শুক্রবার-২৪শে মে, ২০১৯ ইং-১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:২৮
কলেজে ভর্তির আবেদন এখনও করেননি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ডোমারে আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল জলঢাকায় সড়কে ধান ও খড় শুকানোর ধুমপরেছে- চলাচলে জনগনের দূর্ভোগ বিপুল জয়ে মোদিকে বিএনপির অভিনন্দন বিপুল জয়ে মোদিকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ২৫ জেলায় চলছে প্রথম ধাপের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে

ইইউভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ

2 years ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয়, এমন বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর করপোরেট কর ৪০ শতাংশ, কিন্তু বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য এ হার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) যেসব দেশ বাংলাদেশে ওষুধ কোম্পানি করেছে, সেসব কোম্পানিকেও মাঝে মাঝে ওষুধ আমদানি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। কিন্তু অধিদপ্তর যথাযথ কারণ ছাড়াই বাতিল করে দিচ্ছে অনুমোদন চাওয়ার আবেদনপত্রগুলো। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত জানাতেও দেরি করছে।

এ রকম ১০টি বিষয়ে সমস্যায় রয়েছে বলে কয়েক বছর আগে থেকেই সরকারকে বলে আসছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। তবে এগুলো সমাধানের জন্য সরকার সম্প্রতি উদারতা দেখাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইইউভুক্ত ২৭ দেশ ও যুক্তরাজ্যের যেসব সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ইইউ বিজনেস কাউন্সিলের আগামী সংলাপে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সমাধান বেরিয়ে আসবে ওখান থেকেই।’ আগামী ৬ আগস্ট অনুষ্ঠেয় সংলাপটিতে ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু।

ইইউভুক্ত ৮ দেশের রাষ্ট্রদূত ও ৫ যৌথ চেম্বার প্রতিনিধির সমন্বয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বাংলাদেশ-ইইউ বিজনেস কাউন্সিল। কাউন্সিল গঠনের পর ২০১৬ সালের মে ও ডিসেম্বরে দুই দফা কাউন্সিলের ‘বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশ সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। আগের দুই সংলাপে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য সহজীকরণ, সেবা খাতে নিবন্ধন ও বিনিয়োগ, বিদেশিদের অর্থ পাঠানোর ওপর কর, করবিধির জটিলতা, অস্পষ্টতা ইত্যাদি ছিল আলোচ্য বিষয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই সংলাপের পর বাংলাদেশে কোম্পানি থাকা ইইউভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসায় ও বিনিয়োগের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে পাঁচটি কার্যদল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠন করা হয়েছে। দলগুলো এরই মধ্যে সমস্যা চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধানের পথও তৈরি করেছে।

সরকারের কোন দপ্তর কোন সমস্যার সমাধান করবে তাও ঠিক করেছে কার্যদলগুলো। বেশির ভাগ সমস্যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত।

দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয়ের ৫৫ শতাংশ ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আসে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে দেশগুলো থেকে আমদানি করেছে ২৪৫ কোটি ডলারের পণ্য।

কোন সমস্যার কী সমাধান

বাংলাদেশে পরিচালিত বহুজাতিক বা ইইউভুক্ত দেশগুলোর ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কখনো কম আমদানি করতে বলে, কখনোবা কারণ ছাড়াই আবেদনপত্রগুলো বাতিল করে দেয়। এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতি কার্যদলের সুপারিশ হচ্ছে কোনো কারণে বাতিল করতে হলে বা সিদ্ধান্ত জানাতে দেরি হলেও আবেদনকারীকে তার কারণগুলো জানিয়ে দেওয়া।

দেশি-বিদেশি সব ব্যাংকের জন্যই করপোরেট কর হার একই রকম করতে কার্যদল বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআরের উদ্দেশে সুপারিশ করেছে।

 বিদ্যমান শুল্ক আইন অনুযায়ী, ১ হাজার টাকা মূল্য পর্যন্ত পণ্যের শুল্ক লাগে না। কিন্তু স্থানীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষগুলো নিয়মটি মানে না। বিশ্ব শুল্ক সংস্থার (ডব্লিউসিও) সুপারিশ বিবেচনায় ৪ হাজার টাকা মূল্য পর্যন্ত পণ্যের শুল্ক না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কার্যদল বলেছে, শুল্ক কর্তৃপক্ষগুলোকে এ ব্যাপারে নির্দেশ জারি করতে পারে এনবিআর।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হলেও মূলধনি যন্ত্রপাতির স্পেয়ার পার্টস আমদানির শুল্ক বেশি বলে সরকারকে জানায় ইইউভুক্ত দেশগুলো। সমাধান হিসেবে বলা হয়েছে, এনবিআর এ বিষয়ে স্পষ্টতা আনবে এবং স্পেয়ার পার্টসকে মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো করে বিবেচনা করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলবে।

ইইউভুক্ত দেশগুলো বলছে, বাংলাদেশের ন্যূনতম শুল্ক মূল্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুল্ক কর্তৃপক্ষগুলো এশীয় অন্য দেশগুলোর পণ্যের শুল্কায়ন মূল্যের (অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু) তুলনায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর পণ্যের শুল্কায়ন মূল্যেও বৈষম্য করে। এর সমাধান হিসেবে এনবিআরকে সব দেশের পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য একই রকম করার সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের লেনদেনের (আগের বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে) ৬ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পূর্বানুমোদন ছাড়াই নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পাঠাতে গেলেই বিডার অনুমোদন লাগছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিডাকে যৌথভাবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কার্যদল।

এ ছাড়া শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন ফ্রেট-ফরোয়ার্ডিং কোম্পানির লাইসেন্স পাওয়ার অনিশ্চয়তা, ফ্রেট-ফরোয়ার্ডিং কোম্পানির মালিকানার অংশ নিয়ে এনবিআর ও বিডার সাংঘর্ষিক অবস্থা, বড় করদাতাদের জন্য বড় করদাতা ইউনিট (এলসিইউ) থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের করদাতাদের জন্য সে রকম কিছু না থাকায় বিভ্রান্তির মধ্যে থাকতে হয় বলে জানায় ইইউ। এসব ব্যাপারেও সমাধানের পথ দেখানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ