- মুক্তিনিউজ24.কম, সত্যের সাথে সারাক্ষণ - https://www.muktinews24.com -

আশ্বাসেও হোঁচট পুঁজিবাজারে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: নতুন সরকারের আশ্বাস ও আগামী অর্থবছরে বাজেটে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে আশাবাদ থাকলেও ‘আস্থাহীনতায়’ ক্রমেই তলানিতে নেমেছে পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীর একটি বড় অংশ নিষ্ক্রিয় থাকায় বাজারের পতন আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। শেয়ারের জোগান বাড়লেও ক্রেতা কম থাকায় পুঁজিবাজারের নিম্নমুখিতা বাড়ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ভরসা রাখতে বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনও পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নানামুখী সংস্কার নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার প্রাক-বাজেট আলোচনার স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য উল্টো হয় এমন কিছু করবেন না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফর হোসেন ভূঁইয়া। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) একগুচ্ছ প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি এই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্যসংকটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর শেয়ার কেনার সক্ষমতাও কম। পুঁজিবাজার সহায়তায় রাষ্ট্রায়াত্ত আইসিবির হাতেও পর্যাপ্ত টাকা নেই। কারণ তারা পুঁজিবাজারের শেয়ার বিক্রি করে পদ্মা ব্যাংকে (সাবেক ফারমার্স) বিনিয়োগ করেছে। এ জন্য নতুন করে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকার মূলধন চেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করায় হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে ওঠে পুঁজিবাজার। ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার দৈনিক লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমানো ও এডিআর সমন্বয় সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরবর্তী সময়ে এডিআর সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হলেও ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফেরেনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পুঁজিবাজারে বড় বড় বিনিয়োগকারীর কাছে অসহায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বাজারে বড় বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কমে গেছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ছোট ছোট বিনিয়োগের শেয়ার কেনাবেচা করছে। আগামী বাজেটে দাবিদাওয়া আদায়েও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর একটি অংশ শেয়ার কেনা থেকে বিরত রয়েছে বলেও জানায় ওই সূত্র। তাদের লক্ষ্য, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দাবি আদায় করা।

সূত্র বলছে, পুঁজিবাজারে ক্রমাগত নিম্নমুখী গতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ছোট বিনিয়োগকারীরা। কারণ তারা কম্পানির তথ্য পর্যালোচনা ছাড়াই বড় বিনিয়োগকারীকে অনুসরণ করে বিনিয়োগ করে। বড় বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিমভাবে শেয়ার কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে সটকে গেলেও আটকা পড়ে ক্ষুদ্ররা। ক্রমাগত নিম্নমুখী প্রবণতায় সবাই বিক্রি করায় শেয়ার দাম কমেই চলেছে।

মতিঝিলে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। হাতে গোনা কিছু বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনাবেচা করছে। ঊর্ধ্বমুখিতার সময় জমজমাট ব্রোকারেজ হাউসে এখন অনেকটাই খরা। কেনার চেয়ে বিনিয়োগকারীর বিক্রি বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বড় বড় বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ একদমই কমে গেছে। কম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তারা বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন, আবার কেউ কেউ দাম কমলে শেয়ার কিনবেন—এমন আশায় বসে আছেন। এক হাজার কোটি টাকার দৈনিক লেনদেন এখন তিন-চার শ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, এমন অবস্থা কোনোমতেই মানা যায় না। ছোট ছোট বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও অবিবেচক আচরণ করছে।’

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, কিন্তু ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে বাজার। এতে কারসাজি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পুঁজিবাজারকে ফেলে দিচ্ছে, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। অনেকের পুঁজি হারানোর দশা।

গতকালের বাজার : সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় দরপতন হয়েছে। ডিএসইর সূচক ১.২৬ শতাংশ বা ৭০ পয়েন্ট কমেছে। যদিও আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় দরপতন ঘটেছে। তবে লেনদেনে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। শতাধিক পয়েন্ট সূচক কমলেও লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে।

গতকাল বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৬৯.৯৭ পয়েন্ট। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ১১৮ পয়েন্ট।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন