শুক্রবার-২৪শে মে, ২০১৯ ইং-১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:১৭
কলেজে ভর্তির আবেদন এখনও করেননি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ডোমারে আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল জলঢাকায় সড়কে ধান ও খড় শুকানোর ধুমপরেছে- চলাচলে জনগনের দূর্ভোগ বিপুল জয়ে মোদিকে বিএনপির অভিনন্দন বিপুল জয়ে মোদিকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ২৫ জেলায় চলছে প্রথম ধাপের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে

গুহায় আশ্রয় নেওয়া যুবকরা যেভাবে ঘুমিয়েছিল

8 months ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ১৮. (তাদের দেখলে) তুমি মনে করতে ওরা জাগ্রত, কিন্তু ওরা ছিল ঘুমন্ত। আমি ওদের পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম ডানে ও বামে। ওদের (পাহারাদার) কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহার প্রবেশমুখে প্রসারিত করে। তাদের দিকে তাকালে তুমি পেছন ফিরে পালিয়ে যেতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ১৮ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : গুহায় আশ্রয় নেওয়া যুবকদের সূর্য বিশেষভাবে সেবা দিয়েছিল। সে প্রসঙ্গে বর্ণনা ছিল আগের আয়াতে। আলোচ্য আয়াতে তাদের নিদ্রাকালীন আরো একটি অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ নিদ্রায় আসহাবে কাহফ এমনভাবে ছিল যে দর্শক তাদের জাগ্রত মনে করত। এত দীর্ঘকাল নিদ্রায় থাকা সত্ত্বেও তাদের দেহে নিদ্রার চিহ্নমাত্র ছিল না। বরং অবস্থা ছিল এরূপ যে দর্শকরা তাদের জাগ্রত মনে করত। বেশির ভাগ তাফসিরবিদের মতে, তাদের চক্ষু খোলা ছিল। নিদ্রার কারণে দেহে যে ঢিলাভাব আসে, তাও তাদের মধ্যে ছিল না। এটাও ছিল তাদের কারামত। এর বাহ্যত কারণ ছিল, তাদের হেফাজত করা। যাতে নিদ্রিত মনে করে কেউ তাদের ওপর হামলা না করে অথবা তাদের আসবাবপত্র চুরি না করে।

আয়াতে আরো একটি বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো, সেই যুবকদের পাহারায় ছিল একটি কুকুর। আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের পাহারায় থাকার কারণে মহান আল্লাহ ওই কুকরের কথাও কোরআনে উল্লেখ করেছেন। তাফসিরবিদ ইবনে আতিয়্যা (রহ.) বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা বলেছেন, তিনি ৪৬৯ হিজরিতে মিসরের জামে মসজিদে আবুল ফজল সওহারির একটি ওয়াজ শুনেছেন। তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি সেলাকদের ভালোবাসে, তাদের নেকির অংশ সেও পায়। দেখো, আসহাবে কাহফের কুকুর তাদের ভালোবেসেছে এবং তাদের সঙ্গী হয়ে গেছে। ফলে আল্লাহ তাআলা কোরআনেও তার কথা উল্লেখ করেছেন। কুরতুবি (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থে ইবনে আতিয়্যার বর্ণনা উদ্ধৃত করে বলেন, একটি কুকুর যখন সেলাক ও গুণীদের সংসর্গের কারণে এই মর্যাদা পেতে পারে; তখন আপনি অনুমান করুন, যেসব ঈমানদার আল্লাহর ওলি ও সেলাকদের ভালোবাসে, তাদের মর্যাদা কতটুকু হবে?

মুফতি শফি (রহ.) তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআনে লিখেছেন, এ ঘটনায় সেসব মুসলমানের জন্য সান্ত্বনা ও সুসংবাদ রয়েছে, যারা বেশি বেশি আমল করতে পারে না, কিন্তু রাসুল (সা.)-কে মনেপ্রাণে ভালোবাসে।

সহিহ বুখারির হাদিসে আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদিন আমি ও রাসুল (সা.) মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম। মসজিদের দরজায় এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলো। লোকটি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামত কবে হবে? তিনি বলেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? (তাহলে কিয়ামত হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছ কেন?) এ কথা শুনে লোকটি মনে মনে কিছুটা লজ্জিত হলো। অতঃপর সে বলল, আমি কিয়ামতের জন্য অনেক নামাজ, রোজা ও দান-খয়রাত সঞ্চয় করিনি। কিন্তু আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি। রাসুল (সা.) বলেন, যদি তা-ই হয়, তাহলে (শুনে নাও) তুমি কিয়ামতের দিন তাঁর সঙ্গে থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাসো। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর মুখে এ কথা শুনে আমরা এতই আনন্দিত হলাম যে মুসলমান হওয়ার পর এর চেয়ে বেশি আনন্দিত কোনো সময় হইনি। এর পর আনাস (রা.) বলেন, আলহামদু লিল্লাহ! আমি আল্লাহকে, তাঁর রাসুলকে, আবু বকর ও উমর (রা.)-কে ভালোবাসি। আশা করি, আমি তাঁদের সঙ্গেই থাকব। (তাফসিরে কুরতুবি)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ