আব্দুল মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ