শুক্রবার-১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং-৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৯:২৯
সেবা না পেয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি এ্যম্বুলেন্স ভাংচুর। ফুলবাড়ীতে মৎস্য সপ্তাহ উদ্ভোধন। গোবিন্দগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ- ১ ডোমারে স্কুল ছাত্র সুমন নিখোঁজ সন্ধান চায় পরিবার। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শনিবার বুবলীই থাকছেন শাকিবের ‘বীর’ ছবির নায়িকা ছাতকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’র উদ্বোধন উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

ডাকসু নির্বাচন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

6 months ago , বিভাগ : শিক্ষা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নেতৃত্ব তৈরির আঁতুড় ঘর বলা হয় যাকে সেই ডাকসু নির্বাচন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণের সঞ্চার করেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। নির্বাচনই এখন ক্যাম্পাসের আলোচনার মূল কেন্দ্র। তবে নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রার্থীর যোগ্যতা ও ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ। শিক্ষাদানের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট, বিধিবিধান, বাণিজ্যিক ধারার ইভনিং শিফট, নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করে গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে নির্বাচনে। ডাকসু নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী এমনকি শিক্ষকদেরও ভাবনায় এখন গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন সেই ছাত্র সংগঠনের নেতারাও ইতোমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ২৮ বছর আগের বিশ্ববিদ্যালয় আর আজকের বিশ্ববিদ্যালয় এক নয়।

পাল্টে গেছে শিক্ষার ধরন, শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ বেড়েছে নানা মাধ্যমে। হয়েছে ইভনিং শিফটসহ নানা মাধ্যম। নিবন্ধিত হচ্ছে অধিভুক্ত ৭ কলেজেরও লাখ লাখ শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাইরে তারাও ভোটারের দাবি নিয়ে সামনে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমন অবস্থায় তাই শিক্ষাদানের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট, বিধিবিধান, বাণিজ্যিক ধারার ইভেনিং শিফট, নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করে গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা ও প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ করতে না পারলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রায় সকলেরই। কিন্তু এ কাজটা সহজ নয় বলে মন্তব্য করে শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা বলছেন, ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হলে যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিই চলে যেতে পারেন আদালতে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভোটার তালিকা ও প্রার্থী যোগ্যতার বাইরেও আছে কেন্দ্র কোথায় হবে সেই বিতর্ক। ইতোমধ্যেই সংগঠনগুলোর এক পক্ষ বলছে, বিধান অনুসারে কেন্দ্র হবে হলগুলোতেই। আবার আরেক পক্ষ বলছে, হলে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই কেন্দ্র হতে হবে হলের বাইরে একাডেমিক প্রাঙ্গণে।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। আর ছাত্র আন্দোলনে সবসময় সোচ্চার ছিল (ডাকসু)। নেতৃত্বের বিকাশও ঘটেছে ডাকসুর মাধ্যমেই। ডাকসুর নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশ ছাত্র নেতাই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অথচ দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হচ্ছে না সেই ডাকসু নির্বাচন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হয়। ডাকসুর প্রথম ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। এক বছর মেয়াদকালের জন্য নির্বাচিত কমিটিগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে।

১৯২৮-২৯ সেশনে ভিপি ও জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন এ এম আজহারুল ইসলাম ও এস চক্রবর্তী, ১৯২৯-৩২ সময়কালে রমণী কান্ত ভট্টাচার্য ও কাজী রহমত আলী ও আতাউর রহমান, ১৯৪৭-৪৮ সেশনে অরবিন্দ বোস ও গোলাম আযম, ১৯৫৩-৫৪ সালে এস এ বারী এটি ও জুলমত আলী খান, ফরিদ আহমেদ।

এরপর ভিপি ও জিএস নির্বাচিতদের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছেন নিরোদ বিহারী নাগ ও আব্দুর রব চৌধুরী, একরামুল হক ও শাহ আলী হোসেন, বদরুল আলম ও মোঃ ফজলী হোসেন, আবুল হোসেন ও এটিএম মেহেদী, আমিনুল ইসলাম তুলা ও আশরাফ উদ্দিন মকবুল, বেগম জাহানারা আখতার ও অমূল্য কুমার, এস এম রফিকুল হক ও এনায়েতুর রহমান, শ্যামা প্রসাদ ঘোষ ও কে এম ওবায়েদুর রহমান, রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন ও আসাফুদ্দৌলা, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ও শফি আহমেদ, মাহফুজা খানম ও মোরশেদ আলী, তোফায়েল আহমেদ ও নাজিম কামরান চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৯ সময়কালে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দায়িত্ব পালন করেন ছাত্র ইউনিয়নের মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মাহবুব জামান। ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। প্রথম দুটি নির্বাচনে যথাক্রমে জাসদ-ছাত্রলীগের এবং বাসদ-ছাত্রলীগের প্রার্থী হয়ে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জিতেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামান।

এক নাগারে দুই মেয়াদে ডাকসুর ভিপি-জিএস পদে নির্বাচিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আখতারুজ্জামান। যে দুটি মেয়াদে তারা নির্বাচিত হন সে দুটি মেয়াদ ছিল (১) ১৯৭৯-৮০, ১৯৮০-৮১ এবং ১৯৮১-৮২। ১৯৮২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৮৯ পর্যন্ত ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন আখতারুজ্জামান ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। ১৯৮৯-৯০ সেশনে দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মুশতাক আহমেদ। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৯০-৯১ সেশনের জন্য ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান ও খায়রুল কবির খোকন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও আর নির্বাচন হয়নি।

তবে আদালতে বিভিন্ন পক্ষের জোরালো অবস্থানসহ নানা কারণে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইতোমধ্যেই নির্বাচনের অধিকাংশ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে কর্র্তৃপক্ষ। সব ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ডেকে আলোচনা, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, গঠনতন্ত্র সংশোধন, আচরণবিধি প্রণয়নে কমিটি এবং পরিবেশ পরিষদের সভা হওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয় অনেকটাই কেটে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সর্বশেষ বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেছেন, বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা ভোটার হবেন, তারাই যেন প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এই পয়েন্টে আমরা সবাই একমত। তবে সব বিষয়ে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভোটার ও প্রার্থী ইস্যুতে উদ্বেগের কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে সাধারণ ছাত্র ও ছাত্র নেতাদের কথাতেও। নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থানে সকলে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভোটার ও প্রার্থীর যোগ্যতা কিভাবে ঠিক করা যাবে তা নিয়ে চিন্তিত সকলেই।

নির্বাচনের জট খোলার প্রেক্ষাপটে এখন সব পক্ষই একযোগে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ চাইছে। এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ভোটার রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। তবে ইভনিং শিফটসহ অন্যান্য অংশ যোগ হলে ভোটার হতে পারে কয়েক লাখ! ইতোমধ্যেই নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, কারা পারবেন না, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের মতামত দিয়ে বলেছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাইরে যেন প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকে। তবে ‘নিয়মিত শিক্ষার্থী’র সংজ্ঞা সবাই নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করছেন। পরিবেশ পরিষদের সভায়ও দুই ধরনের আলোচনা হয়েছে। এক পক্ষ বলছে, যারা ডাকসু ও হল সংসদের ফি দেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত শিক্ষার্থী। সে হিসেবে তারা সবাই নিয়মিত। এর মধ্যে একাধিক স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করা শিক্ষার্থী যেমন আছেন, তেমনি ইভেনিং কোর্সের শিক্ষার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।

অপর পক্ষের মত হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী চার বছরের স্নাতক করতে ছয় বছর এবং এক বছরের স্নাতকোত্তর করতে দুই বছর সময় বেঁধে দেয়া আছে। এর বাইরে সবাই অনিয়মিত শিক্ষার্থী। প্রশাসনের একাধিক নীতিনির্ধারকের কাছ থেকেও এ ধরনের বক্তব্য এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নিয়মিত শিক্ষার্থীরা কখানই চান না অনিয়মিত, ইভেনিং শিফট বা অন্য কেউ ভোটার বা প্রার্থী হোক।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলছিলেন, বর্তমানে চাকরির বয়সসীমা ৩০ রয়েছে। আমরা চাই, ডাকসুতে প্রার্থিতার সীমা যেন ৩০ করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর যারা এমফিল ও পিএইচডি করছেন, তাদের আমরা নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ধরার দাবি জানিয়েছি। তবে সন্ধ্যাকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের আমরা নিয়মিত বলতে পারছি না। অনেকে তাই ভোটার ও প্রার্থী নির্ধারণে কোন চ্যালেঞ্জ দেখছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগ সভাপতি সঞ্জিত কুমার দাশ বলছিলেন, ভোটার যারা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করছেন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি করছেন। কারণ তারা নিয়মিত ছাত্র।

কোন চ্যালেঞ্জ নেই বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইনও। তিনি বলছিলেন, যারা ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন তারা ভোটার হতে পারবেন। ঢাবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পরও যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ালেখা করছেন। আমি মনে করি এখন শিক্ষার্থীদের সকল তথ্যই আছে। তাই আমি এটাকে বড় কোন চ্যালেঞ্জ মনে করছি না।

তবে কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলছিলেন, সকল পক্ষকে যুক্ত করে ভোটার করা না হলে বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন না কোন পক্ষ যাবেন আদালতে। দেখা যাবে নির্বাচনই বন্ধ। লিটন নন্দীর মতে ইভেনিং শিফটের শিক্ষার্থীরাও রেজিস্ট্রেশন করছেন, হল যুক্ত হচ্ছেন। এমনকি ডাকসু ফিও নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাই কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে গেলে আশঙ্কা থেকেই যাবে। কেন্দ্র নির্ধারণ প্রশ্নে তিনি বলছিলেন, কেন্দ্র ইস্যুতে অনেকেই একমত হয়েছেন যে কেন্দ্র হতে হবে হলের বাইরে, একাডেমিক প্রাঙ্গণে। অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন তাই দাবি করেছে। কারণ কি? লিটন নন্দীর মতে, নির্বাচনে ছাত্রলীগ জিতে আসুক আমরা স্বাগত জানাই। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। তবে হলে এখন সেই ভয়মুক্ত পরিবেশটা নেই। অধিকাংশ শিক্ষার্থীও থাকে বাইরে। সব দিক বিবেচনা করে এটা আমাদের দাবি।

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, পরিবেশ পরিষদের সভার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের স্পষ্ট প্রস্তাব রেখেছি। সেটা হলো যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ বাবদ যারা ফি দিবে, তারা সকলেই ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবে। সাধারণত এটাই ডাকসু ভোটের নিয়ম। বিশ্ববিদ্যালয় অতি শীঘ্রই গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনবে। সেটা দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র দাস বলেন, ডাকসু এবং হল সংসদের ফি যারা দেয়, নীতিগতভাবে তারা ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ডাকসু একটা প্রতিষ্ঠান, সেটার জন্য যারা চাঁদা দিবে তারা অবশ্যই ভোটার হতে পারবে। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান খন্ডকালীন কিংবা সান্ধ্যকালীন কোর্সের যারা চাঁদা দিয়ে আসছেন, তাদের ভোটার করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন না হলে যে কোন সময় আইনী জটিলতায় আটকে যেতে পারে। গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের সেই সুযোগ না দিলেও, প্রশাসন তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা যেন স্পষ্ট করে।

এদিকে ভোটের মাঠে নামছে কোটা আন্দোলনকারী নেতাদের একটি অংশ। এ গ্রুপটি ইতোমধ্যেই ভোটার ও প্রার্থী ইস্যুতে কথা বলেছে। সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে তারা বাম ঘরানার একটি পক্ষের সঙ্গে জোট বাধার চিন্তা করছে। বাইরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পক্ষের সঙ্গে ঐক্য করবে না বলে ঘোষণা করলেও হলগুলোতে সক্রিয় ছাত্র শিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এ জোটে সক্রিয় হবে।

নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলগুলোতে না করে একাডেমিক ভবনে করারও দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুসারে তা করার সুযোগ নেই। সংশোধনী কমিটির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি। উপাচার্য এ বিষয়ে বলেছেন, গঠনতন্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলো পরিবর্তন করা একটু কঠিন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটু সময় রয়েছে।সূত্র: দৈনিকশিক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ