শুক্রবার-২৪শে মে, ২০১৯ ইং-১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:০৯
কলেজে ভর্তির আবেদন এখনও করেননি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ডোমারে আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল জলঢাকায় সড়কে ধান ও খড় শুকানোর ধুমপরেছে- চলাচলে জনগনের দূর্ভোগ বিপুল জয়ে মোদিকে বিএনপির অভিনন্দন বিপুল জয়ে মোদিকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ২৫ জেলায় চলছে প্রথম ধাপের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে

নুসরাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান পুলিশ কনস্টেবল রাসেল

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের নেতিবাচক ভূমিকা যেভাবে আলোচিত হয়েছে তেমনি রয়েছে ইতিবাচক দিকও। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নুসরাতকে বাঁচাতে দ্বিতীয় সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কনস্টেবল মো. রাসেল সাহসীপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈন উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় আইজিপির নির্দেশেই গত ১৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড প্লান) রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ তদন্ত টিমের অপর সদস্যরা হচ্ছেন সিআইডি চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন বিশেষ পুলিশ সুপার, পুলিশের চট্টগ্রাাম রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন গত ৩০ এপ্রিল রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়।কালেরকন্ঠ

মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নেতিবাচক ভূমিকা দেখলেও রাসেলের মতো কনস্টেবলের আন্তরিকতাপূর্ন সাহসী আচরণে সেদিন মুগ্ধ হয়েছি।

সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈন উদ্দিন বলেন, প্রতিবেদনে পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেলের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে উদ্ধার করে রাসেল দ্রুত মাদরাসার ফটকে নিয়ে আসেন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নুসরাতের ভাই নোমানসহ হাসপাতালে নিয়ে যান। এজন্য তার হাত পুড়ে গেছে। দ্রুত নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া না হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যেতেন। ঘটনার সময় (৬ এপ্রিল) সকাল পৌনে দশটায় মাদরাসার গেটে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে রাসেলসহ তিন কনস্টেবল দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মাদরাসার নৈশ প্রহরী মো. মোস্তফার ছাড়া অন্য কেউ সহযোগীতার জন্য এগিয়ে আসেনি। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে অবহেলার চোখে দেখেছেন সেখানে কনস্টেবল রাসেল পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ