বুধবার-২৬শে জুন, ২০১৯ ইং-১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১:৫৬
পাইলট অভিনন্দনের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণার দাবি পার্লামেন্টে! অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি’র মৌলিক ও মানবাধিকার বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা জলঢাকায় ফারাজ হোসেন এর স্মরণে ডিসিআই ও আরএসসির দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা “ বান্দরবানের জেএসএস কর্মীকে গুলি করে হত্যা ডিজিটাল হাজিরা অনিশ্চিত মহেশপুরের ১৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকায় নিয়োগ দেবে সিভিসি ফাইন্যান্স

পোশাক রপ্তানিতে পাঁচ বছরে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দাবি

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  দেশের তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক। এই সংকট থেকে উত্তরণে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পোশাক রপ্তানিতে ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার বস্ত্র খাতের সংগঠন বিজিএমই, বিটিএমইএ, বিকেএমইএর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমরিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। রুবানা হক বলেন, সব ধরনের পোশাক রপ্তানিতে রপ্তানি মূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভর্তুকির অর্থ একক প্রণোদনা হিসেবে বছরে ১১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা সরকার পোশাক রপ্তানিকারকদের দিতে পারে। একইভাবে আগামী পাঁচ বছর ৫৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকার প্রণোদনা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকরা প্রতিদিন ২৫ টাকার টিফিন খেলে লাগে সাড়ে সাত কোটি টাকা, বছরে ৩০০ টাকার একটি শাড়ি কিনলে বছরে ব্যয় করে ৬০ কোটি টাকা, ১০ লাখ শ্রমিক মাসে দেড় হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিলেও যাচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। এসব পরিসংখ্যানই বলে  দেয়,  পোশাক খাত কেন আমাদের জন্য জরুরি, কেন টিকে থাকা প্রয়োজন।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আগে ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পোশাকের দামও পড়ে গেছে। চলতি মাসে আমরা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছি। যে কারণে প্রত্যেকেরই  বেতন-বোনাস দিতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

সরকার আরো কোন কোন খাতে ভর্তুকি দেয় তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, কৃষি খাতে ২০ শতাংশের ভর্তুকি ১০ বছরে ১৯৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৪৫ মিলিয়ন ডলার। চিংড়ি রপ্তানিতে ৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ শতাংশ। দশ বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৮.৯৮ শতাংশ, টাকার অঙ্কে ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

প্লাস্টিকে ১০ শতাংশ ভর্তুকিতে রপ্তানি ৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ মিলিয়ন ডলার। ফার্মাসিউটিক্যালসে ১০ শতাংশ ভর্তুকিতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ১৮৬ শতাংশ,  বেড়েছে ৬৭ মিলিয়ন ডলার। সিরামিকস ১০ শতাংশ ভর্তুকিতে ৬৬.৬৩ শতাংশ বা ২১ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি বেড়েছে। চামড়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৫০৯ শতাংশ, ফার্নিচারে বেড়েছে ৬১১ শতাংশ।

রুবানা হক বলেন, সেখানে পোশাক খাতের জন্য নতুন বাজারে দেওয়া হয় মাত্র ৪ শতাংশ। দশ বছরে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৪৫০ শতাংশ। আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানির পণ্যগুলো থেকে আয়ের পরিমাণ সবারই মিলিয়নে। একমাত্র পোশাক খাতই বিলিয়ন ডলারে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘পোশাক খাতের একটি ক্রান্তিলগ্নে আমরা পৌঁছেছি। এখন যদি আমরা সহযোগিতা না পাই, তাহলে আমাদের কষ্ট হবে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই প্রণোদনা দেওয়া হলে পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াবে। সরকার যদি সব বাজারের জন্য ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়, তাহলে বর্তমানে যেটুকু পাই তা বাদ দিলে সরকারের ১১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা লাগবে বছরে। পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেটে এই অর্থ খুব বেশি নয়।’

আগামী বাজেটে পোশাক শ্রমিকদের গৃহায়ণ, যাতায়াত ও রেশনিং চালু করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

রুবানা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল খাতের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ,  নিট পোশাকের সংগঠন বিকেএমইএর  জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনসুর আহমেদ, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।’সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ