শনিবার-২৫শে মে, ২০১৯ ইং-১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৯:৫৮
আধুনিক হবে পার্বতীপুর রেল জংশন-রেল পথ মন্ত্রী সারা দেশেই সড়ক, রেল, নৌ ও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে : প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধা কারাগারে আসামি নিখোঁজ-উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে কমিটি আন্তনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরায় বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ উদ্বোধন চার সমুদ্রবন্দরে ৩, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত

পিতার প্রতি ইবরাহিম (আ.)-এর যৌক্তিক প্রশ্ন

2 months ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ৪২. যখন সে [ইবরাহিম (আ.)] তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা, আপনি কেন ওই বস্তুর উপাসনা করেন, যা কোনো কিছু শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো কাজে আসে না? (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪২)।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, ইবরাহিম (আ.) ছিলেন সত্যনিষ্ঠ নবী। তিনি তাওহিদ ও আল্লাহর একত্ববাদের প্রচার করেছেন। আলোচ্য আয়াতে তাঁর পিতার প্রতি বিশেষ দাওয়াতের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তাঁর পিতার প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে হে পিতা, আপনি কেন এমন বস্তুর উপাসনা করেন, যা কোনো কিছু শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো কাজে আসে না?

এমন প্রশ্নের মাধ্যমে ইবরাহিম (আ.)-এর বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বোঝাই যাচ্ছে যে ইবরাহিম (আ.) তাঁর সমাজে প্রচলিত বিশ্বাস তথা পৌত্তলিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি শিরকমুক্ত বিশুদ্ধ একত্ববাদের অনুসারী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর পিতা ও সন্তানদের প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন।

স্মরণীয় যে ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্মে ইবরাহিম (আ.)-কে বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখা হয়। বর্তমান বিশ্বের এই তিনটি প্রধান ধর্মের নবীরা তাঁর বংশ থেকে জন্মলাভ করেছেন। ফলে ইবরাহিমি আদর্শ সব ধর্মের মানুষের কাছে অনুকরণীয়। আর ইবরাহিম (আ.) আমরণ একত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে গেছেন। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা নিজেদের ইবরাহিম (আ.)-এর উত্তরসূরি দাবি করলেও তাঁরা একত্ববাদের বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গেছে। ইহুদিরা উজাইর নামের পাদ্রিকে আল্লাহর পুত্র বলে থাকে। আর খ্রিস্টানরা ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করে।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৫৭ সালে উজাইর নামে ইহুদিদের একজন পাদ্রি ছিলেন। ইহুদিদের কাছে তিনি উজরা নামে পরিচিত। তিনি ইহুদি ধর্ম পুনর্জীবিত করেছেন। প্রসিদ্ধ ধর্মগ্রন্থ কিতাবুল মুকাদ্দাস সংকলন করেছেন। নতুনভাবে তিনি ইহুদি ধর্মের ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটিয়েছেন।

খ্রিস্টানরা ‘ত্রিত্ববাদে’ বিশ্বাস করে। এটা তাদের বহুল আলোচিত ধর্মবিশ্বাস। পিতা (গড), পুত্র (ঈসা মাসিহ) ও পবিত্র আত্মার সমন্বয়েই গড। তিনের মধ্যে একজন অংশীদার হলেন গড। এরপর তাঁরা তিনজনই এক এবং একজনই তিন। তিনের সমষ্টি ‘এক’ কিভাবে হয়—এর কোনো যুক্তিসংগত উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। এই একাধিক গডের অস্তিত্ব নিয়ে পোপদের আমলেই বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রধানত হেলেনি ও গনোস্টীয় দার্শনিকদের শিক্ষা থেকে এর উদ্ভব হয়েছে। দ্বিতীয় শতাব্দীতে আন্তাকিয়ার পাদ্রি সিওফিলোস গ্রিক ভাষায় ‘ত্রিয়াস’ পরিভাষা ব্যবহার করেন। এরপর তারতালিয়ালুস ‘ত্রিনিতাস’ শব্দের ব্যবহার করে। এর অর্থ ত্রিত্ববাদ বা তিন গডের বিশ্বাস। তিন গডের মধ্যে কার ভূমিকা কী হবে—৩২৫ খ্রিস্টাব্দে এ নিয়ে চূড়ান্ত মীমাংসা দেয় নকিয়া একাডেমি। এরপর ৩৮১ খ্রিস্টাব্দে একই বিশ্বাস প্রচার করে কনস্টানটিনোপল একাডেমি। তাদের মতে, পিতা ও পবিত্র আত্মা ঐশ্বরিক সত্তার অংশ হিসেবে সমমর্যাদার অধিকারী। পুত্র পিতার ঔরস থেকে অনাদিকালে জন্ম নিয়েছে। আর পবিত্র আত্মা পিতা থেকেই আবির্ভূত।

উল্লেখ্য যে ঈসা (আ.)-এর নিয়ে আসা ইনজিল কিতাব একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিন শতাব্দী পর তা নতুনভাবে গ্রন্থনা করা হয়।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ