বুধবার-২৬শে জুন, ২০১৯ ইং-১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:১৫
পাইলট অভিনন্দনের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণার দাবি পার্লামেন্টে! অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় পার্বতীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি’র মৌলিক ও মানবাধিকার বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা জলঢাকায় ফারাজ হোসেন এর স্মরণে ডিসিআই ও আরএসসির দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা “ বান্দরবানের জেএসএস কর্মীকে গুলি করে হত্যা ডিজিটাল হাজিরা অনিশ্চিত মহেশপুরের ১৫২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢাকায় নিয়োগ দেবে সিভিসি ফাইন্যান্স

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানজট মুক্ত

মোঃ রেফাজ উদ্দিন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের ২৬ জেলার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়কটি। মির্জাপুর বাইপাস আন্ডার পাস ব্রিজ, ধেরুয়ায় রেলওয়ে ওভার ব্রিজ, কালিয়াকৈরের লতিফপুরে রেলওয়ের ওভার ব্রিজ, দেওহাটা আন্ডার পাস ব্রিজ, টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা আন্ডার পাস ব্রিজ, চন্দ্রায় ওভার ব্রিজ ও কোনাবাড়ি ওভার ব্রিজ খুলে দেওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই যানজট। এবারের ঈদে যানজট মুক্ত, নিরাপদে এবং কম সময়ে বাড়ি ফিরতে পারায় তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, প্রতি বছর ঈদ এলেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয। ঈদের আগে ও পরে ৫-৬ দিন এই যানজট স্থায়ী থাকে। কিন্তু এ বছর হয়েছে পুরোটাই উল্টো। চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পুর্বপ্রাপ্ত পর্যন্ত চার লেনের কাজ মোটামুটি সমাপ্তির পথে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং চারলেন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী সংস্থা ওভার ব্রিজ ও ছোট বড় মিলে ৩৬ ব্রিজের দুপাশ খুলে দেওয়ায় দ্রুত গতিতে চলছে দুদিক থেকে যানবাহন। এছাড়া চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বসানো হয়েছে মোবাইল কোর্ট ও স্টাইকিং ফোর্স। বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন, জেলা ও থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। টাঙ্গাইল জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন যানমুক্ত রাখার জন্য বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
উল্লেখ্য যে, আসন্ন ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘœ করতে দুইটি ফাইওভার ও চারটি আন্ডারপাস যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গত ২৫ মে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
জয়দেব-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র করিডোর। ৪টি প্যাকেজের মাধ্যমে এই মহাসড়কটি উন্নয়নের জন্য জানুয়ামী ২০১৬ থেকে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে অবস্থিত ২৩টি সেতু এবং ২টি রেলওয়ে ওভারপাসের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪ মার্চ ২০১৯ এবং ১৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে শুভ উদ্বোধন করেন। ২৩টি সেতু এবং ২টি রেলওয়ে ওভারপাসসহ অধিকাংশ স্থানে ৪- লেন সড়ক যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়ার ফলে বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গমনাগমন সহজ ও আরামপ্রদ হয়েছে।
এজন্য মাঝে মধ্যে মহাড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে এই যানজট ভয়াবহ হয়। যানজটে আটকা পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় যানজটের আটকা পড়ে দুর্ভোগের চিত্র ছিল বর্ণনাতীত। তবে মহাসড়কে ধেরুয়া এলাকার নির্মাণাধীন ফøাইওভার ও সেতুগুলোর কাজ শেষ হওয়ায় গত বছর ঈদুল-আযহা’র আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী উন্মুক্ত করে দেন। যার ফলে ওই ঈদে যানজটের সেই চিরচেনা চিত্র ছিল না বললেই চলে। সেই থেকে মহাসড়কের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, হাটুভাঙা রোড, দেওহাটা, মির্জাপুর, কুর্নী, ধল্যা, পাকুল্যা, নাটিয়াপাড়া, ঘারিন্দাসহ প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় স্থানে বিগত দিনে যে যানজট লেগে থাকতো তা এরই মধ্যে অনেকটাই দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
এই ফাইওভার দুটি হলো কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফাইওভার। অপরদিকে আন্ডার পাসগুলো হলো কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল সদরের ঘারিন্দা। এরমধ্যে কোনাবড়ি ফøাইওভারের দৈর্ঘ্য ১৬৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৮.১ মিটার, চন্দ্রা ফাইওভারের দৈর্ঘ্য ২৮৮ মিটার, প্রস্থ ১৮.১ মিটার। অপরদিকে মির্জাপুর, কালিয়াকৈর ও ঘারিন্দা আন্ডার পাসের দৈর্ঘ্য ৪শ মিটার প্রস্থ্য ১৮.১ মিটার ও দেওহাটা আন্ডার পাসের দৈর্ঘ্য ২৬০ মিটার ও প্রস্থ ১৮.১ মিটার। প্রকল্প এর মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে জানা যায় ।
যাত্রী মোঃ মারুফ রহমান ও ডা:আজিমুল ইসলাম সজল জানান, আমরা প্রতি বছর ঢাকা থেকে আসতে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘন্টা সময় লাগতো। কিন্তু এ বছর সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় আমরা ১-২ ঘন্টার মধ্যে বাড়ি আসতে পারায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে অধিক গাড়ি ভাড়ায় সরকারের তদারকির প্রতি জনসাধারনের একটি বিরুপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল থেকে মির্জাপুর আসতে ভাড়া গুনতে হয়েছে ১০০০ টাকা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের হাতের ছোয়ায় এ বছর নির্বিঘেœ মানুষ বাড়ি ফিরছে। তবে যমুনা সেতুর ট্রোল প্লাজায় সময় লাগার কারনে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এটুকু যানজটও লাগতো না যদি কিনা গার্মেন্টস মালিকরা ছুটিটা একবারে না দিয়ে ভাগ করে ছুটি দিত। এ বছর প্রায় ৮শত পুলিশ, আনসার বিজিবি মহাসড়কে রাতদিন কাজ করছে। সাব কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে ৬টি।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ