বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৪৬
সার্কাসের হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, হাতি-মাহুত আটক, জরিমানা বাজেট বইতে উঠে এসেছে মনিকার এখন নিজের থাকার একটা আশ্রয় হয়েছে এটাই শান্তি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলছে ভোট আর দুই মামলায় জামিন হলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন : মওদুদ মাশরাফিদের ফের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, সাকিব-লিটনের প্রশংসা সোনার দাম কমছে নওগাঁয় ৯৩৩ কোটি টাকার আম উৎপাদন

পার্বতীপুরে জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতিবন্ধী ভাইকে সাথে নিয়ে সংবাদপত্র হকারী করছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  পার্বতীপুরের সংবাদপত্র হকার মোস্তাকিম সরকার (৪৫)। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সংবাদপত্র হকারী করছে। এটাই তার জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ। সহায় সম্বলহীন সংবাদপত্র হকার মোস্তাকিম সারাদিন পার্বতীপুর শহরে সংবাদপত্র হকারী করে যা আয় করে তা দিয়ে চলে কোন রকমে তার সংসার। এর মধ্যে তার সংসারে রয়েছে প্রতিবন্ধী এক ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজান (২৫)। ছোট ভাই মিজান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মিজান প্রতিবন্ধী হলেও আজ পর্যন্ত সে কোন প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। হকার মোস্তাকিম জানায়, তার প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে সে বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন জনের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্যে ধর্না দিয়েছে।

কিন্তু শুরুমাত্র আশ্বাসের বানী ছাড়া কাজের কাজ কিছ্ইু হয়নি। তাই সে ছোট ভাইকে সংসারের বোঝা মনে না করে তাকে সাথে নিয়ে সংবাদপত্র হকারী করছে। তার অনুগত প্রতিবন্ধী ছোট ভাই মিজান তার সাথে থেকে সারাদিন শহরে ঘুরে ঘুরে সংবাদপত্র বিলি করে ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছে একজন সংবাদ পত্র হকার। সে নিজেই ভাইয়ের সাথে থেকে কিছু আয় করছে। তা দিয়েই চলছে তার জীবন জীবিকা। প্রতিদিন যে সারাদেশের খবর মানুষের খবর বিলি করে বেড়াচ্ছে। তার খবর কেউ রাখে না। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়েও তার ভাগ্যে আজও জোটে নি প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা অন্য কোন সুবিধা। তাই কঠোর পরিশ্রম করে ভাইয়ের সংসারে বোঝা না হয়ে ভাইয়ের সাথে থেকে সংবাদপত্র হকারী করে বেছে নিয়েছে জীবন জীবিকার পথ।

পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর মহল্লার সংবাদপত্র হকার মোঃ আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ মোস্তাকিম সরকার ও প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান মিজানকে পার্বতীপুর শহরের প্রতিটি মানুষই সংবাদ পত্র হাকার হিসেবে চিনে। দীর্ঘ দিন ধরে তারা সংবাদপত্র হকারী করায় মানুষের কাছে সংবাদপত্র হকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শুধু মাত্র দু’ বেলা দু’ মুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে রয়েছে। মোস্তাকিম সরকার দুঃখ করে বলেন আমার ভাইটি একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও সে কোন ভাতা কিংবা অন্য কোন সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ