বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৩৭
সার্কাসের হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, হাতি-মাহুত আটক, জরিমানা বাজেট বইতে উঠে এসেছে মনিকার এখন নিজের থাকার একটা আশ্রয় হয়েছে এটাই শান্তি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চলছে ভোট আর দুই মামলায় জামিন হলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন : মওদুদ মাশরাফিদের ফের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর, সাকিব-লিটনের প্রশংসা সোনার দাম কমছে নওগাঁয় ৯৩৩ কোটি টাকার আম উৎপাদন

ঈদ যাত্রায় সকালের ট্রেন বিকেলে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক;  রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই যাত্রীদের উপস্থিতিতে গমগম করছিল। স্টেশনের মাইকে যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হচ্ছিল : ‘ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি এই রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিল সকাল ৯টা। সেটি ছাড়ে বিকেল সোয়া ৪টায়। রেলের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে খোঁজ নিলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জানা যায়, ট্রেনটি তখন বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে মহেরা স্টেশন অতিক্রম করছিল। তখন পর্যন্ত ট্রেনটির বিলম্ব ছিল সাত ঘণ্টা ২২ মিনিট।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টা বাজার আগে থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষায় ছিল হাজারো যাত্রী। এই ট্রেনে আসন ৬৬২টি। দাঁড়িয়েও ছিল অসংখ্য যাত্রী। ২২ মে আগাম টিকিট কেটেছিল তারা।

আগের রাত থেকেই কাউন্টারে ছিল তাদের বেশির ভাগ। রাত জেগে টিকিট কেটে শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সোয়া ৭ ঘণ্টা।

দুপুর ১টায় ট্রেনের জন্য অপেক্ষারতদের একজন রাইসা রহমান কোলে দুই বছরের শিশু ফাইজাকে নিয়ে পায়চারি করছিলেন। রংপুরের পীরগঞ্জের এই বাসিন্দা বলেন, ‘একে তো গরম, তার ওপর ট্রেনে কখন উঠব তা কেউ বলতে পারছে না।’

সকাল সাড়ে ৯টায় রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বলতে বাধ্য হন, সময়মতো ট্রেন ছাড়তে বিকল্প ট্রেন রাখা হবে।

ঢাকা থেকে উত্তরের জেলাগুলোয় প্রতিদিন ঈদ যাত্রায় চলাচল করছে ১৩টি আন্ত নগর ট্রেন। তার একটি রংপুর এক্সপ্রেস। গতকাল রংপুর এক্সপ্রেসের আগে চিলাহাটির উদ্দেশে নীলসাগর এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট, তারও আগে রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছাড়ে সোয়া দুই ঘণ্টা দেরিতে। ৩৩টি আন্ত নগরসহ বিভিন্ন ধরনের ৫২টি ট্রেন ঈদযাত্রী পরিবহন করে কমলাপুর থেকে। এর মধ্যে ৩০টি ট্রেনই বিলম্বে ছাড়ে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে রেলপথের বড় একটি অংশে ট্রেনকে ধীরে চলতে হয়েছে। ফলে রংপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন কমলাপুরে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুরে ওয়াস ফিটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসতে দেরি হচ্ছে।

অবশ্য রেলমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ছাদে বিপুল যাত্রী উঠলে ট্রেনে স্বাভাবিক গতিতে চালানো যায় না। ফলে দেরি হয়।

দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ১৮টি ট্রেনের আটটিই বিলম্বে ছাড়ে। খুলনার উদ্দেশে সুন্দরবন এক ঘণ্টা ১২ মিনিট, কিশোরগঞ্জমুখী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ১০ মিনিট, সিলেটমুখী জয়ন্তিকা ৩৫ মিনিট, ময়মনসিংহমুখী ঈশা খাঁ দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদযাত্রী পরিবহন পরিস্থিতি দেখতে যান। তিনি ওই সময় পর্যন্ত চারটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার তথ্য স্বীকার করেন। তিনি যাত্রীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে দেরি করেছে রংপুর এক্সপ্রেস। ট্রেনটি আর যাতে দেরি না করে সেজন্য বিকল্প আরেকটি ট্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তখন পর্যন্ত ১৮টির মধ্যে চারটি ট্রেন দেরি করেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মহাসড়কে আগের বছরগুলোর চেয়ে অপেক্ষাকৃত স্বস্তির হচ্ছে ঈদ যাত্রা। ট্রেনে সময়সূচি ভেঙে পড়ায় রেলমন্ত্রী বিব্রত হলেও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য সড়কের অবস্থা নিয়ে বেশ খুশি। গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দুপুরে সড়কমন্ত্রী দাবি করেন, মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়নি, আশঙ্কাও নেই। এবার ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে।

সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে। এ ছাড়া পান্থপথ, মালিবাগ, আরামবাগ, নর্দা, কালশী থেকেও দূরপাল্লার বাসে উঠতে যাত্রীরা ভিড় করে। টার্মিনাল সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীর চাপ আগের দিনের চেয়ে বেশি ছিল। যাত্রীর চাপ সামাল দিতে রিজার্ভ বাস রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকেশ চন্দ্র ঘোষ।

যাত্রীরা অভিযোগ করছে, রাজধানী থেকে বিভিন্ন রুটে সাধারণ বাসে ভাড়া ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত হার মানা হচ্ছে না। তবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া নৈরাজ্য চলছে অভিজাত শ্রেণির এসি বাসে। এ ধরনের বাসে দ্বিগুণ বা তারও বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা গাবতলী বাস টার্মিনালে অভিযোগ করেছে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের কাছেও। জানা গেছে, এসি বাসের ভাড়া সরকার এখনো নির্ধারণ করেনি। ফলে ভাড়ার নির্দিষ্ট তালিকাও নেই। খোদ বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের কাছে গতকাল গাবতলীতে যাত্রীরা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করলে তিনি বাস মালিকদের পক্ষেই অবস্থান নেন। জিআর পরিবহনের বাসে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহ যেতে আগে ভাড়া নেওয়া হতো ৮০০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৩০০ টাকা। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে যাত্রী মোহাম্মদ সাদিক এ অভিযোগ জানান নির্বাহী হাকিমকে। তখন যাত্রীর টিকিট, অভিযোগকারী ও কাউন্টারের ব্যবস্থাপককে সেখানে অবস্থানরত বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের কাছে নিয়ে যান নির্বাহী হাকিম। মশিয়ার রহমান বলেন, ‘এখন কিছু করার নেই। কারণ এসি বাসের ভাড়ার তালিকা বিআরটিএ নির্ধারণ করে না। বাস মালিকরাই নির্ধারণ করে।’

রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা হানিফ খোকন ঢাকা থেকে দর্শনা যাওয়ার জন্য একটি টিকিট কিনতে গতকাল বিকেলে মিরপুর মাজার রোডে রয়েল এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টারে যান। সেখান থেকে আগামী ৪ জুন দর্শনা যাওয়ার জন্য এসি বাসের একটি টিকিট কেনেন ১২০০ টাকায়। অথচ এই টিকিট কয়েক দিন আগেও ছিল ৮০০ টাকা। হানিফ খোকন একজন পরিবহন নেতা। তিনি এসি টিকিট নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড চলছে মন্তব্য করে কালের কণ্ঠকে বলেন, কেউ এসব দেখছে না। সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে যান সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি টার্মিনালে কয়েকটি কাউন্টারেও যান। বাসভাড়ার বিষয়ে কাউন্টারকর্মীদের কাছে জানতে চান।

এ ছাড়া নৌপথেও যাত্রীর চাপ বাড়ছে। সদরঘাটে আগের দিনের চেয়ে গতকাল চাপ বেশি ছিল। টিকিট ছাড়া লঞ্চের ডেকে ওঠার যাত্রী ছিল বেশি।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

Uncategorized,ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ