বৃহস্পতিবার-২৭শে জুন, ২০১৯ ইং-১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৪৯
পাইলট অভিনন্দনের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণার দাবি পার্লামেন্টে! অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি’র মৌলিক ও মানবাধিকার বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা জলঢাকায় ফারাজ হোসেন এর স্মরণে ডিসিআই ও আরএসসির দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা “ বান্দরবানের জেএসএস কর্মীকে গুলি করে হত্যা ডিজিটাল হাজিরা অনিশ্চিত মহেশপুরের ১৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকায় নিয়োগ দেবে সিভিসি ফাইন্যান্স

প্রতিটি কাজ সুন্নত মোতাবেক করতে হবে

6 months ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  হজরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) (মানুষের খাবার সম্পর্কে) বলেছেন, ‘মানুষ যে খাবারই গ্রহণ করুক না কেন, শেষ পরিণতি অত্যন্ত নিকৃষ্ট। খাবার পেটে যাওয়ার পর হজম হয়ে পেশাব-পায়খানায় পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়। তা এমন দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, স্বয়ং ব্যক্তিও অত্যন্ত ঘৃণা করে। কিন্তু ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় এ মলের দিকে মানুষের একবার হলেও দৃষ্টি পড়ে। এমন হওয়ার কারণ হলো, মানুষ যেন দুনিয়ার পরিণতি বুঝতে সক্ষম হয়। কত সুন্দর দুনিয়া সে গ্রহণ করেছিল, এখন তা কতটা দুর্গন্ধময় কদাকার ও ঘৃণিত। আরেকটি ব্যাপার হলো, মানুষ যত বেশি ভালো ও দামি খাবার গ্রহণ করে, পরিণতিতে তার মল ততটা দুর্গন্ধময় হয়। শাকসবজি খেলে যতটা দুর্গন্ধ হয়, কোরমা, পোলাও ও বিরিয়ানি খেলে তার চেয়ে বেশি দুর্গন্ধ হয়।’ থানভি (রহ.) বলেন, ‘এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়াকে তুমি যত বেশি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করবে, তার পরিণতি ততটাই খারাপ হবে। মানুষ দুনিয়া ভোগ করবে তাতে বাধা নেই। তবে উদ্দেশ্য সঠিক হতে হবে। পদ্ধতিও সহি হতে হবে। মূলত সুন্নত তরিকায়, সহি নিয়তে দুনিয়া ভোগ করলে তা নেক কাজে পরিণত হয়। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, হাঁটাচলা সবই সওয়াবে পরিণত হয়। এমনকি স্বামী-স্ত্রী পরস্পর জৈবিক চাহিদা পূরণ করলেও পুণ্যের অধিকারী হয়।’ হজরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত। একবার সাহাবায়ে কিরাম রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা বিবিদের সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণ করলেও কি সওয়াব পাব? রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হারাম উপায়ে যৌন চাহিদা মেটালে কি গুনাহ হতো না? তা হলে হালাল উপায়ে যৌন চাহিদা পূরণ করলে অবশ্যই সওয়াব লাভ করবে। মুসলিম। বোঝা গেল, আল্লাহতায়ালার হুকুম অনুযায়ী রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মোতাবেক কাজ করলে অবশ্যই সওয়াব পাওয়া যাবে। তখন সে কাজটি নিজের জন্য করা হবে না; বরং আল্লাহর জন্য করা হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা আল্লাহর গোলাম। আমাদের সব কাজ হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। নিজের নফসের জন্য নয়। মানুষ তার পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার খায়। এ খাবার কেউ যদি সুন্নত তরিকায় খায়, তাহলে তাও তার জন্য নেক কাজে পরিণত হবে। এভাবে সুন্নত মোতাবেক এস্তেঞ্জা সারলেও সওয়াব পাওয়া যাবে। এস্তেঞ্জাখানায় প্রবেশ করা, বের হওয়া ও সেখানে জরুরত সারার নির্ধারিত সুন্নত পালন করে জরুরত শেষ করলে, জরুরতও সারবে, সওয়াবও হবে। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর হুকুম মানার উদ্দেশ্যে সুন্নত মোতাবেক করতে হবে। তা হলেই আমরা সফলকাম হব। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

লেখক : প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা, ঢাকা।সূত্র: বাংলাদেশপ্রতিদিন

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ