শুক্রবার-২১শে জুন, ২০১৯ ইং-৭ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:১২
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জবাসীর সংহতি মানববন্ধন নাবিক কর্মীরহাত হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে ৫৮টি কয়লা তৈরির কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি কর্মকর্তারা জনগনের সঠিক সেবা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা ……… দুদক মহা-পরিচালক ডোমারে মসজিদের ইমাম স্ত্রী সন্তান রেখে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রীকে নিয়ে উধাও, থানায় মামলা। সৈয়দপুরে চার পরিবারকে মেয়রের অনুদান প্রদান পার্বতীপুরে বাল্যবিবাহ বিষয়ক গণশুনানি অনুষ্ঠিত

পার্বতীপুরে মহাসড়ক যখন উঠান

সোহেল সানী : জমি থেকে ধান কেটে এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে মহাসড়কের ওপর। পরে সড়কের একটা জায়গা দখলে নিয়ে ‘ধান মাড়াই মেশিন’ বসিয়ে দেদারছে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। আর এ অবস্থায় সড়কের অর্ধেক অংশে ধান শুকানো ছাড়াও বিশাল খড় সড়কের ওপরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। ধান কেটে, মাড়াই শেষে ধান ও খড় শুকানো হতো এসব কৃষকের বাড়ির আঙ্গীনা অথবা উঠোনে। কিন্তু এসব কাজ এখন হচ্ছে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। ফলে এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে বাড়ছে অহরহ দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পার্বতীপুর-মধ্যপাড়া, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর-দিনাজপুর, পার্বতীপুর-সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর-রংপুর মহসড়কের দুই পাশে এখন মহাধুমধামে চলছে ধানমাড়াই ও শুকানোর কাজ। বোরো মৌসুমে মহাসড়কের পাশের বসতবাড়ির লোকজন যে যার মতো সড়ক ব্যবহার করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বাড়ির উঠান রেখে সড়কে এ কাজটি করছেন। এছাড়াও উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর পাকা সড়কে রান্নার কাজে ব্যবহারের লাকড়ি, ভূট্টা, শুকনো মরিচ ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস শুকাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সড়কে ধান ও খড় বিছানো থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে ধান মাড়াই করছিলেন কৃষক মশিউর রহমান। তিনি জানান, বাড়ির আঙিনা ছোট হওয়ায় প্রায় এক একর জমির ধান একসঙ্গে ভাঙানো যায় না। তাই সড়কটি ব্যবহার করছেন।
বাসচালক আমিনুল ইসলাম জানান, ফুলবাড়ী থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছতে কর্তৃপক্ষ তাঁদের একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। এই সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। অন্যথায় পরদিন ট্রিপ বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু মহাসড়কটি দখলে নিয়ে ধান ও খড় শুকানোয় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চলানো যায় না। বিশেষ করে ধানের ভেজা খড়ের ওপর দিয়ে বাস চালানো খুবই ঝুঁকিপূণ। এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী শামীম আকতার জানান, সড়কে ধান শুকানোর জন্য আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় কৃষকদের বাধা নিষেধ দেয়া হলেও তারা মানছে না। বিষযটি নিয়ে যথাযথ মাষিক মিটিংয়ে অবহিত করা হয়েছে। সচেতনতামূলক সভা করে তাঁদের সড়ক দখলে না নিতে উদ্বুদ্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহানুল হক বলেন, বাড়ী আঙ্গিনায় ধান শুকানো নিরাপদ তারপরও কৃষকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে ধান শুকাতে সড়কে আসে এটা ঠিক নয়। রাস্তার ওপর ধান মাড়াই, ধান, খড় শুকানোসহ খড়ের গাদা তৈরীর কারনে নিরাপত্তা বিঘœীত হচ্ছে শীঘ্রই বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ