শুক্রবার-১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৯:৩৭
সেবা না পেয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি এ্যম্বুলেন্স ভাংচুর। ফুলবাড়ীতে মৎস্য সপ্তাহ উদ্ভোধন। গোবিন্দগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ- ১ ডোমারে স্কুল ছাত্র সুমন নিখোঁজ সন্ধান চায় পরিবার। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শনিবার বুবলীই থাকছেন শাকিবের ‘বীর’ ছবির নায়িকা ছাতকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’র উদ্বোধন উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হলো ওবায়দুল কাদেরের

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামী দুই সপ্তাহ পর দেশে ফিরবেন। চিকিৎসকরা তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরই দেশে ফেরার পরামর্শ দেবেন। কোনো বিপত্তি না ঘটলে দুই সপ্তাহ পরই ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরে নিজের মানুষদের সঙ্গে কথা বলবেন, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মেতে উঠবেন আলোচনায়।

প্রায় দুই মাস ধরে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সকালে ফোনে কথা বলেছেন। নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও ওবায়দুল কাদের এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে আজ এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আজ বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে বেশকিছু সময় আলাপ হয়। সূত্র জানায়, এ সময় ওবায়দুল কাদের দুই সপ্তাহ পর দেশে ফেরার আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ওবায়দুল কাদের গত ৫ এপ্রিল ছাড়পত্র পান। তবে ওই হাসপাতালের কাছে একটি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন তিনি। কারণ তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হচ্ছে। ওবায়দুল কাদের ভাড়া বাসার পাশে ফাঁকা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ হাঁটাচলা করছেন প্রায় প্রতিদিন। অবশ্য ওবায়দুল কাদের সুস্থ অবস্থায়ও প্রতিদিন ভোরে প্রাতঃভ্রমণ করতেন।

সিঙ্গাপুর থেকে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে থাকা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিজ ফয়েজ আজ দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, স্যার এখন হাঁটেন। কথা বলতে পারছেন আগে থেকেই। আগের চেয়ে বেশ সুস্থ। জানা গেছে, ওবায়দুল কাদেরের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আনুষাঙ্গিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। পরে গত ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। পরে আইসিইউ থেকে গত ২৬ মার্চ কেবিনে নেওয়া হয় তাকে। পরে ৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। বাইপাস সার্জারি করেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ডা. ফিলিপ কোহ এর নেতৃত্বে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি।

গত ৫ এপ্রিল দুপুরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাবার পর আশা করা হয়েছিল ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরবেন। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিশ্রামের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হচ্ছে।

অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে ওবায়দুল কাদের এখন ফুরফুরে। হাঁটছেন, কথা বলছেন। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ কয়েকদিনের ব্যবধানে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সর্বশেষ গত রবিবার তথ্যমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ ভোরে ঢাকায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ওবায়দুল কাদেরের। যত দ্রুত সম্ভব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে দ্রুত এনজিওগ্রাম করা হয়। তখন তার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের (রিং পরানো) মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। পরদিন ভারত থেকে আসেন স্বনামধন্য হৃদরোগ সার্জন দেবী শেঠি। তিনি পর্যবেক্ষণ করে বলেন, ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হবে। তার পরামর্শে সে দিনই (৪ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ওবায়দুল কাদেরবে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ