সোমবার-২৭শে মে, ২০১৯ ইং-১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:২১
জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত ফুলবাড়ী বিজিবি সদর দপ্তরে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ॥ ‘মেয়েদের কর্মসংস্থানে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে’ রাজাকারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত: পিবিআই মিজানুর হত্যার প্রতিবাদে হত্যাকারী শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ সাময়িক বরখাস্ত…

চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি

6 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,
চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি
চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি
চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: গত কয়েক বছরে দেশে আয়কর বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে করদাতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন প্রাঙ্গণে আয়কর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালে দেশে করদাতার সংখ্যা (কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী) ছিল ১২ লাখ। আর বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখে। অর্থাত্ চার বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, এ বছর করদাতা ৩৮ লাখ হয়েছে। ২০১৪ সালে এর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ। প্রকৃত কর আদায় ১০ বছরে পাঁচগুণ বেড়েছে । আমাদের লক্ষ্য করদাতা ১ কোটিতে উন্নীত করা। করদাতাদের মধ্যে আয়কর প্রদান নিয়ে আগে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও গত কয়েক বছরে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় করদাতাদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। ভীতি দূর হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও নাট্যাঙ্গনের শিল্পীরা বক্তব্য রাখেন।

দেশে ই-টিআইএনধারীদের সবাই কর দেন না। মূলত যারা রিটার্ন জমা দেন— তাদেরকেই করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সংখ্যা বর্তমানে ২০ লাখের মতো। অবশ্য রিটার্নধারীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি শুন্য রিটার্ন দাখিল করায়, তাদের কোনো কর দিতে হয় না। আর ই-টিআইএনধারীদের অবশ্য সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ সময় এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর আদায়ের পরিমাণ যদি বর্তমানের চাইতে দশ গুণ বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে আমরা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাব। নানা সংস্কারের মাধ্যমে করবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এনবিআর কাজ করছে। এ সময় জানানো হয়, রিটার্ন দাখিল গত দুই বছর ধরে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ছে। প্রকৃত করদাতা এখন ১৫ লাখ। এই সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত হলে দেশের আরও বেশি উন্নয়ন হবে। জিডিপিতে রাজস্বের অবদান ১২ শতাংশে নিয়ে যেতে পারলে অর্থনীতি মজবুত হবে।

আয়কর প্রদানে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর দিবসটি পালন করে থাকে এনবিআর। এবার দিবসটির শ্লোগান ‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’। আর প্রতিপাদ্য ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’।

অতীতে আয়কর দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বর্ণাঢ্য র্যালি হলেও এবার নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার র্যালি হয়নি ভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল এনবিআর।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র তারকা গুলশান আরা আক্তার চম্পা বলেন, ‘কর দেওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ, যাদের কর দিতে হবে— তাদের কর দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’ চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, কর দেয়া অভ্যাসের ব্যাপার, তাই সবাইকে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সময় এনবিআর সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

এদিকে স্বাভাবিক নিয়মে আয়কর দিবসে জরিমানা ছাড়াই কর প্রদানের শেষ দিন হলেও ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী অফিস খোলার দিন অর্থাত্ আগামীকাল রবিবারও জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন দিতে পারবেন করদাতারা। অবশ্য গতকাল এবং আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র:দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ